সোমবার, মার্চ ১
শীর্ষ সংবাদ

বাহাত্তরের সংবিধানের ৪ মূলনীতি যে কোনো মূল্যে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে: কামাল লোহানী

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: ‘সংবিধান দিবস’ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা জাতীয় কমিটি’র আহ্বায়ক কামাল লোহানী বলেন, যে কোনো মূল্যে বাহাত্তরের সংবিধানের ৪ মূলনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।

সোমবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা জাতীয় কমিটি’র উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক কামাল লোহানীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য বিনা সিকদারের সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক বদিউর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্য কামাল লোহানী বলেন, বঙ্গবন্ধুর নিষ্ঠুরতম হত্যাযজ্ঞের পর জিয়াউর রহমান এবং এরশাদ যে ধারায় সংবিধান সংশোধনী করেছিলেন সেই ধারায় বর্তমান সরকার ধর্মনিরপেক্ষতার সাথে সাংঘর্ষিক ‘বিসমিল্লাহ এবং রাষ্ট্রধর্ম’ বহাল রেখে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার পরিপন্থি কাজ করেছে। যে সরকার যুদ্ধাপরাধীর বিচার এবং রায় কার্যকর করার মতো সাহসিক দায় পালনে পিছুপা হয়নি, তারা কেন মুক্তিযুদ্ধের মহান অর্জন রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি সমৃদ্ধ বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যেতে পারলেন না, তা আমাদের তথা জাতির কাছে এক বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। তিনি দেশবাসীকে বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক বদিউর রহমান বলেন, ১৯৭১-এর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত আর অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রম হানির বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম অর্জন বাহাত্তরের সংবিধান এবং এর চার মূলনীতি। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর তারিখ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এই সংবিধান উপস্থাপনের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে সংবিধানের চার মূলনীতির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, ‘শাসনতন্ত্রের যে মৌলিক নীতির উপর ভিত্তি করে আইন হয়, সেই মৌলিক নীতির উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে অ্যাসেম্বিলিতে আইন পাশ হবে। এই মৌলিক নীতির বিরুদ্ধে কোনো আইন হতে পারবে না।’ এমন দৃঢ় প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠিত বাহাত্তরের সংবিধান আর তার চার মূলনীতি। বাঙালি জাতির মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্জন এই মহান জাতীয় দলিল, বাহাত্তরের সংবিধান। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর সামরিক জান্তা জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং জেনারেল হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানকে সংশোধনের নামে ছিন্ন ভিন্ন করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে জাতিকে দূরে সরিয়ে নেয়ার অপচেষ্টায় মেতে ওঠে। সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ এবং রাষ্ট্রধর্ম’ যুক্ত করে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিতে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশকে ৪৭-এর দ্বিজাতিতত্ত্বের দিকে ফিরিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনীতে বেশকিছু ইতিবাচক সংশোধনী এলেও ‘বিসমিল্লাহ এবং রাষ্ট্রধর্ম’ বহাল রাখায় সংবিধান একটি সাংঘর্ষিক দলিলে পরিণত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাহাত্তরের সংবিধান সামগ্রিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ বেশকিছু দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রাষ্ট্রীয়ভাবে ৪ নভেম্বরকে ‘সংবিধান দিবস’ ঘোষণা এবং যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন, রাষ্ট্রপরিচালনায় রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা, সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ-এর পরিপন্থি ধর্মভিত্তিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা এবং বাংলাদেশ বসবাসরত বিপুলসংখ্যক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, দপ্তর বিভাগের সচিব ইকবালুল হক খান, বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা কমিটির সদস্য মানবেন্দ্র দেব, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল, সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় প্রমুখ


এখানে শেয়ার বোতাম