বুধবার, ডিসেম্বর ২

বিনামূল্যে করোনা চিকিৎসার দাবিতে ঢাকায় ছাত্র জোটের সড়ক অবরোধ

এখানে শেয়ার বোতাম

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বিনামূল্যে করোনা রোগীদের চিকিৎসা, ছাত্রদের বেতন-ফি মওকুফ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের ৩ দফা দাবিতে ঢাকায় সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট।

আজ (রবিবার, ০৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রগতিশীল ছাত্র জোটের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে নেতৃবৃন্দ মিছিল সহযোগে পল্টনে সড়ক অবরোধ করেন। এতে পুলিশ বাধা দেয়। এ পরিস্থিতিতে জোট নেতৃবৃন্দ পুলিশি বাধার নিন্দা জানান ও অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন।

প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’র সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার-এর সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদি হাসান নোবেল ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’র সভাপতি আল কাদেরী জয়।

বক্তারা বলেন, “করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত মানুষের জীবন। লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, বিনা চিকিৎসায় হাজারো মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু মানুষের জীবন বাঁচাতে সরকারের ন্যূনতম প্রস্তুতিও নেই। সরকার ব্যস্ত নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা ও সমন্বয়হীনতা পাহাড় সমান। এ মুহূর্তে সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজন বেশি বেশি পরিমাণ টেস্ট করা। কিন্তু আমরা জানি ৪৩টি জেলায় কোনো পিসিআর মেশিন নেই। টেস্ট কিটের অভাবে পরীক্ষা বন্ধ থাকছে বিভিন্ন জেলায়। হাসপাতালগুলোতে নেই দক্ষ চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী। হাসপাতালগুলোতে নেই পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা। অক্সিজেন সিলিন্ডার গ্যাসের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। মানুষের অসহায়ত্ব সকল মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

প্রয়োজন ছিলো বেশি বেশি টেস্ট করে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা। তা না করে নতুন করে করোনা পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা ও ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ চরম গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। সরকার ‘কম টেস্ট কম করোনা’- এই নীতি নিয়ে চলছে। এর মধ্য দিয়ে সরকার নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে চাচ্ছে। অথচ একথা সত্য এর মধ্য দিয়ে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘায়িতই হবে।

প্রায় ৫ কোটি শিক্ষার্থী আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্ন। দরকার ছিলো শিক্ষার্থী-শিক্ষক-ছাত্র সংগঠন-চিকিৎসক-জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সবাইকে সাথে নিয়ে একটা সামগ্রিক পরিকল্পনা হাজির করা। তা করতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পরিবারগুলো প্রচণ্ড আর্থিক সংকটে। অনেক ছাত্র ড্রপ আউট হওয়ার শঙ্কায় আছে। প্রয়োজন ছিলো ছাত্রদের পরিবারগুলোকে খাদ্য ও নগদ অর্থ সহয়তা করা। দরকার ছিলো ছাত্রদের বেতন-ফি ও মেস ভাড়া মওকুফ করা। তা না করে শিক্ষা প্রদানের নাম করে অনলাইন শিক্ষা ছাত্রদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি ও শিক্ষা ব্যবসায়ীদের পুঁজি বিনিয়োগ ও মুনাফার পথই উন্মুক্ত হবে। সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে। আমরা যদি বাস্তব সংকটের কথাও বলি দেখবো-ছাত্রদের ক্লাসে অংশগ্রহণ করার জন্য ডিভাইস, নেট সংযোগের সমস্যা আছে। এতে যে অর্থ ব্যয় হবে তা বেশিরভাগ ছাত্রই বহন করতে পারবে না। এতে ধনী- গরীব বৈষম্য আরও প্রকট হবে।

চারদিকে প্রচণ্ড অন্যায় -অত্যাচার চলছে,মানুষ ভালো নেই। এর বিরুদ্ধে যেন কেউ কিছু বলতে না পারে তার জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮’- এর মতো নিবর্তনমূলক আইন। এই কালো আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে লেখক-শিক্ষক-রাজনৈতিক আন্দোলনের কর্মী-সাংবাদিকসহ আরও অনেককে। এই আইন জনগণকে অনিরাপত্তায় রেখে আওয়ামী দুঃশাসনকেই নিরাপদ রাখার চক্রান্ত।

নেতৃবৃন্দ সড়ক অবরোধের কর্মসূচি থেকে সামনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন-

১. ৯ জুলাই মেসভাড়া মওকুফের দাবিতে ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ
২. ১২ জুলাই দেশব্যাপী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গণ অবস্থান
৩. ১৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে ‘কফিন মিছিল’।


এখানে শেয়ার বোতাম