Home মতামত বৈশ্বিক ক্রান্তিকালে আর ধর্মান্ধতা দলান্ধতা নয়

বৈশ্বিক ক্রান্তিকালে আর ধর্মান্ধতা দলান্ধতা নয়

সাবিনা শারমিন ::

ওয়াজী হুজুর মুফতী মোহম্মদ নোমান কাসেমী চিল্লাইয়া গলা, ফাটাইয়া, রগ ফুলাইয়া বলতেসেন, ‘ক্বাবা শরীফের তাওয়াফ বন্ধ হইতে পারে, নামাজ বন্ধ হইতে পারে, আমাদের দেখার সময় নাই, আরব আমিরাতের মসজিদে নামাজ বন্ধ হইতে পারে, আমাদের দেখার সময় নাই, কুয়েতের মসজিদে নামাজ বন্ধ হইতে পারে, আমাদের দেখার সময় নাই। আল্লাহর কসম লাগে, বাংলাদেশের কোন মসজিদে নামাজ বন্ধ হতে পারবেনা, পারবেনা, পারবেনা।।” এই লোকের ওয়াজের সাথে সাথে হাজার হাজার লোক আল্লাহু আকবর বলে তারাও শোরগোলে চিৎকার করতেসে। হ্যাঁ, এটিই আমাদের দেশ। এখানে এমন দৃশ্য এই করোনা প্রাদুর্ভাবের দুর্যোগে কতোটা ভয়ংকর আকার ধারণ করতে পারে, তা ওরা বুঝতে পারলে হয়তো নিজ থেকেই বন্ধ করে দিতো।

ভেবে দেখার বিষয়, এদের শিক্ষার দৌড় কতোটুকু যা দিয়ে তারা শাণিত হবে, সতর্কতার বোধোদয় হবে ?

শিক্ষিত এবং সমাজের উচ্চপদস্থ অনেকেই এদের কথা বিশ্বাস না করেও হালকা ভাবে মেনে নেয়। কারণ বাংলাদেশে ৯০% মুসলমানের দেশ। সেকারণে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়াতে এসকল স্বল্প শিক্ষিত অতি আবেগী কথাবার্তা দিয়ে ওরা না হয় তাদের জীবন চালায়, কিন্তু করোনা ভাইরাসের এই বিশ্বব্যাপী ক্রান্তিকালে, এই জীবন বিধ্বংসী সময়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কাদের নেয়ার কথা?

একবার একটু ভাবেনতো এই অবুঝ লোকগুলোকে বোঝানোর,সতর্ক করার,প্রশিক্ষণ দেয়ার কাদের দায়িত্ব কাদের ছিলো? করোনার প্রাদুর্ভাব শেষ হয়ে গেলেও বাংলাদেশের সুস্থ্য স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে এদের প্রশিক্ষিত এবং শিক্ষিত করে গড়ে তোলা আমাদের দেশেরই দায়িত্ব।কারণ এরাও একদিন আমাদের মূল্যবান জনশক্তিতে রুপান্তরিত হতে পারে।যদি সেভাবে আমরা তাদের গড়ে তুলতে পারি।

ইতালী ফেরত রেমিট্যান্স যোদ্ধা দাবী করা লোকটি যখন বলতেসিলো, ”আমরা শূয়র খাইনা,আমাদের করোনা হয়না।ফাকিং দিস কান্ট্রি সিস্টেম”, তখন এয়ারপোর্টে ওদের কথা শোনার এবং তাদের কাউন্সেলিং/ ব্রিফিং করার দায় কাদের ছিলো?কোন দায়িত্ব প্রাপ্ত শাহাজাদা কি তাদের গাইড করার জন্য ছিলো?তাহ’লে তাদেরকে কেন দেশে আনা হইলো যদি সুরক্ষা না দিতে পারে? নবাবজাদা না হয় ওরা নয়,কিন্তু সঠিক গাইড লাইন/সতর্কতা দেয়ার মতো কোন লোক কি দায়িত্বরত ছিলো?

আজ জানলাম, সিইসি কে এম নুরুল হুদাও আল্লাহর শপথ নিয়া নির্বাচন না পেছানোর পেছানোর গো ধরেছেন। আচ্ছা,যেখানে সারা বিশ্ব জরুরী অবস্থায় লকডাউন হয়ে আছে সেখানে তিনি কাদের দেয়া ভোট চাইছেন?কারা ভোট দিতে যাবেন এ সময়?ভোটতো জনগণের ইচ্ছা। সেখানে এরকম বায়না ধরে সাধারণ মানুষের জীবন হুমকীর মধ্যে ফেলায় দায়তো তাহলে তাকেই নিতে হবে তাইনা?

ওয়াজী হুজুরেরা, রেমিটেন্স যোদ্ধারা না হয় স্বল্প শিক্ষিত,কিন্তু পদের দায়িত্ব পাওয়া এই লোক গুলো এতো দায়িত্বহীন কেনো? বলি কি,
এখনো কিন্তু সময় আছে বোঝাপড়ার। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কিন্তু আঞ্চলিক নয়। এটি বৈশ্বিক ক্রাইসিস। প্রয়োজনে উন্নত বিশ্বকে অনুসরণ করুন। একগুঁয়েমি ছাড়ুন । ধর্মান্ধতা,দলান্ধতা,পদ বাঁচানোর স্বার্থপরতা এসব ছেড়ে আগে মানুষের জীবন বাঁচানোর চিন্তা আগে করুন। কারণ মানুষই যদি না বাঁচে, তাহলে আপনি পদে বসবেন কিভাবে?

লেখক : সাবেক ব্যবস্থাপক, বিমান এবং সোশাল এক্টিভিস্ট
[email protected] (ফেইসবুক থেকে নেওয়া)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ

করোনা আক্রান্ত দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশে, ঘরে থাকার বিকল্প নেই

অধিকার ডেস্ক:: দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে আক্রান্তের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এ নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।...

করোনা আতঙ্কে এগিয়ে আসেনি কেউ, বাবার লাশ কাঁধে নিল চার কন্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: করোনা ঠেকাতে ভারতজুড়ে চলছে লকডাউন। প্রতি মুহূর্তে বলা হচ্ছে, বাঁচতে হলে একমাত্র অস্ত্র সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। আর সেই সামাজিক...

মৌলভীবাজারে মৃত ব্যক্তির করোনা শনাক্ত, গ্রাম লকডাউ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের রাজনগরে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন এই তথ্যের...

করোনার সময়ে একদিনে ব্যাংকে এলেন আড়াই হাজার গ্রাহক

অধিকার ডেস্ক:: টাঙ্গাইলের ব্যাংকগুলোতেও ব্যাপক জনসমাগম। সামাজিক দূরত্বের ধার ধারছে না তারা। রোববার সকাল থেকে এমন চিত্র দেখা গেছে সোনালী ব্যাংক টাঙ্গাইল...