সোমবার, নভেম্বর ৩০

বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার ক্ষেত্রে ঢাবি ছাত্র ফ্রন্টের ৫ শর্ত

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 81
    Shares

ঢাবি প্রতিনিধি :: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনলাইন সভায় ১ জুলাই থেকে সীমিত পরিসরে অনলাইন ক্লাস নেয়ার ঘোষণার প্রেক্ষিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান ।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন সুজন এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিব কান্তি রায় এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনলাইনে ক্লাস করার মতো অবস্থা এ মূহুর্তে সকলের নেই। খুব অল্প শিক্ষার্থীই শহরে থাকে এবং পারিবারিক ভাবে সুযোগ- সুবিধা লাভ করে। তাদের পক্ষে অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহনে সহজ হলেও সকলের পক্ষে সভব নয়। আর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অনলাইনে অংশগ্রহনের জন্য যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ না করেই ক্লাস কার্যক্রম শুরু করা হবে শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যপূর্ণ। তাই সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে তবেই অনলাইন ক্লাস শুরু করতে হবে।’

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘সারা দেশের মানুষজন এই দুর্যোগের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। স্বাভাবিক অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজের খরচ নিজেরাই চালাতেন। এমনকি পরিবারকেও সাহায্য করতেন। কিন্তু বর্তমানে অনেকেরই অবস্থা দুর্বিষহ। পরিবার থেকেও তারা সাহায্য পাচ্ছে না। অর্থাৎ অনলাইনে ক্লাস করার জন্য প্রয়োজনীয় মোবাইল ডাটা কেনার সামর্থ্য এমুহূর্তে তাদের নেই। এমনকি অনেক শিক্ষার্থীরই অনলাইনে ক্লাস করার মতো প্রয়োজনীয় ডিভাইস নেই এবং তা কেনার মতো আর্থিক স্বচ্ছলতা নেই। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন কার্যকর জরিপ করেনি এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই অনলাইন ক্লাসের ঘোষণা দিয়েছে।

সারাদেশে যখন হাজার হাজার মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে, আর্থিক ভাবে অস্বচ্ছল মানুষদের চিকিৎসার ন্যূনতম নিশ্চয়তা নেই। সমাজের বৈষম্য আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় অনেক শিক্ষার্থীই মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে। তাই অনলাইন ক্লাস যদি এমন হয় যে তার ওপরে আরো একটি বৈষম্যের বোঝা চেপে বসলো, তবে এতে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক ঘটনাও ঘটার সম্ভবনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কখনও তার শিক্ষার্থীদেরকে বৈষম্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে না।

এ পরিস্থিতিতে ক্লাসের মূল্যয়ন এবং উপস্থিতির ভিত্তিতে মূল্যয়ন স্বাভাবিক সময়ের মত রাখলে চলবে না। এটা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে যাওয়া থেকে আটকানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখতে হবে, কোন ভাবেই ক্লাসরুমে ক্লাসের পূর্ণাঙ্গ ও শতভাগ বিকল্প হিসেবে নয়। এই অনলাইন ক্লাসের মূল্যয়ন পদ্ধতি কি হবে সে বিষয়টি এখনও শিক্ষার্থীদের সামনে স্পষ্ট না। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থাও করা হয় নি অনলাইনে পাঠদানের জন্য।

এছাড়া নেতৃবৃন্দ বলেন,’ শিক্ষার্থীদের আর্থিক অসচ্ছলতা এবং মানসিক চাপের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস করার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ তাদের কাছে নেই। উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ বিশেষ করে বিষয়ভিত্তিক বইগুলো সারা দেশে পাওয়া সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় এসব উপকরণ ব্যাতিত শুধুমাত্র অনলাইনে ক্লাস করানো একটি অসম্পূর্ণ এবং অকার্যকর প্রক্রিয়া।

বর্তমানে সারা দেশে অল্প কিছু মানুষ দুর্যোগকে পুজি করে আর্থিক ভাবে ফুলে ফেঁপে উঠছে। এবং গরীব আরো গরীব হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি যথার্থ ব্যাবস্থা না নেয় তবে এই বৈষম্য শিক্ষা ক্ষেত্রেও বিরাজ করতে পারে বলে আশংকা করেন নেতৃবৃন্দ। তাই সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ দ্রুত সময়ের মধ্যে নিম্নলিখিত দাবীগুলো মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

১. নানাবিধ সমস্যা পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে জরিপ করে প্রয়োজনীয় ডিভাইস ও ইন্টারনেটের খরচ বাবদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আর্থিক বরাদ্দ দিতে হবে।
২. অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতির ক্ষেত্রে কোন মার্কসের ব্যাবস্থা রাখা যাবে না
৩. বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে অনলাইন ক্লাসের মূল্যয়ন পদ্ধতি ঠিক করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক, আর্থিক অবস্থার দিকগুলোকে বিবেচনায় আনতে হবে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. প্রত্যেকটি ক্লাস বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সার্ভারে সংরক্ষণ করতে হবে। এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য তা উন্মুক্ত রাখতে হবে। যেন শিক্ষার্থীরা অন্য যেকোন সময়ে ক্লাসটি দেখে নিতে পারে।
৫. শিক্ষার্থীরা যেন বিভিন্ন গবেষনা এবং বিষয়ভিত্তিক বই পুস্তক অনলাইনেই নাগাল পেতে পারে সে জন্য ডিজিটাল লাইব্রেরির ব্যবস্থা করতে হবে এবং শিক্ষার্থীরা যেন একসেস করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 81
    Shares