সোমবার, নভেম্বর ২৩

বিপ্লবী কুমুদ বিহারী গুহ ঠাকুরতা’র স্মৃতিস্তম্ভ ও সমাধি ভেঙ্গে ফেলা হলো

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 55
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন এর নেতৃত্ব দানকারী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বিল্পবী কুমুদ বিহারী গুহ ঠাকুরতা’র (কুমুদা) স্মৃতিস্তম্ভ ও সমাধি ভেঙে ফেলেছে স্থানীয় প্রশাসন। সড়ক প্রশস্তের নাম করে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলায় এই মহান মানুষটির জন্মভিটার স্মৃতি স্তম্ভ ভেঙ্গে ফেলা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তবে স্মৃতি স্তম্ভ ভাঙ্গা হয়নি বলে দাবী করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ। তিনি বলেছেন, সড়ক প্রশস্ত করতে গিয়ে শ্রমিকরা ভুলবশত ওই অংশের দেয়াল ভেঙে ফেলেছে। আমরা বিষয়টি দেখেছি, শ্রমিকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

যদিও স্থানীয়রা বলছেন, রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ের দেয়াল ভেঙে ফেলায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পুনঃনির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। বাস্তবে কতটুকু হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে জানায়, বিগত ৯ অক্টোবর (শুক্রবার) হঠাৎ করে কোন প্রকার নোটিশ না দিয়েই এক অদৃশ্য শক্তির হস্তক্ষেপের মাধ্যমে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাংসদের বাউন্ডারি ওয়ালের দেওয়াল ভেঙে ফেলা হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পাশে অবস্থিত শ্রমিকদের দোকানসহ আলফা মাহেন্দ্র শ্রমিক ইউনিয়নের স্থায়ী কার্যালয় এবং বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলা হয়। হঠাৎ করেই কোন প্রকার নোটিশ না দিয়ে এমন ভাংচুরে বিপাকে পরে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের মুক্তিযোদ্ধা সহ সকল শ্রমিকরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গল (১৩ অক্টোবর) ভেঙে ফেলা হয় বিল্পবী কুমুদ বিহারী গুহ ঠাকুরতা’র (কুমুদা) স্মৃতি স্থম্ভ এবং তার সমাধি। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পরে বানারীপাড়া উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাইছে না।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বানারীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বেনি লাল দাস মুঠোফোনে বলেন, “৩ থেকে ৪ দিন আগে আমাদের বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙা শুরু হয়। এরপর বিল্পবী কুমুদ বিহারী গুহ ঠাকুরতা’র (কুমুদা) স্মৃতি স্থম্ভ ও সমাধি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর বেশি আমি কিছু বলবো না।”

বানারীপাড়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা মীর শাহজাহান মুঠোফোনে বলেন, “আপনারা সংবাদিকরা এসে দেখে যান এ বিষয়ে আমি কিচ্ছু বলবো না।”

উল্লেখ্য, ১৯০৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বানারীপাড়ায় নিজ পিত্রালয় পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের তমাল তলায় জন্মগ্রহণ করেন বিল্পবী কুমুদ বিহারী গুহ ঠাকুরতা। তার পিতা ছিলেন শরৎ গুহ ঠাকুরতা ও মাতা ছিলেন ভুবন মহীনি দেবী। তাদের চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে কুমুদা ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি ১৭ বার জেল খেটেছেন।

আন্দোলন করতে গিয়ে বিয়ে করা হয়নি তার। তিনি ওই সময় প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যতক্ষণ পর্যন্ত দেশ অর্থাৎ বর্তমান (ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ) স্বাধীন না হবে ততদিনে তিনি বিয়ে করবেন না। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হলো ঠিকই কিন্তু ওই সময়ে বয়স পেরিয়ে যাওয়ায় আর বিয়ে করা হয়নি। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হবার পরে দেশভাগের পর তার পরিবার পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে চলে যায়। কিন্তু তিনি দেশ মাতৃকার টানে পূর্ব পাকিস্তানে থেকে যান। দেশে থেকে যাওয়ার সুবাদে পাকিস্তানের অত্যাচার শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সর্বদা সরব থাকতেন। তিনি পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন করায় তাকে ৮বার এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনসহ মোট ২৫ বার কারাগারে পাঠানো হয়। দুটো স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ গ্রহন করা বিল্পবী কুমুদ বিহারী গুহ ঠাকুরতা বানারীপাড়ায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। আর তার কোন বংশধর না থাকায় জন্মবাড়িটাই স্মুতিচিহ্ন।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 55
    Shares