রবিবার, জানুয়ারি ২৪

বরিশালে অনশন কর্মসূচি ২য় দিন , দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদ বন্ধ, প্রয়োজনীয় নীতিমালার ভিত্তিতে নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল এবং প্রশাসন কর্তৃক জব্দকৃত প্রায় ২ কোটি টাকা অর্থমূল্যের ব্যাটারি ও মোটররিকশা শ্রমিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বরিশালে শ্রমিকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি চলছে।

বুধবার (০২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় নগরের অশ্বিনী কুমার হল চত্ত্বরে শুরু হওয়া এ অনশন কর্মসূচি ২য় দিন চলছে।

বেশ কয়েকজন অনশনকারী অসুস্থ বোধ করেন। অনশনস্থলে বসেই যাদের শারীরিক অবস্থা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে দেখা গেছে জেলা বাসদের সদস্য সচিব রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা ডা. মনীষা চক্রবর্তীকে।

অনশন পালনকারী শ্রমিকরা বলেন, গত ১৯ আগস্ট থেকে কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বরিশাল শহরে দফায় দফায় ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদের নামে নির্মম প্রশাসনিক অভিযান চলছে। প্রায় দুই মাসব্যাপী এই অভিযানে এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক করা হয়েছে এবং প্রায় প্রতিটি গাড়ির ব্যাটারি-মোটর খুলে রাখা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি দরিদ্র রিকশা চালকরা শিকার হয়েছেন নানাবিধ আর্থিক হয়রানি ও নির্যাতনের।

এদিকে অনশনের শুরুতে ডা. মনীষা চক্রবর্তী রিকশা শ্রমিকদের এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা এবং ধারাবাহিক আন্দোলনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে এসেছি। প্রশাসনের সঙ্গে রিকশা শ্রমিকদের সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছি, কিন্তু কেউই কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ অবস্থায় রিকশা শ্রমিকদের আমরণ অনশন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা ছিল না। এমনিতেই শ্রমিকেরা বাসাবাড়িতে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। সেই অনাহারে থাকাটা রাজপথে জনগণের সামনে হওয়াটাই ভালো।

ডা. মনীষা চক্রবর্তী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এটা কোনো প্রতীকী অনশন নয়, শ্রমিকদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমি এই শ্রমিকদের সঙ্গে আমরণ অনশনে অংশ নেবো এবং এ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশাসন এবং সিটি কর্পোরেশন দায়ী থাকবে।

অনশন কর্মসূচি পালনকারীরা জানান, প্রথম দিনে কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাসদ বরিশাল জেলার আহবায়ক ইমরান হাবীব রুমন, গণফোরাম বরিশাল জেলার সভাপতি এডভোকেট হিরণ কুমার দাস, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বরিশাল জেলার সভাপতি মিজানুর রহমান সেলিম, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক জলিলুর রহমান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক দুলাল মজুমদার, গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলার আহবায়ক দেওয়ান আব্দুর রশীদ নীলু।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ‌্যে বক্তব‌্য দেন বাংলাদেশ নৌযান ফেডারেশন বরিশাল জেলার সভাপতি শেখ আবুল হাশেম, বাংলাদেশ হোটেল রেস্তোরাঁ শ্রমিক ইউনিয়ন বরিশাল জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ বাবুল, দর্জি শ্রমিক ইউনিয়নের আহবায়ক তুষার সেন, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা বাবুল তালুকদার, মোঃ দেলোয়ার, মোঃ সোহেল, শ্রমিক ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সহসভাপতি মহসিন মীর প্রমুখ।

অনশনস্থলে এসে আরো সংহতি জানান ছাত্র বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন বরিশাল জেলার আহবায়ক নবীন আহমেদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক সাগর, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বরিশাল জেলার সাধারন সম্পাদক রাহুল দাস।

সংহতি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের দাবি অবিলম্বে মেনে নিয়ে শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের জীবন রক্ষার আহ্বান জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম