মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯

বিজেপির মুসলিম তাড়ানোর নীতির বিরুদ্ধে বামপন্থীরা লড়ছে: কমরেড বাসুদেব বসু

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 444
    Shares

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট (লিবারেশন); সিপিআইএমএল (লিবারেশন) এর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য কমরেড বাসুদেব বসু বাংলাদেশে এসেছিলেন। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের শ্রমিক সংগঠন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের শ্রমিক রাজনীতি ও সামগ্রিক রাজনীতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে গেছেন। এ সময়ে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বামপন্থী রাজনীতির পরিস্থিতি ও সামগ্রিক মূল্যায়নের পাশাপাশি বিগত দিনের রাজনৈতিক ইতিহাস বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। অধিকারে বিশেষ প্রতিনিধি এম এম মুজাহিদ অনিকের মুখোমুখি হয়েছিলেন কমরেড বাসুদেব বসু।

মুজাহিদ অনিকঃ দাদা আপনাকে আমাদের এই আয়োজনে স্বাগত জানাচ্ছি।

কমরেড বাসুদেবঃ ধন্যবাদ।

মুজাহিদ অনিকঃ দাদা আমরা আপনার সঙ্গে একটু আলাপ করতে চাই। শুরু করি তাহলে?
কমরেড বাসুদেবঃ হ্যা অবশ্যই

মুজাহিদ অনিকঃ বাংলাদেশ কেমন দেখলেন?

কমরেড বাসুদেবঃ
দেশে পার্টির একটা অনুষ্ঠান শেষ করে আমি ৫ তারিখে ঢাকায় আসি। আমাদের দেশে যে একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে বিজেপির উত্থানের পর, ঠিক এরকম একটা সময়ে যখন ঢাকাতে নামলাম তখন দেখলাম যে এখানের দেয়ালে লেখা, মোদি গো ব্যাক। পাশের দেশে বিজেপির সাম্প্রদায়িক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ-খুব আশার ব্যাপার। এরপর আমি শ্রমিক ফ্রন্টের লাল পতাকা মিছিলে অংশ গ্রহণ করলাম। আমি দেখলাম, অনেক দিন পর ঢাকায় রাস্তার দুপাশে মানুষ এত বড় লাল পতাকা মিছিলকে দেখলো। খুব আগ্রহের সঙ্গে মানুষ লাল পতাকা মিছিল দেখলো বলে মনে হচ্ছে। হয়তো হতে পারে লোকে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের শাসনে থাকতে দেখে অভ্যস্ত থাকার কারণে মানুষের কাছে এ রকম একটা মিছিল দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অন্যদিকে এদেশে বিরোধী দলগুলোও খুব খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আবার বিএনপিও খেই হারিয়ে ফেলছে। এসবের মধ্যে শ্রমিক ফ্রন্টের এই মিছিল ঢাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে বলে মনে হচ্ছে।

মুজাহিদ অনিকঃ
বাংলাদেশে একটা শ্রমিক সংগঠনের কর্মসূচীতে এসেছেন। আবার আপনাদের দেশেও আন্দোলন সংগ্রাম করছেন। জানুয়ারি মাসের শুরুতে সিএএ ইস্যুকে কেন্দ্র করে আপনারা ভারতের প্রায় সব বামপন্থী প্রগতিশীল ট্রেড ইউনিয়ন গুলো মিলে একটা ধর্মঘট করেছিলেন। এ দেশের শ্রমিক প্রতিক্রিয়া আর আপনাদের ওখানকার প্রতিক্রিয়ার মধ্যে মিল কি দেখলেন আর পার্থক্য কি দেখলেন?

কমরেড বাসুদেবঃ
সবচেয়ে বড় মিলটা হচ্ছে, দু দেশেই মানুষ সমানভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। আমাদের দেশের ৮ জানুয়ারির ধর্মঘটের প্রস্তুতি শুরু হয় তার আগের বছরের সেপ্টেম্বরে দিল্লীতে অনুষ্ঠিত একটি গণ কনভেনশনের মধ্য দিয়ে। আপনাদের এখানে যে ১৮ হাজার টাকা ন্যুনতম মজুরির দাবি করছেন, সেটা আমাদের মূল্যসূচক অনুযায়ী আমরা ২১ হাজার টাকা দাবি করেছি। অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের ১০ হাজার টাকা পেনশনের দাবি ছিল। আমাদের ওখানে দাবি ছিল রাষ্ট্রয়ত্ব কারখানাগুলোকে বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে। আপনাদের এখানে এসে দেখলাম, এখানে পাটকলগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। পাটকল গুলো জীবন্ত সজীব করার আন্দোলন চলছে। এর বাইরে পোষাক শ্রমিক, যেটাকে আপনারা গার্মেন্টস শ্রমিক বলেন তাদেরও জীবনের নিরাপত্তা নেই। কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা নেই। আমাদের ওখানেও নিরাপত্তার ইস্যুটি আছে। শ্রমিকদের ওপর মধ্যযুগীয় বর্বর আক্রমণ ওখানেও আছে এখানেও আছে। অর্থ্যাৎ আর্থ সামাজিক পরিস্থিতিটা দু দেশে একই। এই ধর্মঘটে যে শুধু বামপন্থী ১০ টি ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারশন অংশ নিয়েছিল তা নয়, এর বাইরেও ভারতের বিভিন্ন স্তরের ৫০০ টি ট্রেড ইইউনিয়ন আমাদের এই ধর্মঘটে যোগ দিয়েছিল। ভারতের সব বড় বড় গণমাধ্যম বলছে, এ ধর্মঘটে ২৫ কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিল। এশিয়ার সবচেয়ে বড় শ্রমিক ধর্মঘট সম্ভবত এটাই।

মুজাহিদ অনিকঃ
ভারতের রাজনীতির কথা আসলে আমাদের দেশের মানুষরা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির একটা যোগসূত্র বা নৈকট্য অনুভব করে। সে কারনে সেখানকার রাজনীতিটা আমাদের দেশের মানুষের কাছে খুব প্রাসঙ্গিক। তো, আপনারা যে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন সেই ধর্মঘটে কেন্দ্রীয় বিজেপি বিরোধিতা করবে -এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি বিজেপির বিরুদ্ধে বক্তব্য, বিবৃতি, সভা সমাবেশে বেশ কঠিন প্রতিক্রিয়া দেখান। কিন্তু দেখলাম, আপনাদের বিজেপি বিরোধী ধর্মঘট তৃণমূল কংগ্রেস দমন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এখন আমাদের দেশের মানুষের কাছে মমতার বিজেপিবিরোধী নীতি ব্যাপারটা অস্পষ্ট মনে হয়।

কমরেড বাসুদেব বসুঃ
প্রথমত, বিজেপির বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তায় মিছিল করে, বক্তব্য দেন। কিন্তু আর্থিক নীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বার্তার সাথে তার কোনো তফাৎ নেই। শ্রমিক বিরোধী বিলে তিনি সমর্থন ব্যাক্ত করেন অথবা নিরব থাকেন। আমাদের রাজ্যে যারা ভেতর থেকে দেখেন তারা জানেন, আমাদের যে শ্রম দপ্তর তারা শ্রমিক ও মালিকের বিরোধ নিষ্পত্ত্বি করেন। কিন্তু এখন এই দপ্তরের কর্মকর্তারা প্রায় নিরব। দ্বিতীয় বিষয়টি হল , যে বিষয়টি সবচেয়ে আশ্চর্যের, ধর্মঘটের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার কোনো সার্কুলার জারি করেনি কিন্তু তৃণমূল সার্কুলার জারি করে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তৃণমুলের বক্তব্য ছিল, ধর্মঘটের ইস্যুতে সমর্থন আছে কিন্তু ধর্মঘটে সমর্থন নেই।
মানে এইটা আসলে তার চরিত্র। ধর্মঘটের দিন সরকারি কর্মচারীরা অনুপস্থিত থাকলে একদিনের কর্মচ্যুতি ঘটবে বলেও ঘোষণা দেয় মমতার সরকার। কিন্তু ধর্মঘটের ব্যাপকতা ছড়িয়ে গেলে ও একটু গুটিয়ে গেছে। সেভাবে কোনো সংঘাত সংঘর্ষ হয় নি, ছোট খাটো সংঘর্ষ ছাড়া তেমন কিছু হয় নি।
……মুজাহিদ অনিকঃ তবে কোথায় যেন দেখলাম পুলিশ গাড়িতে আগুন দিচ্ছে…

হ্যা সেটা মালদাহ জেলার সুজাপুরে। গাড়িতে আগুন দিয়ে ধর্মঘটীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সিভিক ভলান্টিয়ার ফোর্স দ্বরা আগুন লাগানো হয়েছিল। এর মধ্যে আরেকটা কথা বলে রাখি। এর এক পর্যায়ে তৃণমূল এই ভয়টা পেয়েছিল যে, ধর্মঘট দমনে বেশি তৎপরতা দেখালে সেটা মানুষের কাছে বিজেপির সঙ্গে আঁতাতের বার্তা যাবে। এই ভেবে ওকে অতো সক্রিয় দেখা যায়নি। অবশ্য এরকমও হয়েছে যে, ধর্মঘটের বার্তা এমন ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তাতে আর একে রুখা সম্ভব হয়ে ওঠেনি ওর পক্ষে।

মুজাহিদ অনিকঃ
দাদা, একটা মজার প্রশ্ন, বিজেপির উত্থান কিভাবে পশ্চিমবঙ্গে হল?

কমরেড বাসুদেবঃ
লোকে আসলে তৃণমূল কংগ্রেসকে যেমন দেখল, দলটি প্রতিদ্বন্দীতাহীন পঞ্চায়েত নির্বাচন, পুরসভা নির্বাচন করলো। সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচন করলো। তৃণমূলের দাদাগিরির প্রভাব পড়ল বাংলাতে। সিপিএমের শেষ ৫ বছরের অত্যাচারের পর এরকম একটা সন্ত্রাসের কবলে মানুষ পড়ল। তৃণমূলের শাসন সেই অত্যাচারকেও ছাপিয়ে গেল। আর এই সুযোগ নিয়ে বিজেপি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক প্রচার চালাল। সীমান্ত এলাকা গুলোতে একটা বিকৃত প্রচার চালাল যে, বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের বিতাড়িত করা হচ্ছে, অত্যাচার করা হচ্ছে। এই দুটো মিলিয়ে বিজেপির একটা উত্থান ঘটেছে। তবে পরবর্তীতে বিজেপির জয়ী হওয়া ৩ আসনে উপ নির্বাচনে বিজেপি আবার পরাজিত হয়েছে। পশ্চিমবাংলায় এরকম সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি এর আগে দেখা যায় নি। ফলে মানুষ আসলে তৃণমূলের সন্ত্রাসে বিরক্ত হয়ে এদিকে ধাবিত হয়েছে। আবার আমরা বামপন্থীরাও যদি শত্রু চিনতে ভুল করি তাহলেও একটা প্রভাব পরে। আমাদের ওখানে সিপিএম তৃণমূলকে প্রধান প্রতিপক্ষ মনে করে এগিয়েছে। বিজেপির মতো ফ্যাসিস্ট শক্তি যে এখানে মূল বিপদ সেটা ধরতে পারার ব্যার্থতাও ছিল। মূলত, তৃণমূল ঠেকাতে গিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালাবার ব্যার্থতা

কমরেড বাসুদেব বসু

মুজাহিদ অনিকঃ
এবার দাদা একটু কেন্দ্রের রাজনীতির দিকে আসি। ধরেন, জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের শক্তিও কমছে। কংগ্রেসের আর্থিক নীতি কিংবা শ্রেনী চরিত্রের বিপরীতে বিজেপি একটি প্রবল দক্ষিণপন্থী, প্রবল ডানপন্থী দল। এ অবস্থায় ভারতের বামপন্থীদের কিংবা সিপিআইএমএল লিবারেশনের অবস্থানটা কী?আমি আরো স্পষ্ট করে বলি, আপনারা বিজেপিকে ঠেকাতে কংগ্রেসের হাত ধরবেন?

কমরেড বাসুদেবঃ
বাস্তবে ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে বামপন্থীদের শক্তি সুদৃঢ় নয়। শুধুমাত্র বাম ঐক্য এতে যথেষ্ট নয়। বাম ঐক্য টা সেন্টারে থাকবে মানে কেন্দ্রে থাকবে। কিন্তু আমরা সমস্ত গণতান্ত্রিক ধর্ম নিরপেক্ষ শক্তিকে বিজেপির বিরুদ্ধে একসাথে করতে চাই। আমরা বামপন্থীরা গণ আন্দোলনে থাকতে চাই। আবার বিজেপির সর্বগ্রাসী আক্রমণ, সংবিধানের ওপর আঘাত- এসবের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ঐক্য চাই। এর পাশাপাশি বামপন্থীদের শক্তির জায়গাটা দেখতে হবে। এখন ভারতে এভাবেই এগোতে হবে। এর বিকল্প নেই। কারণ বিজেপির নীতি হচ্ছে মধ্যযুগীয়। এর বিরুদ্ধে সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির ঐক্যের বিকল্প নেই।

মুজাহিদ অনিকঃ
বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে সর্বভারতীয় সেক্যুলার শক্তিগুলোকে এক জায়গায় আনতে চান। এই নীতিতে তৃণমূল কে কোথায় রাখবেন?

কমরেড বাসুদেবঃ
এই প্রশ্নে তৃণমূলের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপি বিরোধী নীতি নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। আপনারা জানেন কি না জানি না মমতা বিজেপি বিরোধীতায় কোনো বিশ্বাসযোগ্য শক্তি নয়। মমতা ব্যানার্জি বিজেপি সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। আরএসএসের পত্রিকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এরআরসির মধ্যেই অমিত শাহর সাথে বৈঠক করলেন। কি বললেন বৈঠক করে? জিজ্ঞেস করা হল, এনআরসি নিয়ে কি কথা হল। উনি বললেন এটা তো পশ্চিমবঙ্গের ইস্যু নয়। উনি তাহলে কি করলেন বৈঠক করে আবার মোদীর সঙ্গে বৈঠক করতে ছুটে গেলেন। সেটা যেতেই পারেন। মানুষের তো জানার আছে, আপনি গিয়ে কি আলাপ করলেন। আসলে বাস্তব কথা হচ্ছে, বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে উনি কোনো সহায়ক শক্তি নয়।

মুজাহিদ অনিকঃ দাদা বিজেপির হিন্দুত্ববাদী নীতির বিরুদ্ধে সমস্ত ধর্ম নিরপেক্ষ শক্তিকে এক জায়গায় আনতে চান। খুবই ভালো কথা। কর্ণাটকে কংগ্রেস-জেডিএস সরকার গড়ার সময় বিরোধীরা এক প্রকার শক্তির মহড়া দিল। কিন্তু বিজেপি যখন কোনো নীতি তৈরি করছে তখন এই শক্তি গুলো একসাথে লড়াই দিতে পাচ্ছে না কেন? এই বিরোধী শক্তি তো অটুট থাকছে না।

কমরেড বাসুদেবঃ
প্রথমত, আমাদের দেশে রাজনৈতিকক অবস্থাটা স্পর্শ কাতর। বিজেপি ফ্যাসিস্ট সাম্প্রদায়িক শক্তি আবার ক্ষয়িষ্ণু কংগ্রেস দোদুল্যমান শক্তি। বহু জায়গায় কংগ্রেস তার চরিত্র বদল করে বিভিন্ন আন্দোলনে থাকে। আমাদের দেশে একটা ব্যাপার আছে, ঝুঁকিপূর্ণ রাজনৈতিক কথা কেউই বলতে চায় না। দোদুল্যমান শক্তিকে আপনি কোথায় ঠেলে দেবেন? এদিকে না ওদিকে রাখবেন। সমস্যাটা এখানেই।

কিন্তু বামপন্থীরা ছাড়া কাশ্মীর নিয়ে কারা কথা বলেছে? বামপন্থীরাই সবচেয়ে জোর দিয়ে বলেছে। কংগ্রেস মনে করে, কাশ্মীর নিয়ে কথা বললে সেখানকার হিন্দু ভোট চলে যেতে পারে। জম্মুর হিন্দুর ভোট চলে যাবে, কাশ্মীর নিয়ে বললে আসন্ন হরিয়ানা বিধানসভায় (ওই সময়ে) ভোট চলে যাবে। বিজেপি চাচ্ছে, যতটা বেশি সম্ভব এই দলগুলো মুসলিম তোষণ করুক। এতে মেরুকরণের সুযোগ তৈরি হবে। সবচেয়ে নোংরা বিষয়টা হচ্ছে যা পশ্চিমবঙ্গে ছিল না এর আগে; দলিত এবং মতুয়া সম্প্রদায়, যারা তোমাদের এখান থেকে চলে গেছে তাদের মধ্যে একটা মিথ্যাচার করেছে বিজেপি। সীমান্তে অঞ্চলে একটা মিথ্যা, হিটলারীয় প্রচার তোলা হচ্ছিল, মুসলামানরা বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের তাড়িয়ে দিচ্ছে। মমতা ব্যানার্জি এই ট্রাপেই পা দিলেন। ভুল, মিথ্যা তথ্য বারবার প্রচার হচ্ছে বিজেপির পক্ষ থেকে।

আবার মমতা বলছে,মুসলমান ভোটের জন্য লাত্থি খেতেও নাকি উনি রাজি! আবার কাশ্মিরকে প্যালেস্টাইন বানানো হয়েছে। ইন্টারনেট, মোবাইল সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কাশ্মীরের আপেল ব্যাবসায়ীদের দুর্ভোগ যদি না বলা হয় তাহলে কি নিয়ে বলব। কাশ্মিরকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়াটা তো বিজেপিই করছে। কাশ্মির নিয়ে ভোট রাজনীতির পারমুটেশন, কম্বিনেশন আমরা করি না। এই করতে করতে সিপিএম সংসদীয় রাজনীতির অঙ্কেও দুইয়ে নেমে এসেছে। ভারতে মানুষের কণ্ঠস্বর বামপন্থীরাই।

মুজাহিদ অনিকঃ
কংগ্রেস কে সঙ্গে নিয়ে জেডিএস সরকার গড়ল। সেই সরকার পরেও গেল। আমার মনে হচ্ছে মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস সরকারও আর টিকবে না। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া তো পদত্যাগ করলেন…

কমরেড বাসুদেবঃ
এর পেছনে একটা বড় কারণ আছে। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার পরিবারের বিরুদ্ধে ২২হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মামলা আছে। আবার অন্য বিষয়টা হচ্ছে, জ্যোতিরাদিত্য মূখ্যমন্ত্রী হতে চেয়েছিল। কমল নাথের সঙ্গে আগে থেকেই বিরোধীতা ছিল। আর এদিকে বিজেপির দিক থেকে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেইলিং তো ছিলই। ও আর ওর পিসিকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল, এবার বিজেপিতে না আসলে জেলে যেতে হবে। ওই একমাত্র মাধবরাও সিন্ধিয়ার ছেল যে কংগ্রেস করত। পিসিরা তো সব বিজেপি করে। সব মিলিয়ে কংগ্রেসের এমএলএ গুলোকে নিয়ে বিজেপির দিকে পা বাড়ালো। তবে আবার আজ (১১ মার্চ) দেখলাম এর মধ্যে ১৫ জন নাকি আবার বিজেপিতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

মুজাহিদ অনিকঃ
দাদা, প্রশ্নটা তো মেজরিটির এবং আদর্শের। কংগ্রেস নিজের বিধায়কদের ধরে রাখতে ব্যার্থ হচ্ছে কেন।

কমরেড বাসুদেবঃ
যে ব্যাপারটা পশ্চিমবাংলাতে ছিল না, সংস্কৃতিও ছিলনা। মধ্যম সারির বামপন্থী নেতা, কেউ এখন বিজেপি করে, অথবা তৃণমূল করে। মমতার দলে এখন এরাই। এই হর্স ট্রেডিং এর সংস্কৃতি এখন বাংলাতেও। এক সময়ের বামপন্থী আদিবাসী নেতা খগেন মুর্মু এখন বিজেপির শুধু নেতা বা লোকসভার এমপি নয় বরং পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডিং কজমিটির মেম্বার। এরকম বহু নেতার নাম বলা যাবে। খগেন মুর্মু , যিনি এক সময় মার্ক্সবাদি রাজনীতি করত এখন সে বিজেপির ঝান্ডা ধরেছে। পশ্চিম্বঙ্গে এখন এসব সংস্কৃতির জন্ম হয়েছে। সুতরাং কর্ণাটক বা মধ্যপ্রদেশের সংস্কৃতি বিজেপি সব জায়গায়ই ছড়িয়েছে। এ রাজ্যের মধ্যম সারির বামপন্থী সুবিধাভোগী শ্রেনী এখন হয় তৃণমূল না হয় বিজেপি। এই সংস্কৃতিতে মমতার ভূমিকা আর বিজেপির ভূমিকা সমান।

মুজাহিদ অনিকঃ
ভারতের বামপন্থী রাজনীতির ইতিহাস বহু দীর্ঘ। এ সময়ের নকশাল বাড়ি আন্দোলন দেখা গেছে, বহু উত্তপ্ত সময় দেখা গেছে। আবার সংসদীয় রাজনীতিতেও ভারতে বামপন্থীদের একটা ইতিহাস আছে। এই বহুধা বিভক্ত ভারতীয় বামপন্থী রাজনীতির অবস্থাটা কি এখন? মোট কথা হচ্ছে, আপনাদের রণ নীতি, রণ কৌশল কি এখন?

কমরেড বাসুদেবঃ
এক কথায় যদি বলেন আমরা দুটো কৌশলই অবলম্বন করছি। আমাদের কৌশল হলো আমরা প্রয়োজন মতো সংসদীয় রাজনীতিতে থাকবো আবার নিজের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে শক্তি জুগিয়ে গণ আন্দোলনে থাকব, আমাদের রাজনীতি সংসদ সর্বস্ব নয়। ফলে এই যে দেখবেন আমরা বিহারের কিছু জায়গায় জয়লাভ করেছি সেখানে আমরা আমাদের কাজের ক্ষেত্র থেকেই জয়লাভ করেছি, ঝাড়খন্ডেও তাই। পুরনো নকশাল পন্থী দলগুলোর মধ্যে আমরাই প্রথম জয়ের সূচনা করেছি। আমরা বলতে চাইছি, যে সব এলাকা গুলোতে মিলিশিয়া সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার সেসব এলাকায় আমরা সশস্ত্র প্রতিরোধও গড়ে তুলছি। এসব বিষয় সব কিছু তো আর ডকুমেন্টে লেখা থাকে না। আমরা মনে করি গণ আন্দোলনের কাভার রেখে, গণ আন্দোলনে পরিবৃত হয়ে সংসদীয় রাজনীতিতেও পরিমিত পরিমাণে থাকতে হবে। আমরা দুটো কৌশলকেই গ্রহণ করে অগ্রসর হচ্ছি। এ দুটো কৌশল একসাথে করা ছাড়া এই ফ্যাসিস্ট বর্বর মধ্যযুগীয় বিজেপিকে রুখা যাবে না। এরা যেভাবে একটা সম্প্রদায়কে বাইরে রেখে ভারতের সংবিধানের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে এর প্রতিরোধ করতে এর বিকল্প নেই। আমরা যেমন ভগত সিং ব্রিগেড গড়েছি। এর মাধ্যমে পাড়ায় পাড়ায়, এলাকাতে আমরা প্রচার চালাচ্ছি।
……মুজাহিদ অনিকঃ এটা কি বজরং দলের পালটা ?
না না, সেরকম নয়। বজরং দল তো এলাকাতে নিরীহ মানুষের ওপর আক্রমণ চালায়, হত্যা করে। বর্বরতার সীমা ছাড়িয়ে। এদের সঙ্গে তুলনা হয় না।

মুজাহিদ অনিকঃ
আপনি বললেন যে জায়গা গুলোতে মিলিশিয়া তৎপরতা আছে সে জায়গায়ও আপনাদের ভূমিকা আছে। চারু মজুমদার, কানু সান্যাল থেকে বহু নেতাকে হত্যা করা হয়েছে… চারু মজুমদারকে জেলেই হত্যা করা হয়েছে। এখন যেভাবে রাজনীতিতে আপনারা সক্রিয়, এখন এই অবস্থায় আপনারা কি আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন অথবা আপনাদের আগের অবস্থান ভুল ছিল?

কমরেড বাসুদেবঃ
ভুল তো আসলে কিছু ছিলই। আমরা মূলত, ৮০ দশকে এসে একটা মূল্যায়ন দাড় করানোর চেষ্টা করেছি। এখন আমরা তার ভিত্তিতেই ভারতে অগ্রসর হচ্ছি। আমাদের চতুর্থ পার্টি কংগ্রেস থেকে জাতীয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু মূল্যায়ন করেছি। যেমন ধরুন, এক সময় সোভিয়েতকে আমরা সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ বললেও নতুন মূল্যায়নে সেটা আর বলি না। আমরা কিন্তু গণ আন্দোলন, গন সংগঠনে ছিলাম না। আমরা গোপন পার্টি কার্যক্রম চালাতাম। এরপর ইন্ডিয়ান পিপলস ফ্রন্ট নামে আমরা গণ আন্দোলন পরিচালনা করা শুরু করি। এর থেকেই পার্টির নতুন সূত্রপাত। কিন্তু সোভিয়েতের পতন হচ্ছে, লেনিনের মূর্তি ভাঙ্গা হচ্ছে তখন আমাদের নতুন করে শুরু করার কাজ শুরু করি। চারু মজুদারের মতো নেতাকে আমরা জেল খানায় মরতে দেখেছি; শুধু চারু মজুমদার, কানু সান্যাল কেন, বহু নেতাকেই হত্যা করা হয়েছে জেলে নির্যাতনে অথবা এনকাউন্টারে।

মুজাহিদ অনিকঃ
একটা জরুরী বিষয়। আজকে আপনাদের সামনে দক্ষিনপন্থী বড় শক্তি হিসেবে হাজির হয়েছে বিজেপি। কিন্তু এক সময় আপনাদের লড়াই, লড়াইয়ের কৌশল, কিংবা যুদ্ধ কৌশল বলছেন- সব কিছুর বিরুদ্ধে ছিল কংগ্রেস। কংগ্রেসের আর্থিক নীতি, পার্টিগত চরিত্র, গণবিরোধী চরিত্রের বিরুদ্ধে আপনাদের বক্তব্য-বিবৃতি, ডকুমেন্ট রয়েছে। ব্যাপারটা তো এমনও হতে পারে কংগ্রেসের গণবিরোধী চরিত্রের কারণে বিজেপির উত্থান হয়েছে? এখন আপনারা সেই কংগ্রেসেরই হাত ধরেছেন যাদের হাতে বামপন্থীদের রক্ত লেগে আছে। আবার, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস আর সিপিএম একসাথে চলছে। একবার ভাবুন তো…

কমরেড বাসুদেবঃ
না না, দুটো বিষয়ের মধ্যে গুণগত ফারাক আছে। কংগ্রেসকে আমরা স্বৈরাচারী বলেছি, কংগ্রেস জরুরি অবস্থা জারি করেছে, নির্যাতন চালিয়েছে, নিপীড়ন চালিয়েছে, জেলের ভেতর হত্যা করেছে – সবই ঠিক। কিন্তু বিজেপি আসার পর যা হয়েছে তা এর আগে হয়নি। নির্দিষ্ট করে একটা সম্প্রদায়কে তাড়িয়ে দেয়ার নীতি নিয়েছে। ধরুন, কংগ্রেস তো বামপন্থীদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। কিন্তু বিজেপি তো সংবিধান নস্যাৎ করে সমস্ত মানুষের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে বহিষ্কার করে দেয়ার প্রচেষ্টা এর আগে হয়নি। অনেকে বলেন, আর্থিক হামলার দৃষ্টিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টাতে এনআরসি, সিএএ করছে। মোটেই সেরকম না। দুটো নিয়েই বিজেপি রান করছে। আর্থিক নীতির সাথে শ্রমজীবি মানুষকে বিভক্ত করার নীতি একসাথেই চলে। কর্পোরেট পুজিকে ডেকে আনার সাথে বিভক্ত করাই এর নীতি। এখন কথা হচ্ছে আমরা কোনোদিন কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করব না, সেটা সিপিএম করতে পারে।

বাংলাদেশ এসে আমার বলা ঠিক হবে কি না জানি না, সর্বশেষ হায়দ্রাবাদের পার্টি কংগ্রেসে সিপিএম মুখ্য বিপদ, গৌণ বিপদ নির্ধারণ করতে পারেনি। যেমন ধরুন, পশ্চিমবঙ্গেও সিপিএম তৃণমূলকে আক্রমণ করতে গিয়ে বিজেপির সুবিধা হচ্ছে। আমাদের নির্ণয় করতে হবে, বিজেপি মূখ্য বিপদ। এর ওপর দাড়াতে হবে। তৃণমূল তৃণমূল করলে সেটা বিজেপিকে জেতাতে সাহায্য করবে। সেটাই হয়েছে এবার। কিন্তু আমাদের নীতি হল, আমরা বিজেপিকে প্রধান শত্রু বলছি, এর বাইরে তৃণমূলের আক্রমণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। যেমন ধরুন, চিত্রকর সমির আইচ (পশ্চিমবঙ্গের একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী)। চিন্তাগত দক থেকে কংগ্রেসি। সে যখন আক্রান্ত হয় তখন আপনাকে সোচ্চার থাকতে হবে। এই ভয়ংকর মতাদর্শ ভারতকে শেষ করে দিচ্ছে। গ্রামে গ্রামে আরএসএস বাহিনী একটা সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করার ঘোষণা দিচ্ছে।

আমি আপনাদের দেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম। আমার মামা অজিত গুহ ওখানকার শিক্ষক ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় ছিলেন উনি। পুরান ঢাকায় হিন্দু মানুষদের কথা শুনলাম। দেখে মনে হল, এখানে দাঙ্গা বাধানো সম্ভব না। আমার তাই মনে হয়েছে। ধরুন, আপনাদের দেশ ভাষা আন্দোলনের ভিত্তিতে স্বাধীনতার দিকে গেছে। এখানে চট করে দাঙ্গা লাগানো সহজ কথা নয়। অথচ, এখানে সংগঠিত তথাকথিত দাঙ্গার কথা বলে ভারতে হিন্দুদের তাড়িয়ে দেবার মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে।

মুজাহিদ অনিকঃ
মনমোহন সিং ক্ষমতায় থাকার সময় মাওবাদীদের নারকীয় কায়দায় দমন করল। এ সময়েও এসব ঘটছে। রাষ্ট্রের চরিত্র অনুযায়ী হয়তো এর একটা লিগ্যাছি আছে। এখনো আদিবাসী, দলিতদের আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনগুলো নিয়ে আপনাদের ভূমিকা কী?

কমরেড বাসুদেবঃ
এখন তো আর আক্রমণ মাওবাদীদের ওপর সীমিত নেই। সোচ্চার তো হতেই হবে আমাদের। ভয়ংকর আক্রমণ নেমে আসছে সবার ওপরেই। ভারতের সর্বস্তরের মানুষ আক্রমণের স্বীকার। গৌতম লাভল্কারের মতো অর্থনীতিবিদ, সোমা সেনের মতো অধ্যাপিকা, রুনা উইলসেনের মতো অধ্যাপিকাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। পি এন সাইবাবার মতো প্যারালাইজড বুদ্ধিজীবিকে জেলে নিক্ষেপ করা হয়েছে। মাওবাদীরা গণ লাইনে আছে, সেগুলো বাদ দিন। আর্বান নকশাল, মাওবাদী পরিচয়টা তো এক্সটেন্ড করেছে বিজেপি। শাবানা আজমিও নকশাল, সবাই নকশাল। দেশদ্রোহিতার তকমা লাগিয়ে ন্যাশনাল সিকিউরিটি এ্যাক্টে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। দেশের মেধাবীদের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় একটা প্যাকেজিং টার্গেট নিয়ে নেমেছে তারা। জেএনইউ, যাদপপুর, জামিয়া মিলিয়ার মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় আক্রমণ চালাচ্ছে। কানাইয়া কুমার জেএনইউতে বক্তব্য দিলেও দেশদ্রোহী, ঐশী ঘোষও দেশদ্রোহী। বাদ কে? কেউ বাদ নেই।

মুজাহিদ অনিকঃ
সিপিএম সম্পর্কে এখন আপনাদের মূল্যায়ন কি? পথচলাটা কেমন?

কমরেড বাসুদেবঃ
সিপিএম তার পার্টির বক্তব্য পাল্টেছে। মাওবাদীদের নিয়ে, নকশাল পন্থীদের নিয়ে তার বক্তব্য থেকে সরে এসেছে। তাদের মূল্যায়নেও যথেষ্ট পরিবর্তন এসেছে।
…মুজাহিদ অনিকঃ সামনে যে আবার এমন মূল্যায়ন আসবে না তার নিশ্চয়তা কি?

আসলে রাজনীতি তো এক জায়গায় স্থির থাকে না। সেটা দেখা যাবে। এখন আমাদের চোখের সামনে যা ঘটবে তার প্রেক্ষিতেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মুজাহিদ অনিকঃ
এই অবস্থায় দক্ষিণ এশিয়ার বামপন্থী রাজনীতি নিয়ে আপনাদের মূল্যায়ন কি? নেপালে মাওবাদীরা একটা প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায়, ভারতে আপনাদের অবস্থা তো জানেন আপনি, আমাদের এখানে রুগ্ন, ক্ষয়িষ্ণু অবস্থা চলছে। আপনার মূল্যায়ন কি?

কমরেড বাসুদেবঃ আমি আশাবাদী। এবারে ভারতে যে সমস্ত আন্দোলন, কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার আন্দোলনে ছাত্র তরুণদের যে অংশগ্রণ তা খুব আশার কথা। শাহিনবাগের আন্দোলনে শিখরা পক্ষে দাড়িয়েছে। জেএনইউ, যাদবপুরে এ অবস্থায়ও বামপন্থীরা জিতছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যেও বামপন্থী প্রগতিশীল তরুণরা জেগে উঠেছে। এই অঞ্চলের তরুণরা এখন অনেক সক্রিয়।

মুজাহিদ অনিকঃ
একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি আলোচনায়। এবার বাংলাদেশের বামপন্থী রাজনীতি আর বাসদের রাজনীতি কেমন দেখলেন? অভিজ্ঞতাটা জানতে চাইছি…

কমরেড বাসুদেবঃ
আমাদের রাজনীতি আর বাসদের রাজনীতিতে ফারাক আছে। এটাই স্বাভাবিক। নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব, জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব; আরো অনেকে অনেক বিপ্লবের স্তরের কথা বলে। এ নিয়ে বিতর্ক থাকুক। কিন্তু এর মধ্যেও এই যে ঘন ঘন আদান প্রদান, সার্ক কান্ট্রিগুলোর মধ্যে মিছিল সমাবেশে আসা যাওয়া- এটা দরকার। আমি আরেকটা জিনিস বলি, মোদীর আগমন বাতিলের সিদ্ধান্ত করোনা ভাইরাসের কারণে হয়নি। এটা ওর একটা কৌশল। ও জানে এদেশে আসলে সিএএ পাসের কারণে বাংলাদেশের বামপন্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হবে। ওর কাছে গোয়েন্দা রিপোর্ট আছে। আমার মনে হয় ও সে কারনেই সফর বাতিল করেছে। আর বাসদ সম্পর্কে কথা হচ্ছে, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল একটি দল। তারাও লড়াই করছে, আমরাও সেই লড়াইয়ে আছি। শ্রমজীবী মানুষের লড়াইয়ে আমাদের মতপার্থক্য থাকলেও, একে নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আর আরেকটা ব্যাপার আমার বলা ঠিক হবে কি না জানি, বাংলাদেশের বামপন্থীদের কারো কারো আওয়ায়ামী লীগের প্রতি বিশেষ মোহ রয়েছে। আওয়ামী লীগের এখনও গ্রামগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের সেন্ট নিয়ে ঘুরে বেড়ায় এটা থেকেই মনে হয় এই মোহ।
মুজাহিদ অনিকঃ আপনাকে ধন্যবাদ। আবার আসবেন আমাদের দেশে

কমরেড বাসুদেবঃ আপনাকেও ধন্যবাদ। নমস্কার।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 444
    Shares