সোমবার ‚ ২২শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ‚ ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং ‚ সকাল ৮:৩৩

Home বিপ্লবীদের কথা বিপ্লবী বরুণ রায়ের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিপ্লবী বরুণ রায়ের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অধিকার ডেস্ক :: আজ ৮ ডিসেম্বর। এই দিনে হাওরভাটির বিপ্লবী ও দেশখ্যাত বাম কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ কমরেড প্রসূন কান্তি বরুণ রায়ের দশম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৯ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আমৃত্যু তিনি মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও তাদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে লড়াই করে গেছেন।

মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে কমরেড বরুণ রায় স্মৃতি সংসদ স্মরণসভার আয়োজন করেছে। আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক আন্দোলনের কিংবদন্তি পুরুষ কমরেড প্রসূন কান্তি বরুণ রায়। তেভাগা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ভাসানপানি আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি জনতার মুক্তির সংগ্রামের প্রতিটি আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশ নিয়েছিলেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে তাঁকে অনেক সময় কারাবরণ করতে হয়েছে। শুধু পাকিস্তান আমলেই তিনি ১৪ বছর জেলে কাটিয়েছেন।

কমরেড বরুণ রায় ১৯২২ সালের ১০ নভেম্বর জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা করুণাসিন্ধু রায়। করুণাসিন্ধু রায় সামন্ত পরিবারে জন্ম নিলেও বেছে নিয়েছিলেন কৃষক প্রজার পক্ষের রাজনীতি। তিনি আসাম প্রাদেশিক পরিষদের এমএলএ ছিলেন।

বরুণ রায় কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মোগরা হাইস্কুল থেকে তিনি ১৯৪২ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বিদ্যালয়ে পড়াশোনাকালে তিনি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের সাথে যুক্ত হন। আন্তরিকতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নেতৃত্বের কাতারে চলে আসতে সক্ষম হন। ছাত্র ফেডারেশনের কর্মী হিসেবে বরুণ রায় কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে ১৯৪২ সালে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির পূর্ণ সদস্য পদ লাভ করেন। ১৯৪২ সালে স্বাধীনতা দিবস পালন করার সময় তাঁকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়। বরুণ রায় আইএ ভর্তি হন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে। এই কলেজ থেকে তিনি ১৯৪৭ সালে আইএ পাস করেন। ১৯৪৮ সালে সিলেট তিনি এমসি কলেজে বিএ প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। এ সময় তিনি পার্টি ও ছাত্র ফেডারেশনের কাজে নিজেকে একজন সার্বক্ষণিক হিসেবে নিযুক্ত করেন।

১৯৪৯ সালে তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার হন। ৫২’র ভাষা আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ সময় একটানা ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন। এরপর মুক্তি পেলেও রাখা হয় নজরবন্দি করে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক ফরমান জারি করলে বরুণ রায়কে আবারো গ্রেফতার করা হয়। এ সময় দীর্ঘ ৫ বছর কারাগারে থাকতে হয়। ১৯৬৮-৬৯ সালে গণআন্দোলনের সময় তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা থেকে বিরত থাকেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ‘ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের’ যৌথ গেরিলা বাহিনীর সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮০ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমানের আমলে তাঁকে আবার গ্রেফতার করা হয়। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (১৫ দলের প্রার্থী হিসাবে) কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসাবে তিনি সুনামগঞ্জ-১ আসন থেকে জয়লাভ করেন। ১৯৮৭ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলাকালে তাঁকে আবার গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়। তিনি ১৯৯০ সালে বার্ধক্যের কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন।

শেষ বয়সে তিনি মণি সিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্টের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী শীলা রায় নারীনেত্রী এবং একমাত্র ছেলে সাগর রায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ

অনলাইন ক্লাস: ৭দফা দাবিতে ঢাবি উপাচার্যকে স্মারকলিপি

ঢাবি প্রতিনিধি:: অনলাইনে ক্লাস শুরুর আগে সকল শিক্ষার্থীর ক্লাসে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করে সুষ্ঠুভাবে ক্লাস পরিচালনার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) উপাচার্যকে সাত...

পাটশিল্প সৎকারের পথ থেকে সরে আসার দাবি জাসদের

অধিকার ডেস্ক:: ‘নিজ হাতে গলা টিপে পাটশিল্পকে মেরে ফেলা এবং সৎকারের আয়োজন থেকে ফিরে আসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি’—আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের...

স্প্যানিশ লা লিগায় জয় পেল রিয়াল মাদ্রিদ

অধিকার ডেস্ক:: করোনায় লিগ বন্ধ হওয়ার আগে বার্সেলোনার চেয়ে ২ পয়েন্ট পেছনে ছিল রিয়াল। খেলা মাঠে গড়ানোর পর বার্সা তিন ম্যাচ ড্র...

ইকামার মেয়াদ তিন মাস বাড়াল সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: সকল প্রবাসীদের ইকামার মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি আরবে অবস্থানরত বা বর্তমানে...
Shares