শনিবার, ডিসেম্বর ৫

বিএনপি ত্রাণ দেওয়ার নামে ফটোসেশন করে ফিরে এসেছে :ওবায়দুল কাদের

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে কল্পিত ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিএনপি ত্রাণ দেওয়ার নামে ফটোসেশন করেছে অভিযোগ তুলে কাদের বলেন, ‘একদিন ত্রাণ সহায়তা করতে গিয়ে ফটোসেশন করে আপনারা ফিরে এসেছেন। অথচ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দিনের-পর-দিন, মাসের-পর-মাস মানবিক সহায়তা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা না করে উল্টো আপনারা কল্পিত ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন।’

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা সভায় যুক্ত হন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবকে বলতে চাই, পৃথিবীর একটি দেশের নাম বলুন, যে দেশ বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার এমন অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা নর-নারীকে আশ্রয় দিয়ে, বাসস্থান দিয়ে, আহার দিয়ে শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছেন। সারা বিশ্ব যখন শেখ হাসিনার মানবতার এবং মানবদরদী ভূমিকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, তখন তো আপনারা একটা ধন্যবাদ জানাতেও ব্যর্থ হয়েছেন।’

বিএনপি মহাসচিবের সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নিজেদের স্বার্থে রাষ্ট্র ক্ষমতা ব্যবহার করেছে, তাদের মুখে নীতির কথা মানায় না।‘

তিনি বলেন, ‘জীবিকার চাকা সচল রাখতে সরকার গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি খুলে দেওয়ার যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তখন বিএনপি মন্তব্য করেছিল, দেশকে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সংক্রমণ অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং শেখ হাসিনার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে আজ এতদিন পরেও বিশেষজ্ঞদের অবাক করে দিয়ে আশঙ্কা অনুযায়ী গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোতে সংক্রমণ ছড়ায়নি। ঈদে গণপরিবহন চালুর সময় বিএনপি অভিযোগের তীর ছুড়েছিল। তখনও তারা ভয়াবহ আশঙ্কার কথা বলেছিল। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে?’

এ সময় বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মোশতাক-জিয়া চক্র অবৈধ ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে জাতির বিবেককে কারারুদ্ধ করে রেখেছিল- বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার শ্রমিকবান্ধব সরকার। ক্রমাগত লোকসান ঠেকাতে পাটকল বন্ধ করার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে এবং শ্রমিকদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বাস্তবসম্মত। পাটকল বন্ধের ফলে বেকার শ্রমিকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা সরকার করার আশ্বাস দিয়েছে। শ্রমজীবী মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা।’

শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টুর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু।


এখানে শেয়ার বোতাম