রবিবার, মার্চ ৭
শীর্ষ সংবাদ

‘বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধে ভিন্নমত দমনের পথকে প্রশস্ত করবে’

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক ::  সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার এক যৌথ বিবৃতিতে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতির উপর নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সারাদেশের ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ ও আন্দোলনরত। এ নৃশংস ঘটনায় সারাদেশের বিবেকবান মানুষ স্তম্ভিত। এই হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আবারো প্রকাশ্যে এসেছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ ও আবাসিক হলগুলো ছাত্রলীগ দখলে নেয়। একচ্ছত্র ক্ষমতা চর্চার অংশ হিসেবে চলে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মাদকব্যবসা। চলে ভিন্নমত ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনসমূহের উপর অত্যাচার-নিপীড়ন।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গুলোতে প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া একজন ছাত্রকে বাধ্যতামূলকভাবে ছাত্রলীগের মাধ্যমে হলে উঠতে হয়। একটি ছোট রুমে ২৫-৩০ জনকে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। এসকল ছাত্রকে মানসিক-শারিরীক নির্যাতনের মধ্য বাধ্য করা হয় ছাত্রলীগের মিছিলে যেতে। আর এ অত্যাচার চলে হলের গেস্টরুমে বা টর্চার সেলে। এ প্রক্রিয়ায় ক্যাম্পাসে ভিন্নমত দমন করা হয়। ভারতের সাথে সম্প্রতি বাংলাদেশের সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি নিয়ে আবরার ফাহাদ সমালোচনা করায় তাই নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার।

বিবৃতিতে তারা বলেন, শুধু আবরার ফাহাদ হত্যাই নয়। সারাদেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই ছাত্রলীগের দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাস চলছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। কিন্তু দিনের পর দিন প্রশাসন এই সব নির্যাতনের ঘটনা উপেক্ষা করে গেছে। গেস্টরুম-গণরুমের অত্যাচার বন্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বরং বিভিন্ন সময় আমরা ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহযোগী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখেছি। প্রশাসন ও শিক্ষকদের একটা বিরাট অংশ ক্ষমতাসীন দলের কাছে আত্মসমর্পণ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ভুলুণ্ঠিত হয়েছে। আর সুযোগে ক্ষমতাসীন দলগুলো তাদের জবরদস্তির শাসনব্যবস্থাকে নিষ্কণ্টক রাখতে ছাত্রসংগঠনকে একটা লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে তৈরি করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেকোনো আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে। তাই ক্ষমতাসীন সংগঠন হয়ে উঠেছে বেপরোয়া। একের পর এক বিভিন্ন ক্যাম্পাসে দমন-পীড়ন, হত্যা-খুনের সাথে জড়িত হয়েছে। কিন্তু ১৯৭৪ সালের পর দেশের প্রধান ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫১টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলেও একটিরও বিচার হয়নি। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থারই চিত্র।

বিবৃতি তারা আরো বলেন, ছাত্রলীগের এহেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে একদল শিক্ষার্থী ছাত্র রাজনীতি ভেবে ভুল করছেন। তাই তারা মনে করছেন ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হলেই বুঝি সন্ত্রাস বন্ধ হবে। কিন্তু যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইনত ছাত্ররাজনীতি বন্ধ সেখানে কি ছাত্রলীগের দাপট-দৌরাত্ম-সন্ত্রাস নেই? বাস্তবে ছাত্রলীগের কর্মকান্ড ছাত্র রাজনীতি নয়। ছাত্ররাজনীতির নামে অপরাজনীতি। বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শহীন দেউলিয়াপনার অংশ এই একটি ধারা। ছাত্র রাজনীতির আরেকটি ধারা আদর্শবাদী। যারা শক্তিতে সংখ্যায় কম হলেও অতীত দিনের ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ধারার উত্তরাধিকার বহন করে এখনও শিক্ষার অধিকার রক্ষা ও দেশের গণমানুষের আকাঙ্খাকে ধারণ করে। তাই গোটা দেশের রাজনীতি যেখানে দুবৃত্তায়িত, ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে পতিত দেশ সেখানে বিচ্ছিন্নভাবে ছাত্ররাজনীতি পরিশুদ্ধ হবে না। বরং এই রাজনীতিকে পরিশুদ্ধকে ছাত্ররাজনীতি আদর্শবাদী ধারাকে শক্তিশালী করতে হবে।


এখানে শেয়ার বোতাম