বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩

বুর্জোয়া নেতৃত্বের হাতে মুক্তিযুদ্ধ নিরাপদ নয়-কমরেড সেলিম

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, লুটেরা বুর্জোয়া দলগুলো মুক্তিযুদ্ধের পথ পরিত্যাগ করে দেশ চালাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বিপরীত ধারায়। কিন্তু পাকিস্তানের ‘বাজার অর্থনীতির পথ নাকচ করেই, সমাজতন্ত্র অভিমুখে গণতন্ত্র ও প্রগতির সংগ্রাম জোরদার করে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। ৩০ লাখ শহিদের রক্তে মুক্তিযুদ্ধের যে পথ নির্মিত হয়েছিল, বুর্জোয়ারা সেই পথ পরিত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বুর্জোয়া নেতৃত্বের হাতে মুক্তিযুদ্ধ নিরাপদ নয়।

বিজয়ের মাসের প্রথমদিনে রোববার (১ ডিসেম্বর) পুরানা পল্টন মোড়ে অনুষ্ঠিত পতাকা মিছিল-পূর্ব সমাবেশে কমরেড সেলিম এসব কথা বলেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন। সমাবেশে সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা কমিটির অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

কমরেড সেলিম আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ও আকাঙ্খা বাস্তবায়িত হওয়া দূরে থাক, দেশ এখন চলছে মুক্তিযুদ্ধের বিপরীত পথে। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ তথা মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি এখন ভূলুণ্ঠিত। বামপন্থী-কমিউনিস্টরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে যেতে দেবে না। লুটেরা বুর্জোয়া শক্তি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেও, সিপিবি মুক্তিযুদ্ধের পতাকা নিয়েই অগ্রসর হবে। সিপিবি মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ও আকাঙ্খার সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াইকে অগ্রসর করবে।

সিপিবির সভাপতি আরও বলেন, ‘নৈশকালীন ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা নিশ্চিত করে বর্তমান সরকার ভোটাধিকারসহ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে সরকার নতি স্বীকার করেছে। সরকারের মদদে সর্বস্তরে সাম্প্রদায়িকতা বেড়েই চলেছে। দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ায় জনগণ দিশেহারা। লুটপাট, বৈষম্য, নৈরাজ্য বেড়েই চলেছে। এই অবস্থা বদলাতে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। দুঃশাসন হটাতে, জনজীবনের দাবিতে সিপিবি রাজপথে লড়াই করছে।

কমরেড সেলিম কমরেড মনজুরুল আহসান খানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা-কর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানান।

সমাবেশে কমরেড শাহ আলম বলেন, বর্তমান দুঃসহ ও বিপজ্জনক অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন হটানোর আন্দোলনকে তীব্র করতে হবে। একইসঙ্গে দ্বি-দলীয় গণবিরোধী দেউলিয়া রাজনীতির বিপরীতে বিকল্প রাজনীতির উত্থান ঘটাতে হবে। গদি, নীতি, ব্যবস্থা বদলাতে হবে। গণতন্ত্রহীনতা, লুটপাটতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতা,সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই গড়ে তুলতে হবে।

সমাবেশ শেষে জাতীয় পতাকা ও কাস্তে-হাতুড়ি খচিত লাল পতাকা নিয়ে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় অফিস মুক্তিভবনে এসে শেষ হয়। ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে সিপিবি আজ পতাকা মিছিল করেছে।


এখানে শেয়ার বোতাম