শনিবার, মে ৮
শীর্ষ সংবাদ

বেগুনের কেজি ৫ টাকা, দুধের লিটার ২০ টাকা

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: বগুড়ায় সবজি ও দুধ নিয়ে বিপাকে কৃষকরা। এ দুটি পণ্য সংরক্ষণ করা যায় না। করোনার কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটির পাশাপাশি গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও শহরে ক্রেতা নেই। এ কারণে ট্রাক চলাচলও সীমিত হয়ে গেছে। যথাসময়ে পরিবহন না করায় সবজি জমিতেই পচছে; দুধ বিক্রি করতে না পারায় তা নষ্ট হচ্ছে।

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম সবজি চাষাবাদের জেলা বগুড়া। এখান থেকে প্রতিদিন ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজি নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সীমিত ট্রাক চলাচল করায় গত এক সপ্তাহ থেকে সবজি বাজারজাত কমে গেছে। এ ছাড়া স্থানীয় হাটবাজারে জনসমাগম কমে যাওয়ায় সেখানেও শাকসবজি বিক্রি কমে গেছে। জেলার মহাস্থানহাট থেকে প্রতিদিন গড়ে ২০ ট্রাক শাকসবজি যায় ঢাকার কারওয়ান বাজারে। এখন যাচ্ছে মাত্র চার-পাঁচটি ট্রাক।

মহাস্থান এলাকার কৃষক আবদুল জলিল জানান, তিনি তিন বিঘা জমিতে শাকসবজির আবাদ করেছেন। প্রতিদিন এগুলো জমি থেকে তুলে মহাস্থানহাটে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। মাঝেমধ্যে বিকেলে স্থানীয় হাটবাজারে নিয়ে যান। গত এক সপ্তাহ থেকে ক্রেতা না পাওয়ায় সবজি জমি থেকেই তুলছেন না। ফলে জমিতেই পচে যাচ্ছে এগুলো।

তিনি আরও জানান, বেগুনের কেজি আগে ছিল ৪০ টাকা, এখন পাঁচ টাকা দরেও ক্রেতা মিলছে না।

বগুড়া কৃষি বিভাগের উপপরিচালক আবুল কাশেম আযাদ কৃষকের দুরবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে পরিবহন সীমিত আকারে চলায় এবং হাটবাজারে মানুষের সমাগম কমে যাওয়ায় শাকসবজির দাম কমে গেছে।

এদিকে, দুধ নিয়ে গরুর ক্ষুদ্র খামারিরা পড়েছেন বিপাকে। দুধ বিক্রি করেই যাদের সংসার চলে, তারা সবচেয়ে বেশি দুরবস্থায় পড়েছেন। সদরের সাবগ্রাম এলাকার বিধবা রোমেনা বেগম জানান, তার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে দুই সন্তানকে নিয়ে তিনিই সংসারের হাল ধরেছেন। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দুটি গাভি কেনেন। গাভি দুটি দৈনিক গড়ে সাত কেজি দুধ দেয়। সকালের দুধ পাইকারের কাছে এবং বিকেলের দুধ বাজারে বিক্রি করেন। এক সপ্তাহ ধরে পাইকারও আসছে না, বিকেলে বাজারে দুধের ক্রেতাও মিলছে না।

জেলার একমাত্র সরকারিভাবে দুধ ক্রয়কেন্দ্র গাবতলী মিল্ক ভিটায় দৈনিক পাঁচ হাজার লিটার দুধ কেনা হয়। সেখানেও এক সপ্তাহ হলো দুধ ক্রয় বন্ধ রয়েছে। মিল্ক ভিটায় দুধ বিক্রেতা গাবতলী উপজেলার আখন্দপাড়ার নিবারণ ঘোষ জানান, তিনিসহ তার গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই গাভি পালন করেন। তারা দুধ বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। এক সপ্তাহ থেকে মিল্ক ভিটা দুধ না কেনায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। শহরের বাসাবাড়িতে ২০ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে।

গাবতলী মিল্ক ভিটার তত্ত্বাবধায়ক বিপ্লব চন্দ্র অধিকারী বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে জেলার সারিয়ান্দি, গাবতলী, ধুনট, শাজাহানপুর ও বগুড়া সদরের গাভিপালকরা দুধ প্রদান করেন। প্রতি লিটার দুধ কেনা হয় পরিবহন খরচসহ ৫৩ টাকা ৭৫ পয়সা দরে। এখানে প্রতিদিন পাঁচ হাজার লিটার দুধ কেনা হয়। গত এক সপ্তাহ থেকে দুধ কেনা বন্ধ রয়েছে।


এখানে শেয়ার বোতাম