শুক্রবার, জানুয়ারি ২২

বশেমুরবিপ্রবিতে এক ছাত্রীকে ফোন দেয়াকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) এক ছাত্রীকে ফোন দেয়াকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। এতে উভয় বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখনো সংঘর্ষ চলছে।

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের সাথে আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী অন্তিকের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা অঙ্কিতকে মারধর করে। পরবর্তীতে অঙ্কিতকে উদ্ধার করতে এবং বিষয়টি মিমাংসা করতে তার সহপাঠী সহ আইন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী আসেন। কিন্তু এসময় তাদের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ হয়।

পরবর্তীতে দুই বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের লিপুজ ক্যান্টিনের সামনে অবস্থান নেন। এসময় তাদের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয় এবং দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান, আইন অনুষদের ডিন মোঃ আব্দুল কুদ্দুস মিয়া, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মো. হাসিবুর রহমানসহ অন্যান্য শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। সংঘর্ষে আইন বিভাগের প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ৬ জন শিক্ষার্থী আহত হন। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দুজন এবং আইন বিভাগের তিনজন বর্তমানে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হামলা শেষে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের চেয়ার কেড়ে নিয়ে তাদের লাঞ্চিত করেন। চেলে যাওয়ার সময় তারা পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, মার্কেটিং বিভাগ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং ফিজিক্স ভিাগের জানালা ভেঙ্গে চলে যায়।

এ বিষয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী অঙ্কিত জানান, ‘‘গত ২৯ জানুয়ারি বাসে খুলনা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শাওনের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে সে আমার কাছে আমার ফোনটি চায় এবং তার এক বান্ধবীকে কল দিয়ে কিছু সময় কথা বলে। পরবর্তীতে তার ওই বান্ধবী আমাকে পুনরায় কল দেয়। আমি ওই সময়ে ব্যস্ত থাকায় কল রিসিভ করতে পারিনি এবং পরবর্তীতে কল রিসিভ করলে সে আমার সাথে দেখা করতে চায়। আমি তাকে রবিবার দেখা করার কথা বলি। আজ সে যখন আমার সাথে আমার সাথে দেখা করে তখন পলিটিকাল সায়েন্স বিভাগের দুজন শিক্ষার্থী এসে আমার পরিচয় জানতে চায় এবং আমি আমার পরিচয় দেয়ার পরপরই আমাকে মারতে শুরু করে। আমার সাথে থাকা সহপাঠী ঘটনাটি বিভাগের অন্যান্যদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে যায়। তখন তাদের ওপরও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ হামলা করে”।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফ জানান, ‘‘অঙ্কিত দীর্ঘদিন যাবৎ ফেসবুকে আমাদের এক ছোটো বোনকে উত্তক্ত করছিলো। এ বিষয়টি সমাধানের জন্য আইন বিভাগের অঙ্কিতকে আমরা ডাকি। এসময় আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা কোনো কারন ব্যতিতই আমাদের ওপর হামলা করে।’’ এসময় তিনি এও অভিযোগ করেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাজিউর রহমানের নেতৃত্বে হামলা হয়।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মেয়েটির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে ফোন কেটে দেন এবং তার সাথে সরাসরি কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রকৃটরের পদত্যাগ দাবি করেছেন এবং একাধিকবার রড লাঠি সহ প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


এখানে শেয়ার বোতাম