মঙ্গলবার, মে ১১
শীর্ষ সংবাদ

বিদেশ হতে নয়, দেশের ডাক্তারই যথেষ্ট যদি একটা সিদ্ধান্তে আসা যায়!

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 2.5K
    Shares

রাশেদা রওনক খান ::

সময়টা ঘরে বসে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সমালোচনা করার না, সময়টা সিদ্ধান্ত নেবার, সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেবার। বিষয়টা হচ্ছে, যারা সরকারী হাসপাতালের সাথে জড়িত প্রতিটি ডাক্তার হাসপাতালে কাজ করছেন, সেবা দিচ্ছেন। যারা ঢালাওভাবে পুরো ডাক্তার সমাজকে সমালোচনা করে ফেলছেন তাদের জন্য করুণা থাকলো!

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যারা প্রাইভেট প্র্যাকটিস কেবল করতেন, কোন সরকারী হাসপাতালের সাথে যুক্ত না থেকে, সেইসব ডাক্তাররা কি করছেন?
এই দুই ধরণের ডাক্তারদের একটা তফাৎ টানতে জানতে হবে আমাদের। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সেই তফাৎ টানলেও অনেকেই টানছেন না, এক করে গুলিয়ে ফেলছেন এবং চিকিৎসকদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন! কাজটা কি ঠিক হচ্ছে? চিকিৎসকদের বেঈমান বলছেন কেউ, কেউ কসাই, কেউ বা চোর ডাকাত, ইত্যাদি। অথচ প্রধানমন্ত্রী এমন কিছুই ইঙ্গিত করেননি। তিনি দুই ধরণের চিকিৎসকদের কথাই এনেছেন। আমরা এক জায়গায় নিয়ে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিচ্ছি!

যারা সরকারী হাসপাতালের সাথে যুক্ত নেই, তাদের কিভাবে এখন সরকারী হাসপাতালে যুক্ত করা যায় তা নিয়ে পলিসি লেভেলে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে। সারাবিশ্বে এখন এইধরনের ডাক্তাররা সরকারী হাসপাতালে স্বেচ্ছায় সেবা দিচ্ছেন| আমাদের উচ্চ পর্যায় হতে এমন কোন প্রক্রিয়ার কথা ভাবছেন কিনা যেন সেইসব ডাক্তাররা যুক্ত হতে পারেন? স্বেচ্ছায় সেবা দিতে পারেন? সরকারী হাসপাতালে নির্ধারিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে এভাবে কিছু ভাবা যায় কিনা! এর জন্য সরকার একটা প্রোটকল তৈরি করতে পারে। অনেক জুনিয়র, মিড লেভেলে প্রচুর বেকার ডাক্তার আছেন, তাদেরকে কো-অপ্ট করার চিন্তা করা জরুরী। বয়সের কারণে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও কম থাকবে তুলনামূলক বয়স্ক চিকিৎসকদের তুলনায়। সরকার ইমারজেন্সি লেভেলে হাসপাতালে একটা অর্ডার জারি করে নিয়োগ দিতে পারেন এই দুর্যোগ কালীন সময়ে।

আমরা দেখেছি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জুনিয়র লেভেলের মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরাও যুক্ত হচ্ছে। সেটা কিন্তু এমনি এমনি দৌড়ে এসে যুক্ত হচ্ছেন তারা, তা না! এটার জন্য সরকার একটি ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, একটি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে এই যুক্ততা লাগবে। সেই প্রক্রিয়া নিয়ে পলিসি লেভেলে কাজ করতে হবে, খুব দ্রুত।

প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ না করলে এতো দিনে করোনা কোথায় ছড়িয়ে যেতো, তা সম্পর্কে কাদের কি ধারনা আছে, আমি জানিনা। আমাদের দেশে একজন রোগীর সাথে তিন/চার জন আসেন, এক একটা ক্লিনিক যেন এক একটা গার্মেন্টস ভবন! গিজ গিজ করতে থাকে লোকে লোকারণ্য! অতএব এসব বন্ধ থাকায় করোনা সংক্রমণ অনেকটাই স্থগিত রয়েছে। কারণ বেশিরভাগ ক্লিনিক রেসিডেন্সিয়াল এলাকায় অবস্থিত। কিন্তু ল্যাবএইড, স্কয়ার, এপোলো টাইপ এবং এই ধরণের বড় বড় প্রাইভেট হাসপাতালগুলো যাদের প্রচুর স্পেস আছে এই মুহূর্তে সেবা প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারে একটা সিস্টেমেটিক পদ্ধতি অবলম্বন করে ইমারজেন্সি লেভেলের রোগীদের জন্য। এক্ষেত্রে উনারা মানবিকতার পরিচয় দেখিয়ে তাদের যে ‘আকাশছোঁয়া সেবা মূল্য’, তা কমিয়ে দিতে পারেন। সেবা দেবার ক্ষেত্রে কেবল ডাক্তাররা এগিয়ে আসবে, অথচ ডাক্তারদের সামনে রেখে যারা ব্যবসা করেন, তারা এগিয়ে আসবেন না, তাতো হয়না! শুধু টেঙ্গরা পুটির উপর নয় রুই কাতলাদের উপরও ছড়ি ঘুরাতে হবে আমাদের এখন! বাধ্য করতে হবে এখন সেবা দিতে!

ইংল্যান্ড, আমেরিকাতেও এখন ইমারজেন্সি ছাড়া রোগী দেখা হচ্ছেনা। কারণ এতে করোনার প্রকোপ বেড়েই চলবে। প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো এই ইমারজেন্সি কেসগুলো দেখতে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের প্রবণতা হচ্ছে, অল্প কিছুতেই চলে আসেন ডাক্তারের কাছে। সেটা থামাতেই হবে। শুধু মাত্র ইমারজেন্সি কেসগুলো যেন বড় বড় হাসপাতাল বা ক্লিনিক গুলো দায়িত্ব নিয়ে সেবা দেয়, তার নিশ্চয়তা দিতে সরকারকেই বাধ্য করতে হবে।

লেখক : শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 2.5K
    Shares