বৃহস্পতিবার, মার্চ ৪
শীর্ষ সংবাদ

বিল পরিশোধ করতে না পারায় ক্লিনিক থেকে নবজাতক চুরি !

এখানে শেয়ার বোতাম

নরসিংদী প্রতিনিধি :: নরসিংদীতে মেরি স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিক থেকে তিনদিন বয়সী এক নবজাত চুরির অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, সময় মতো চুক্তিবদ্ধ টাকা না দেয়ায় ওই নবজাতককে সরিয়ে ফেলেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। বুধবার রাতে শহরের বাসাইল এলাকায় মেরি স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অস্বীকার করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রসূতির বোন পরিচয় দিয়ে এক নারী নবজাতককে নিয়ে গেছে।

খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শন করে পুলিশ।

পুলিশ ও নবজাতকের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে প্রসব ব্যথা নিয়ে জেলার শিবপুর উপজেলার কুমরাদি গ্রামের রাজমিস্ত্রি শাহ আলম মিয়ার স্ত্রী সখিনা বেগমকে মেরি স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাতে সিজারিয়ান অপারেশনের পর কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। রোগীর অপারেশন ওষুধপত্রসহ ১০ হাজার টাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। অপারেশন সম্পন্ন হলেও দরিদ্রতার কারণে রোগীর স্বজনরা সঠিক সময়ে বিল পরিশোধ করতে পারেনি। এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগী ও রোগীর স্বজনদের তাগাদা দিচ্ছিল।

একই সঙ্গে বেড খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়। এর মধ্যে সন্ধ্যায় নবজাতকের মা সখিনা বেগম খাবার খেয়ে হাত ধোয়ার জন্য বাথরুমে যান। এ সময় অন্য রোগীদের নবজাতকের মার খালাতো বোন পরিচয় দিয়ে বোরকা পরিহিত এক নারী নবজাতককে কোলে নিয়ে বের হয়ে যায়। বাথরুম থেকে নবজাতকের মা এসে সন্তানকে না পেলে পাশের বেডের রোগীরা জানায় আপনার খালাতো বোন বাচ্চাকে নিয়ে গেছে। এ সময় ওই নারীর পেছনে ছুটে যান নবজাতকের মা। ওই সময় হাসপাতালের গেটে তালা দেয়া হয়।

রাতে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দুজ্জামানসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

নবজাতকের মা সখিনা বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ হাসপাতালের ১৩ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করতে পারছিলাম না। পরে তারা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেয়। এই টাকা জোগাড় করতে দেরি হচ্ছিল। এরই মধ্যে আমার কন্যাশিশুকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আমার ধারণা বিল দিতে না পারায় ক্লিনিকের লোকজনই আমার সন্তানকে গুম করেছে।’

মেরি স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. ইশতিয়া জাহান বলেন, ক্লিনিকের বিলের জন্য চাপ দেয়া হলে নবজাতকের মা কৌশলে নবজাতককে সরিয়ে উল্টো আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। নবজাতককে যে অজ্ঞাত নারী নিয়ে গেছেন সে নারী তারই আত্মীয় হিসেবে এই ক্লিনিকে এসেছেন বলে অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজনরাও জানিয়েছেন।

নরসিংদী সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ইমরান হাসান বলেন, নবজাতক চুরির ঘটনায় নবজাতকের মা ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পরস্পরকে দোষারোপ করছে। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।


এখানে শেয়ার বোতাম