রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮
শীর্ষ সংবাদ

‘বুর্জোয়া ব্যবস্থার পরিবর্তণে চাই শ্রমিকশ্রেণির ঐক্যবদ্ধ লড়াই’

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 14
    Shares

শ্রমিক ফ্রন্ট এর ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতৃবৃন্দ

অধিকার ডেস্ক:: স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীর বছরে একদল লুটপাটকারী অবস্থান সম্পদের পাহাড়ের চূড়ায় আর সম্পদ সৃষ্টিকারী শ্রমিকশ্রেণি খাদের তলানীতে মন্তব্য করে শ্রমিক ফ্রন্টে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এ অবস্থা পরিবর্তণে চাই শ্রমিকশ্রেণির ঐক্যবদ্ধ লড়াই।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টে ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১ বিকোল ৪টায় সেগুনবাগিচাস্থ স্বাধীনতা হলে এক আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ এই মন্তব্য করেন।

ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্রমিকনেতা রাজেকুজ্জামান রতনের সভাপিতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, এ ছাড়াও শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদের নেতা সাইফুজ্জামান বাদশা, চৌধুরী আশিকুল আলম, শ্রমিক ফ্রন্টের ওসমান আলী, জুলফিকার আলী, আবু নাঈম খান বিপ্লব, সেলিম মাহমুদ ও রতন মিয়া, সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন।

কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, এ বছর স্বাধীনতার ৫০ বছর, অর্থাৎ রজতজয়ন্তী উদ্যাপীত হতে চলছে। ৩০ লাখ শহিদের জীবনের বিনিময় ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে। যুদ্ধে জীবন দিয়েছে শ্রমিক-কৃষক, যুকক-ছাত্রসহ আপামর সাধারণ নাগরিক। স্বাধীনতা সংগ্রামে দেশের সবার প্রত্যাশা একরকম ছিল না। জনগণ চেয়েছিল সার্বিক মুক্তি আর উঠতি বুর্জোয়ারা চেয়েছিল তাদের পুঁজির স্বাধীন বিকাশ ভূমি। এ জন্য জনগণ দেশ স্বাধীন করেছে। বুর্জোয়া ক্ষমতায় অসীন হওয়ার কারণে শ্রমিকের মুক্তি অর্জিত হয়নি। জনগণের সাম্যের বদলে পুঁজিপতি শ্রেণির বিকাশের পথ তারা উন্মুক্ত করে দিয়েছে। যার কারণে স্বাধীনতার ৫০ পর দেশের হাল দাঁড়িয়েছে একদল লুটপাটকারী এখন অবস্থান করছে সম্পদের পাহাড়ের চূড়ায় আর সম্পদ সৃষ্টিকারী মেহনতী শ্রমিকশ্রেণির অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার মান নামতে নামতে এখন তাদের অবস্থান খাদের তলানীতে। এব্যবস্থা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এর পরিবর্তণে চাই শ্রমিকশ্রেণির ঐক্যবদ্ধ ধারাবাহিক লড়াই।

সভায় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীর শ্রমিকশ্রেণি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। একদিকে পুঁজিবাদী শোষণ অন্যদিকে করোনা মহামারির আক্রমণ শ্রমজীবীদের জীবনের যন্ত্রণা বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। করোনায় শ্রমিক হারিয়েছে কাজ, যাদের কাজ আছে তাদের মজুরি কমিয়ে দিয়েছে। শ্রমিকের শ্রমের দাম কমলেও খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসার খরচসহ শ্রমিক যা ব্যবহার করে সব কিছুর দাম বেড়েছে। কিন্তু মালিকদের প্রতি সরকারের সহায়তা, প্রণোদনা ও সুবিধা সবই বেড়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশের ৬ কোটি ৩৫ লাখ শ্রমিক কৃষি, শিল্প, সেবা খাতে কাজ করে। তাই মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৬ ডলার। তাহলে ৫ সদস্যের একজনের পরিবারের মাসিক আয় হওয়ার কথা ৭১ হাজার ৬০০ টাকারও বেশি। কিন্তু কোন শ্রমিক কি মাসে এই পরিমাণ টাকা আয় করতে পারে? গার্মেন্টস, চা, রি-রোলিং, তাঁত, পাটকল, পরিবহণ, হকার, রিকশা, দোকান কর্মচারীসহ বাংলাদেশের সকল সেক্টরের শ্রমিকদের মজুরি পৃথিবীর সব দেশের মধ্যে কম। অথচ এই দেশে মালিকদের বাড়ি-গাড়ি, ব্যাংকের টাকা, বিদেশে টাকা পাচার সবই বাড়ছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশের মাত্র ৪ শতাংশ শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাথে যুক্ত। অসংগঠিত শ্রমিক অসহায়। তাই ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও গণতান্ত্রিক শ্রম আইনের জন্য শ্রমিকরা আন্দোলন করছে দীর্ঘদিন থেকে। ২০০৬ সালে প্রবর্তিত এবং ২০১৩ ও ২০১৮ সালে সংশোধিত শ্রম আইনের ১৭৯ ও ১৮০ ধারার মাধ্যমে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার সংকুচিত করা হয়েছে। যারা অসংগঠিত খাতে কাজ করে যেমন : হালকা যানবাহন, রিকশা, ব্যাটারি চালিত রিকশা, ইজিবাইক, পরিবহন, মোটর মেকানিক, তাঁত, বিড়ি, জরি, পাদুকা, হকার, দিনমজুর তাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। তাদের জন্য শ্রম আইনে সুরক্ষা বলতে কিছু নেই। পাটকল চিনিকলসহ রাষ্ট্রীয় কারখানা বন্ধ করে দিয়ে হাজার হাজার শ্রমিককে পথে বসিয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদা পাওয়ার দাবি মালিকরা মেনে নেবে না। ফলে মজুরির সাথে আবাসন, রেশন, চিকিৎসা, শিক্ষার অধিকারের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ লড়াই শক্তিশালী করতে শ্রমিক আন্দোলনে বিপ্লবী ধারা সৃষ্টির প্রতিজ্ঞা নিয়ে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত শ্রমিকদের প্রতিটি সমস্যায় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সংগ্রাম করছে। শ্রমিকদের উপর জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে সমস্ত ধরণের শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছে। নেতৃবৃন্দ শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারের আন্দোলনকে পুঁজিবাদী সমাজ পাল্টানোর আন্দোলনে পরিণত করার জন্য সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 14
    Shares