শনিবার, মার্চ ৬
শীর্ষ সংবাদ

বিএসএফের গুলিতে নিহত বাবলুর লাশ ১৪ দিন পর ফেরত পেল পরিবার

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: বিএসএফের গুলিতে নিহত বাবলু মিয়ার (২৫) মরদেহ ১৪ দিন পর ফেরত পেল পরিবার। গত ৩ সেপ্টেম্বর লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত বাবলু।

মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সীমান্তে বিজিবির উপস্থিতে নীলফামারীর ডিমলা থানা পুলিশের কাছে বাবলু মিয়ার মৃতদেহ হস্তান্তর করে বিএসএফ। সেখানেই বাবা নূর মোহাম্মদের কাছে বাবলুর মৃতদেহ বুঝিয়ে দেয় ডিমলা থানা ওসি। ছেলের মৃতদেহ বুঝে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবলুর বাবা।

তবে বিএসএফ’র কাছে আহত অবস্থায় আটক থাকা স্কুল ছাত্র সাইফুল ইসলামকে (১৪) পরিবারের কাছে ফেরত দেয়নি বিএসএফ।

নিহত বাবলু মিয়ার (২৫) বাড়ি নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ গ্রামে।

অপর দিকে আটক থাকা সাইফুল ইসলাম একই উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ঝারশিংহের চর গ্রামের গোলজার হোসেনের ছেলে এবং পূর্বছাতনাই উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ইসাহাক মণ্ডল, ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন শেখ, পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দলি লতিফ খান, পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন, দহগ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আবু হানিফ। ভারতীয় ৫৪ বিএসএফের উপ-অধিনায়ক এসওয়াই খেঙ্গারু, কোচবিহার জেলার কুচলিবাড়ি থনার সার্কেল কর্মকর্তা পুরান রায় ও থানা পুলিশের কর্মকর্তা সুবাস চন্দ্র রায়।

বাবলুর মৃতদেহ বুঝে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন শেখ বলেন, ‘সেখানেই বাবলু মিয়া মৃতদেহ তার বাবা নূর মোহাম্মদের কাছে বুঝে দেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন তার বাবা নূর মোহাম্মদ।

এদিকে বিএসএফ’র কাছে আটক থাকা আহত সাইফুলের বাবা গোলজার হোসেন বলেন, বাবলুর মৃতদেহ ফেরত পেয়েছে তার পরিবার। এখন সাইফুলকে ফেরতের দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সীমান্ত এলাকার কালিগঞ্জ গ্রামের বাবলু মিয়া (২৫) ও ঝাড়সিংহেশ্বর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (১৪) গরুর ঘাস কাটতে বের হয় বাড়ি থেকে। এসময় তাদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সীমান্তে ঘাস কাটার সময় তাদের গুলি করে ভারতের উড়াল ক্যাম্প বিএসএফ সদস্যরা। গুলিতে বাবলু মিয়া নিহত এবং সাইফুল আহত হলে সাথে সাথে হতাহতদের নিয়ে যায় বিএসএফ।


এখানে শেয়ার বোতাম