শনিবার, মে ৮
শীর্ষ সংবাদ

বরিশালবাসীর প্রতি ব্যাটারিচালিত রিক্সা শ্রমিকদের খোলা চিঠি!

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: বরিশালের রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন এবং সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের উদ্যেগে বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া রিকশা উচ্ছেদ না করা এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যাটারি চালিত যানবাহনের অনুমোদন প্রদানের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে লড়াই-সংগ্রাম করে আসছে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তারা আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে তারা বরিশালবাসীর খোলা চিঠি দিয়েছেন।
চিঠি টি হুবহু তুলে ধরা হলো:

প্রিয় বরিশালবাসী,
বরিশালের রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন এবং সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা নিবেন। এ কথা আমরা সবাই জানি যে, ২০১০ সাল থেকে অর্থাৎ বিগত ৮/৯ বছর থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে আমরা বরিশাল শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে এসেছি। আমরা সবসময়েই বলেছি এই আধুনিক যুগে রিক্সা চালানো এক অমানবিক পেশা কিন্তু বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া কোনো মানুষকে তার পেশা থেকে উচ্ছেদ করা মানেই পুরো পরিবারকেই রাস্তায় নামানো। তাই বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া রিকশা উচ্ছেদ না করা এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যাটারি চালিত যানবাহনের অনুমোদন প্রদানের দাবিতে আমরা ধারাবাহিকভাবে লড়াই-সংগ্রাম করে এসেছি।

বারবার এই রিক্সা উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করা হলেও বরিশালবাসীর সহযোগিতায় এবং রিক্সা শ্রমিকদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা সবাই মিলে সেই সংকট মোকাবেলা করেছি। এই আন্দোলনকে আমরা সবসময়ই যুক্তিক এবং তার নৈতিক মনে করি। কারণ প্রযুক্তির উন্নয়ন মানে তো মানুষের কঠিন পরিশ্রম কে সহজতর করা। সারাদিন দুপায়ে প্যাডেল ঘুরিয়ে রিকশায় যাত্রী পরিবহন করাটা যে কত অমানবিক পরিশ্রমের কাজ আমরা সবাই জানি। অথচ এই অমানবিক পরিশ্রম করেও বাড়ি ভাড়া, খাবার খরচ, সন্তানের খরচ চালাতে হিমসিম খেতে হয়। আবার পরিশ্রম শেষে এনজিওদের ঋনের বোঝা তো আছেই। ফলে দিন দিন রিক্সার চাকা ঘুরানোর চেয়েও সংসারের চাকা ঘুরানোটা বেশি কষ্টকর হয়ে পরেছে।

বর্তমানে কথায় কথায় ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলা হয়। তাহলে এই ডিজিটাল বাংলাদেশ এর সুযোগ সুবিধা কি শুধুই ধনীদের জন্য? গরিব খেটে খাওয়া মানুষ কি তাদের পরিশ্রমকে কমানোর জন্য, আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য বাজারে একটু বাড়ানোর জন্য কি প্রযুক্তি ব্যবহার করবে না!
আমাদের এই রিক্সার কথা আসলেই বিদ্যুৎ অপচয়ের কথা আমরা শুনি। ঢাকা শহরে একটা বিল্ডিং এ শতাধিক এসি ব্যবহার করতে দেখি। অথচ আমরা জানি, একটা রিক্সা সারাদিন চলতে বিদ্যুৎ খরচ হয় ২/৩ ইউনিট। অথচ একটা এসিতে ঘন্টায় ৩ ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে। অর্থাৎ একটা বড় বিল্ডিং এর ১০০ এসির দৈনিক বিদ্যুৎ দিয়ে প্রতিদিন ৫০০ রিকশা অর্থাৎ ৫০০ পরিবার চালাতে পারে। আর আমরা তো এই বিদ্যুৎ টাকা দিয়েই কিনে ব্যবহার করি। তাই আমারও অনেক সময় প্রশ্ন করেছি, অপচয় কোনটা? দিনে ২/৩ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে ৫/৬ জনের একটা বড় পরিবার চালানো নাকি ১২-১৬ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে শরীর জুড়ানো?

আমরা বলতে চাই, আমাদের রিক্সা ডিজাইনজনিত ত্রুটি থাকলে সেটার বিকল্প ডিজাইন করা হোক। যানজটের সমস্যা হলে আমাদের জন্য বিকল্প রাস্তা প্রস্তাব করা হোক। তার কিছু না করে শুধুমাত্র নির্যাতন ও উচ্ছেদ করে আমাদের পথে বসিয়ে দেয়া, আমাদের পরিবারকে না খেয়ে থাকার দিকে ঠেলে দেয়াই কি সমাধান?

প্রিয় বরিশালবাসী,
আমরা আপনাদের দীর্ঘদিন রিক্সায় টেনে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছি। আপনাদের সন্তানেরা আমাদের রিকশায় করে নিরাপদে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গিয়েছে, আপনাদের পরিবারের অসুস্থ সদস্যকে আমরা দ্রুততার সাথে পৌঁছে দিয়েছি হাসপাতলে, অথচ আজ আমরা আমাদের সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারছিনা, তাদের স্কুলের বেতন দিতে পারছিনা,বৃদ্ধ বাবা-মার ঔষধ, এনজিওর কিস্তি এই সবকিছু যা আমাদের ব্যাটারি চালিত রিক্সার উপর নির্ভর করে চলতো, তা সবই এখন আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের এই দুর্দিনে আমরা আপনাদের পাশে চাই, আপনাদের সহযোগিতা চাই। আমাদের পাশে দাড়ান, আমাদের জীবন জীবিকার রক্ষার পক্ষে আপনার মতামত দিন, সক্রিয়ভাবে আমাদের সমর্থন দিন!


এখানে শেয়ার বোতাম