সোমবার, মার্চ ১
শীর্ষ সংবাদ

বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং জাবি’তে ছাত্র ফ্রন্টসহ আন্দোলনকারীদের পুলিশী হয়রানীর নিন্দা

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার আজ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন,“সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিক লীগের সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়ন ও স্বায়ত্তশাসন নিয়ে যে কথাগুলো বলেছেন তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অনৈতিহাসিক। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎপত্তি কিভাবে হলো, এটাকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় না বলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কেন বলে, রাষ্ট্রের সাথে তাঁর সম্পর্কের চরিত্র কী, ইউজিসির উৎপত্তি কেন হলো-ইত্যাদি সম্পর্কে একটা ধারণা রাষ্ট্র পরিচালনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে তার আছে বলেই আমাদের ধারণা ছিল। কিন্তু তার বক্তব্য আমাদের বিস্মিত করেছে। তিনি বলেছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পাবলিক চালাক, সরকার আর টাকা দেবে না। তিনি ভুলে গেছেন সরকারের টাকাটাও পাবলিক মানি, সরকারের যে সংজ্ঞা সকল বই-পুস্তকে পড়ানো হয় তারও শুরু ও শেষ ওই পাবলিক দিয়েই। রাজনৈতিক দল যে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পায় সেটা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে তার সম্পদ পাহারা দেয়ার জন্য। জনগণ দ্বারা মনোনীত হয়ে জনগণের সম্পদের পাহারাদারিতে নিযুক্ত থেকে আবার জনগণকেই হুমকি দেয়া চলে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এটা ভুলে গেছেন হয়তো একারণেই যে, এখন সরকার গঠন করতে তার আর জনগণের প্রয়োজন পড়ছেনা।

আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত ছাত্রনেতৃবৃন্দের বাসায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও পুলিশ পাঠানো। তাদের বাড়ির এলাকার দোকান, পাড়াপ্রতিবেশীর কাছে ডিবি পুলিশ যাচ্ছে, একটা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে তাদের পরিবারে। একটা ন্যায্য আন্দোলন দমন করার জন্য রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতাকে কাজে লাগানোর উদাহরণ সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন। তিনি নিজেই বলছেন, গুটিকয়েক শিক্ষার্থী আন্দোলন করছে অথচ এই গুটিকয়েককে তিনি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হয়ে একের পর এক যেভাবে হুমকি প্রদান করে যাচ্ছেন এবং সকল বাহিনীকে লেলিয়ে দিচ্ছেন তাতে আন্দোলনের যথার্থতা এখানেই প্রমাণিত হয়। এইভাবে পুরো রাষ্ট্রশক্তি নিযুক্ত করে এই আন্দোলনকে তিনি যদি দমনও করতে সক্ষম হন তাহলেও আমরা মনে করবো এতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামী ছাত্রসমাজের বিজয়ই অর্জিত হয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে এই মূহুর্তে আন্দোলন চলছে আমরা তার প্রতি সংহতি জানাচ্ছি এবং যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে একে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহবান জানাচ্ছি।


এখানে শেয়ার বোতাম