বুধবার, ডিসেম্বর ২

বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, কবলিত হতে পারে ২৩ জেলা: প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার এনামুর রহমান বলেছেন, আগামী এক সপ্তাহে ২৩ জেলা বন্যা কবলিত হতে পারে। বন্যা হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী।

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এসময় প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে ১৭টি জেলা বন্যা কবলিত হয়েছে। বন্যাকবলিত ১২টি জেলায় এক হাজার ৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ২০ হাজার ১০ জন ইতিমধ্যে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন করে আরো ২৩ জেলা বন্যা কবলিত হতে পারে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বন্যা মোকাবিলার জন্য এ পর্যন্ত ২৩টি জেলায় ৮ হাজার ২১০ মেট্রিক টন চাল, ২ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৭০ হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট, গবাদি পশুর খাদ্যের জন্য ৪৮ লাখ টাকা ও ৪৮ লাখ টাকা শিশুখাদ্যের জন্য বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৩০০ বান্ডিল টিন ও ৯ লাখ টাকা গৃহ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।আমরা প্রত্যেক জেলায় সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছি। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও প্রত্যেক জেলায় মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। আমরা মনিটরিং করছি।

এনামুর রহমান আরও জানান, ইতিমধ্যে আমরা যে বরাদ্দ দিয়েছি আশা করি যে অন্তত কয়েকদিন চলবে। তারপরও আমরা প্রস্তুত আছি, আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে। আমরা সার্বক্ষণিক বন্যাকবলিত অসহায় ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়াতে পারবো। কোনো অবস্থাতেই বন্যাকবলিত একটি মানুষও খাদ্যকষ্টে থাকবে না। এটাই আমাদের ত্রাণ বিতরণের মূল এ অ্যাজেন্ডা।

এদিকে, কুড়িগ্রামে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন পানিবন্দী দেড় লক্ষাধিক মানুষ। ডুবে যাওয়া বাড়িঘর ছেড়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে।

এছাড়া, গাইবান্ধায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে সবগুলো নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপে হুমকিতে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

এছাড়া, জামালপুরে যমুনা, ব্রহ্মপুত্রসহ শাখা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি রয়েছে ৩ লাখের বেশি মানুষ। সুপেয় পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, নীলফামারীতে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কমেনি মানুষের। নানা সংকটে পানিবন্দি ১৫টি ইউনিয়নের ২০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ চরমে। আর, কয়েকদিনের টানা বর্ষণ আর উজানের ঢলে পঞ্চগড়ের সব নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। করতোয়া নদীর কাঠের সাঁকো ভেঙে লাখো মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

ফেনীর মুহুরী-কহুয়া নদীর পানি কমায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ফুলগাজী ও পরশুরামে বেড়ি বাঁধের ৯ স্থান ভেঙ্গে ২০ গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। ঘরবাড়ি, শত শত পুকুরের মাছ ও ফসল ভেসে গেছে।

এদিকে, সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমলেও হাওড়ের পানি কমেনি। সিলেটে সুরমাসহ বিভিন্ন নদীর পানি কিছুটা কমেছে। এখনো কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের হাজারো পানিবন্দি মানুষ কষ্টে দিন পার করছেন। লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও কমেনি মানুষের দুর্ভোগ।


এখানে শেয়ার বোতাম