মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জেগে উঠবে মরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই

এখানে শেয়ার বোতাম

বেলায়াত হোসেন মামুন :
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াবে কারণ বাংলাদেশের মানুষ চলচ্চিত্র ভালোবাসে। বাংলাদেশের মানুষ অন্য যে কোনো দেশের মানুষের চেয়ে বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র দেখেন। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ডিভাইসে মানুষ চলচ্চিত্র দেখেন।ঘরে দেখেন, দোকানে বসে দেখেন, মোবাইলে দেখেন।মূল কথা মানুষ চলচ্চিত্র দেখেন। এই যে চলচ্চিত্র দেখেন এবং দেখতে ভালোবাসেন এটাই প্রথম কারণ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ঘুরে দাঁড়াবার।

এছাড়া আর যে যে কারণে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আজ এতটা ধ্বসে গেছে ঠিক সেই কারণগুলোর জন্যই এদেশের চলচ্চিত্র আবার ঘুরে দাঁড়াবে। যেমন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সে অর্থে পেশাদারিত্ব কখনও ছিলো না, আগামীতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পেশাদার হবে।শক্তিশালী পেশাদার কাঠামো থাকলে চলচ্চিত্র দিন দিন ক্রমাগতভাবে শক্তিশালী হবে।

চলচ্চিত্র শিক্ষার সঙ্কট আমাদের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় দূর্বলতা ছিলো। আগামীদিনে এই সমস্যাটিরও সমাধান হয়ে যাবে। অনেক তরুণ চলচ্চিত্র বিদ্যায় প্রশিক্ষিত হচ্ছেন দেশে ও বিদেশে।তাদের কাজের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রক্রিয়ার বদল ঘটবে।এছাড়া আমাদের চলচ্চিত্রের সৃজনশীলতার সঙ্কটটিও ধীরে ধীরে দূর হবে।নতুন নতুন বহু মানুষের অংশগ্রহণ এই মাধ্যমে সৃজনশীল কাজের পরিসর তৈরি করবে। আর তাছাড়া নকল, বাজে কাজ দিয়ে কেউ আর বেশি দূর টিকে থাকতে পারবেন না।

কারণ দেশের মানুষ আজ দুনিয়ার সকল চলচ্চিত্রই দেখতে পাচ্ছেন, তাই তাঁকে বোকা বানানোর সুযোগ আর নেই।এটা জেনে বুঝে আগামীদিনের নির্মাতাগণ চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন বা তাদের সৃজনশীলতার এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে।এ ছাড়া অন্য কোনোভাবে কেউ টিকেও থাকতে পারবেন না। এছাড়া দেশে চলচ্চিত্রের আধুনিক হল বা সিনেপ্লেক্স হচ্ছে। ধীরে ধীরে হলেও সারাদেশে সিনেপ্লেক্স সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়বে।সিনেমা ব্যবসার স্বাভাবিক বিকাশের ফলেই সারাদেশে অনেক সিনেপ্লেক্স হবে। তাই নতুন পরিবেশে দেশের মানুষ আবার সিনেমাহলমুখি হবেন।এই পরিবর্তন হয়ত খুব দ্রুত হবে না, তবে হবে।

এর বাইরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশের সরকার যত দ্রুত চলচ্চিত্রকে ‘সংস্কৃতি’ হিসেবে গ্রহণ করবে দেশের চলচ্চিত্রেরচর্চার পরিবেশ তত দ্রুত তৈরি হবে। দেশব্যাপি চলচ্চিত্র-সংস্কৃতির চর্চা বর্তমানে বাড়ছে।ডিজিটাল প্রযুক্তি তরুণদের চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহিত করছে।হাজারো তরুণের অপেশাদার এই উৎসাহ যখন পেশাদার মনোভাবে রূপান্তরিত হবে তখন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গুণগত মানের পরিবর্তন হবে।

চলচ্চিত্র এখনও বহু তরুণের শখ হিসেবে আছে, এটা যখন পেশায় রূপান্তরিত হবে তখন দেশের চলচ্চিত্রের প্রতি এই হাজারো তরুণের সিরিয়াসনেস দেশের চলচ্চিত্রের পুরো কাঠামোকে নতুন করে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। আমি তাই আশাবাদি।এটা হবে।না হওয়ার কোনো কারণ নেই…

লেখক-নির্মাতা ,সভাপতি, ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি


এখানে শেয়ার বোতাম