মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১

বিশ্ব ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 11
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: বিশ্ব ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন(WFTU) বাংলাদেশ কমিটির উদ্যোগে বিশ্ব ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন এর ৭৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আজ ৩ অক্টোবর বিকাল ৪ টায় পল্টনস্থ ফেনী সমিতি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন WFTU বাংলাদেশ কমিটির অন্যতম নেতা জাতীয় শ্রমিক জোট সভাপতি মেজবাহউদ্দিন আহমেদ।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর ঘোষনা পত্র পাঠ করেন বাংলাদেশ কমিটির সমন্বয়ক জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরুল আহসান, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি বর্ষীয়ান শ্রমিক নেতা কমরেড শহীদউল্লাহ চৌধুরি, জাতীয় শ্রমিক জোট এর কার্যকরি সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি ইউনিয়ন এর মহাসচিব নোমান আল মাহমুদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশ এর যুগ্ম সম্পাদক ও ব্যাংক এমপ্লয়ীজ ফেডারেশন এর সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের দপ্তর সম্পাদক ও নারি কমিটির সম্পাদক সাইদা পারভীন শিখা।

আলোচনা সভা পরিচালনা করেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট এর সাধারন সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল।

আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থায় শ্রমিক শ্রেনী যে নিপীড়নের শিকার তা আরো তীব্ররুপ লাভ করেছে করোনামহামারিতে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সংকুচিত হয়েছে, বেকারত্ব বেড়েছে ভয়াবহভাবে, শ্রমজীবীদের অর্থনৈতিক দুর্দশা বেড়েছে বহুগুণ । কিন্তু পুজিবাদী শোষণের ফলে কর্পোরেট পুঁজির মুনাফাও বেড়েছে বিপুলভাবে। ফলে বিশ্বব্যাপী করোনা বৈষম্য বাড়িয়ে দিয়েছে । মজুরী, চাকুরীর নিশ্চয়তা সহ শ্রম আইনে শ্রমিকদের যে সুরক্ষা দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল তা আবার কেড়ে নেয়ার পায়তারা চলছে বিশ্বব্যাপী। গোটা পৃথীবী এখন পুঁজিবাদী আগ্রাসনের শিকার। বহুজাতিক কর্পোরেশনের দৌরাত্ব সীমাছাড়িয়েছে। মুনাফার একাধিপত্য বিস্তারে তারা মরিয়া। মুনাফালুন্ঠনের নেশায় তারা বিশ্ব প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংসের উমত্ত নেশায় মগ্ন। এই বাস্তবতা প্রমাণ করেছে একমাত্র শ্রেণী সচেতন ট্রেডইউনিয়ন আন্দোলনই শ্রমিকশ্রেনীকে দুর্দশা থেকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশেও করোনার অজুহাতে মালিকরা রাষ্ট্রের কাছে যত সুবিধা নিয়েছে তার কোন সুফল শ্রমিকদের কাছে পৌঁছে নাই। বরং মালিকরা এই করোনাকালে প্রণোদনা নিয়েও গার্মেন্টস এবং চামড়া শিল্পে শ্রমিক ছাঁটাই, সময়মত মজুরী পরিশোধ না করা, মজুরী কম দেয়া সহনানাভাবে শ্রমিকদেরকে বঞ্চিত করেছে। আর সড়ক ও নৌযানসহ পরিবহণ শ্রমিক, পর্যটন, হোটেল, রেস্টুরেন্ট প্রভৃতি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা চরম দুর্দশায় জীবন অতিবাহিত করেছে। তারা জীবন বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হয়েছে। তাদের এই শ্রমে দেশের উৎপাদন ও অর্থনীতি সচল থাকলেও শ্রমিকদের জীবন হয়েছে দুর্বিষহ। কর্মচারীদের বেতন কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। আউটসোর্সিং এর নামে শ্রমিকদের চাকুরীর নিশ্চয়তা হরণকরা হয়েছে। পুঁজিবাদের প্রতিনিধি বর্তমান সরকার, আমলাতন্ত্র আর নীতিনির্ধারকদের ভূলনীতি, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অপচয়ের দায় শ্রমিকদের কাঁধে চাপিয়ে রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধ করে দিয়েছে, চিনিকলগুলো বন্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্ব ব্যাংক, আই.এম.এফ‘র পরামর্শে অতীতেও রাষ্ট্রীয় কারখানা লোকসানের অজুহাতে ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল, এর ফলে লুটপাট হয়েছে কিন্তু রাষ্ট্রের বা দেশের জনগণের কোন লাভ হয়নি।

নেতৃবৃন্দ, রাষ্ট্রের এই দায়িত্বহীন আচরনের নিন্দা জানিয়ে বন্ধ বা ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তর নয়, আধুনিকায়ন করে রাষ্ট্রিয় মালিকানায় পাটকলসমূহ চালু করার দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা, করোনার কারনে কাজ হারিয়ে দেশে ফিরে আসা শ্রমিকদের পুনর্বাসন, পুনরায় কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানিয়ে বলেন, সকল খাতের শ্রমিকদের জন্য আইন প্রণয়ন করে জাতীয় ন্যুনতম মজুরী ঘোষণা, সকল শ্রমজীবী মানুষের তালিকা তৈরী করে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাসহ আন্তর্জাতিক ঘোষিত নীতি ও আইএলও কনভেনশন অনুসারে শ্রমিকের অধিকার রক্ষার এবং শ্রম আইন ও বিধিমালায় বিদ্যমান সকল শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী কালাকানুন বাতিলের দাবী আদায়ে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে শ্রেণী সচেতন ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনসমূহের ঐক্যবদ্ধতার বিকল্প নেই।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 11
    Shares