বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২১

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জিন্দাবাদ

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 151
    Shares

কফিল উদ্দিন মোহাম্মদ ::

সাত বছর! অর্ধ যুগের বেশি সময়। কিন্তু মনে হচ্ছে এই তো সেদিন ঢাকায় এসে বন্ধু অন্তু চন্দ্র নাথকে জানিয়েছিলাম মনের সুপ্ত বাসনা। আমি ছাত্র ইউনিয়ন করবো। অন্তু পরিচয় করিয়ে দিলো- উনি জিলানী ভাই, উনি মঈন ভাই, উনি সজীব ভাই (জাহিদুল ইসলাম সজীব), উনি আমাদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শুভ ভাই। টিএসসি-তে গিয়েই পরিচিত হলাম কনক হায়াত, ফ্লোরা, শাহাদাত, অনিক রায় সহ আরও অনেকের সাথে। সংগঠন করতে চাই, এই কথা বলার তৃতীয়দিন নেমে পড়তে হলো কমিউনিস্ট পার্টি সমাবেশের প্রচারনার কাজে। সেইদিন প্রথমবার মাইকে পার্টির প্রচারে অংশ নিলাম। এরপর কত লড়াই কত সংগ্রাম, কত আনন্দ-কত বিচ্ছেদ দেখেছি, তার ইয়াত্তা নেই।

দেখেছি কি অবলীলায় আমাকে একটা গ্রুপের লোক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে গেছে। দেখেছি রাজনীতির ভিতর কিভাবে ‘পলিটিক্স’ চর্চা হয়। কিভাবে আরও কত কিছু করতে হয়!

শুরুতে প্রচুর ক্ষোভ জন্মেছিল নিজের মধ্যে। আস্তে আস্তে নিজের স্বতন্ত্রতা তৈরির চেষ্টা চালিয়েছি। ক্যাম্পাস ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতির চর্চার চেষ্টা করেছি। আন্দোলনের জন্য ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কিত হয়েছি। আরও কত কি যে দেখা হয়েছে এই সাত বছরে, তার হিসেব নেই।

ছাত্র ইউনিয়ন মানুষ গড়ার কারিগর। তবে ছাত্র ইউনিয়ন থেকে যে সবাই মানুষ হয়ে বের হয়, সেটা জোর দিয়ে বলছি না। মাঝে মধ্যে যান্ত্রিক গোলযোগে দুই একজন অমানুষও তৈরি হয়ে যায়। ছাত্র ইউনিয়নে আমার অংশ নেয়া প্রথম সাংগঠনিক কর্মশালায় প্রাক্তন সভাপতি এস এম শুভ ভাই বলেছিলেন, ‘ছাত্র ইউনিয়নে কেউ পীর কিংবা ফেরেশতা না’। সেটা পুরো ছাত্র রাজনীতির সময়েই টের পেয়েছি। ছাত্র ইউনিয়ন আমাকে অনেক দিয়েছে। শুধু আমাকে নয়, ছাত্র ইউনিয়ন সবাইকেই দেয়। ছাত্র ইউনিয়ন করতে এসেই কথা বলতে শিখেছি, লড়াই করতে শিখেছি, অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার শিক্ষা পেয়েছি। এক কথায় প্রাপ্তির খাতা পূর্ণ। অনেকেই হয়তো ছাত্র ইউনিয়ন করে বড় বড় নেতা হয়, কিন্তু সত্যিকারে ছাত্র আন্দোলনে জয়ী সবাই হতে পারে না। আমি সেই বিরল সৌভাগ্যবানদের একজন, যারা ছাত্র ইউনিয়ন করেছি বলেই একটা ছাত্র আন্দোলনকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সফলতার পথে নিতে পেরেছি।

ছাত্র ইউনিয়নের থেকে প্রাপ্তির প্রতিদান দেয়া কষ্টসাধ্য। তবে, ছাত্র ইউনিয়নের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে যদি সমাজ-প্রগতির লড়াইকে অগ্রসরমান করতে পারি, সাম্য-শোষনহীন-ইনসাফের সমাজ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারি, তাহলে হয়তো বা প্রতিদান কিছু দেয়া হবে। নিশ্চয় আমার মাঝে সেই চেষ্টা থাকবে। নিশ্চয় লাল ঝান্ডা হাতে শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে, মানুষের অধিকার আদায়ের মিছিলে আমৃত্যু নিজেকে সামিল রাখবো।

অনেকেই জিজ্ঞেস করছেন, ছাত্র রাজনীতির শেষে কি করবো। আপাতত একটা বিরতির প্রয়োজনীয়তা বোধ করছি। তবে অনেকদিনের লালিত স্বপ্ন, অনেকদিনের ইচ্ছা গার্মেন্ট সেক্টরের শ্রমিকদের অধিকার আদায়, মজুরি বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করবো, মালিকপক্ষের শোষণ বিরুদ্ধে আন্দোলনে যুক্ত হবো। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো, যদি সকলের সহযোগিতা পাই। আশা করি ছাত্র আন্দোলনের দিনগুলোতে যাদের সহযোগিতা, সমর্থন এবং শুভকামনা পেয়েছি, তাদের সকলকে আগামিতেও পাশে পাবো।

ছাত্র ইউনিয়নকে বিদায় বলা কষ্টের, তবু বিদায় নিতে হয়। ভালো থাকুক বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জিন্দাবাদ।।

লেখক : সাবেক ছাত্রনেতা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 151
    Shares