বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২১

বিয়ের ৫৪ দিনের মাথায় লাশ হলো তামান্না

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 24
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: মাত্র ৫৪ দিন আগে বিয়ে হয়েছিল আল মামুন (৩০) ও তামান্না বেগমের (১৯)। বরিশালের ছেলে মামুনের সঙ্গে তারা আগে থেকেই চেনাজানা ছিল। পরে পারিবারিক আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর সিলেট নগরীর কাজীটুলার বাসায় সংসার শুরু করেন মামুন-তামান্না দম্পতি। বিয়ের কয়েক দিন আগেই এই বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন মামুন। কিন্তু বিয়ের পর হাতের মেহেদির রং মোছার আগেই চিরতরে চলে গেছেন তামান্না।

সোমবার বিকেলে তালাবদ্ধ বাসা থেকে তামান্না বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আর আল মামুনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

লাশ উদ্ধারকারী পুলিশ কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই আবদুল মান্নান জানান, বাসাটি তালাবদ্ধ থাকায় সন্দেহবশত বাসার মালিক পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ গিয়ে তালা ভেঙে একটি কক্ষ থেকে তামান্নার লাশ উদ্ধার করেছে।

তিনি জানান, তামান্নার লাশ বিছানায় পড়েছিল। লাশের পাশে ছিল অর্ধেক খাওয়া একটি কেক। তামান্নার গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলার আঘাত দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

এসআই মান্নান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য তামান্নার লাশ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিহত তামান্না বেগম সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বলদি গ্রামের ফয়জুর রহমানের মেয়ে। তামান্নার স্বামী আল মামুন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার হোগলারচর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিয়া তামান্না বেগমের স্বজনদের উদ্ধৃত করে জানান, আল মামুন সিলেট নগরীর আল মারজান শপিং কমপ্লেক্সে কাপড়ের ব্যবসা করেন। ঐশী ফেব্রিকস নামে তার একটি দোকান রয়েছে। হয়তো কেনাকাটা করতে গিয়েই আল মামুনের সঙ্গে তামান্নার পরিচয় হয়েছিল। এরপর বিয়ের আলোচনা শুরু হলে তামান্নার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এই বিয়েতে প্রথমে রাজি হননি। তবে শেষ পর্যন্ত পারিবারিক আয়োজনেই গত ৩০ সেপ্টেম্বর তামান্না ও মামুনের বিয়ে হয়।

ওসি আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে গত রবিবার রাতের কোন একসময় তামান্নাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন স্বামী আল মামুন। লাশ উদ্ধারের পর থেকে মামুনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তামান্নার খালাতো ভাই জানান, রবিবার রাত ৯টার দিকে মায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে সর্বশেষ কথা বলেছেন তামান্না। তখন অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি। কিন্তু সোমবার সকাল থেকেই তামান্না ও তার স্বামীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর খবর পেয়ে আত্মীয়-স্বজনরা এসে বিছানায় তামান্নার লাশ দেখতে পান।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 24
    Shares