শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪

বালিয়াডাঙ্গীতে এক কেন্দ্রেই ৪৬ জন ভুয়া পরীক্ষার্থী সনাক্ত

এখানে শেয়ার বোতাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :: চলমান পিইসি ও ইবতেদায়ী পরীক্ষায় একজন নয়, দুজন নয় একে একে খুঁজে পাওয়া গেল ৪৬ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে। সেটাও আবার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় চলমান ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এসব ভুয়া পরীক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে জেলার বালিয়াডাঙ্গী কালমেঘ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসব পরীক্ষার্থীদের শনাক্ত করেছেন ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্র সচিব ও কালমেঘ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হযরত আলী।

কেন্দ্র সচিব বলেন, পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিন থেকে সন্দেহ হয়েছিল আমার। সঠিক প্রমাণের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। অনুসন্ধানে সত্যতা পেয়ে বুধবার (২০ নভেম্বর) একজন ও আজ বৃহস্পতিবার আরও ৩৬ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। জানা যায়, গতকাল একজন শনাক্ত হওয়া লালাপুর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার সকল পরীক্ষার্থীই ভুয়া। বাকি নয়জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেউ আজকের পরীক্ষায় অংশ নিতে আসেনি।

ভুয়া পরীক্ষার্থীরা হলেন- লালাপুর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার ১০ জন, ছোট পলাশবাড়ী বলিদ্বারা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার আটজন, রায়পুর সাজাদ আলী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার ১১ জন, আরাজি সরলিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার ছয়জন এবং লালাপুর সফিজ উদ্দীন স্বতন্ত্র মাদরাসার ১১ জন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলমান জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের ৬০০ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য করান মাদরাসার প্রধানরা। ভুয়া পরীক্ষার্থীদের বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায়। এরা চলতি বছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা দিয়েছে।

গত বুধবার ভুয়া পরীক্ষার্থী শনাক্ত হওয়া লালাপুর গ্রামের এক শিক্ষার্থী জানায়, লালাপুর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও তার ছেলে ৬শ টাকার লোভ দেখিয়ে আমাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে বলে। আমাদের কোনো সমস্যা হবে না, বাকি সবকিছু তারা ম্যানেজ করেছেন বলে জানায় ওই শিক্ষার্থী।

এ দিকে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, তার ছেলের জেএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আবার অন্য মাদরাসার হয়ে পরীক্ষা দিয়েছে। ধরা পরার পর এ বিষয়টি জানতে পেরেছেন তিনি।

এমন চিত্র ধরা পরা পাঁচটি মাদ্রাসার সকল পরীক্ষার্থী ভুয়া। এসব মাদরাসার সকলেই প্রতি বছর ভুয়া পরীক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা দিয়ে ও ফলাফল দেখিয়ে বেতন ভাতা উত্তোলন করে খাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল আলম সুমন জানান, বৃহস্পতিবার পরীক্ষা কেন্দ্রে শনাক্ত হওয়া ভুয়া পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকের নিকট মুচলেকা নিয়ে ৩৬ জন পরীক্ষার্থীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল একজনকে একই ভাবে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া শনাক্ত হওয়া পাঁচ মাদরাসা প্রধানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে জানা গেছে, উপজেলার সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোর সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার। ভুয়া পরীক্ষার্থী শনাক্ত হওয়া কেন্দ্রে ৬২৭ জন পরীক্ষার্থী চলমান ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে প্রাথমিকের ৫৫০ জন এবং মাদরাসার ৭৭ জন পরীক্ষার্থী। মাদরাসার ৭৭ জনের মধ্যে ৪৬ জনই ভুয়া।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন মন্ডল জানান, পরীক্ষায় ডিআর ফরম অনুসারে প্রবেশপত্র ইস্যু করা হয়। ছবির সঙ্গে নামের মিল আছে কিনা তা যাচাই করে মাদরাসা সুপার স্বাক্ষর করার পর আমি প্রবেশপত্রে স্বাক্ষর করি। এত শিক্ষার্থীর ছবি কিংবা সে সঠিক পরীক্ষার্থী কি না তা চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। তবে মাদরাসা সুপাররা নিজেদের যোগসাজশে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, পরীক্ষার আগের দিন নতুন করে পরীক্ষার্থী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার ১০ জন পরীক্ষার্থীকে। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশেই এ কাজ হয়েছে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে গত রবিবার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নাগেশ্বরবাড়ী গ্রামের ওয়ালিউর রহমানের মেয়ে বাকপ্রতিবন্ধী মেধাবী ছাত্র লিসা আক্তারের প্রবেশপত্রে নাম, পিতার নাম ও মাতার ভুল হয়েছিল। উপজেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও লিসা আক্তারের ভুল প্রবেশপত্র সংশোধন করে দেয়নি কর্তৃপক্ষ। অথচ পরীক্ষার আগের দিন ১০ জন পরীক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করেছে শিক্ষা কর্মকর্তা। এমন খবরে এলাকায় সমালোচনার ঝড় চলছে।


এখানে শেয়ার বোতাম