বুধবার, জানুয়ারি ২০

বন্ধু আয়শা তোমাকে জানাই রক্তিম সালাম

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 69
    Shares

শেখর দত্ত ::

লিখতে বসেই ভাবলাম করোনাকালে হেডিংটা পাল্টিয়ে ‘সকালের বিষাদময় ভাবনা’ শব্দটা বসাবো কি না। ইচ্ছে করেই পাল্টালাম না। বিষাদে থাকতে চাই না। তবে প্রিয় সাথী-সহকর্মী বন্ধুদের মৃত্যুর খবর কেন যেন কেবল সকালেই পাচ্ছি। প্রিয় বন্ধু আয়শার খবরও পেলাম সকালেই। ‘যার হয় ক্যানসার/তার নাই আনসার’ কথাটা আয়শার জীবনে সত্য হয়ে উঠলো। ছোট ছেলে অতনুকে টেলিফোন করে প্রতি রাতে ঘুমাতে যাই। আভা বলে, ওর সাথে কথা বললে ঘুম ভাল হয়। গতরাতে ওকে টেলিফোনে পাইনি। বিছানা ছেড়ে উঠেই বলল, ‘অন্তুকে টেলিফোন কর।’ কিন্তু বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করছিল না। ক্রমে লাল হওয়া পুবের আকাশের দিকে তাকিয়ে অবাক বিস্ময়ে আকাশ-পাতাল, অতীত-বর্তমান ভাবছিলাম।

বিছানা সবে ছেড়েছি। বন্ধু মুকুল চৌধুরীর ফোন, ‘আয়শা নেই।’ দুজনের কেউ-ই কথা বলতে পারছিলাম না। বাসাটায় যেন কবরের নীরবতা। গৃহকর্মী রাহেলারও প্রিয় আয়শা। বাসায় কখনও এলে আয়শা ওর সাথে কথা বলতো। তাই গুণমুগ্ধ। প্রচণ্ড আকর্ষণী ক্ষমতা ছিল আয়শার। সেজন্যই সে জীবনের প্রথম থেকেই আন্দোলন-সংগঠনের নেত্রী। কথা রাহেলা একটু বেশিই বলে। বিশেষত সকালে। কিন্তু কিছুক্ষণ আল্লাহকে ডেকে সেও নীরব হয়ে গেছে। প্রিয় এক মানুষের মৃত্য! কিন্তু এটাই বাস্তব, কারো মৃত্যু অন্য কারো জীবনের গতিকে স্তব্ধ করতে পারে না। চরমতম শোকের মধ্যে আজও সকালে আমরা পারিনি।

জীবনের সময়কে আরো বৃদ্ধি করতে নীরবে ডাইনিং টেবিলে বসে আভার একে একে দেওয়া চিরতা ও ত্রিফলা ভেজানো পানি, মেথি-কালোজিরা, আদা-তুলসীপাতা, গরম পানিতে লেবু প্রভৃতি সব খেতে খেতে ভাবলাম, এসব কিছুই আর আমার জীবনে এখন ভগ্নদূতের শেষ ঘন্টাকে দূরের বাদ্য করতে পারবে না। সময় হয়ে গেছে, ঘন্টা বাজলো বলে। একসময় নীরবতা ভাঙলো। আকাশে রোদ নেই।

আভা তখন বলে চলেছে, ঢাকায় এসে রোকেয়া হলে আয়শার সিটে ডাবলিং করার গল্প। ওর বাবা রোকেয়া হলে এসে নড়াইলের ছেলে মেডিকেল ছাত্র বিপুল মিত্রের (মেডিকেল কলেজের ছাত্র নেতা, লন্ডন প্রবাসী) কথামতো আয়শার কাছে ওকে তুলে দিয়ে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘ভালো মেয়ে আয়শা। ওর কথামতো চলবে।’ সেই পথে চলতে চলতে আভা আজ এখানে। আমাদের আবেগ-অনুভূতি আজ মাপঝোক মানছে না।

আয়েশা আমার এক বছর পর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। ওইবার নেত্রকোণা থেকে দুইজন ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী এসেছে, আয়শা- মুনীরা। মানিক- জোড়। দুজনেই সমাজ বিজ্ঞানের ছাত্রী। পরিচয় ইতোপূর্বে হয়ে গেছে। বিখ্যাত সমাজ বিজ্ঞানী রঙ্গলাল সেন ওই বিভাগের শিক্ষক হিসাবে সবে যোগ দিয়েছেন। একদিন তিনি বললেন, ‘আয়শাকে চেন। বেশ ভালো মেয়ে।’ তারপর ওর প্রতি আগ্রহ বেড়ে গেলো। একসময় এক ক্লাশ নিচে পড়া ‘ভালো মেয়েটা’ আমার বন্ধু হয়ে গেলো। বড় হলেও আমার নাম ধরে ডাকাটা ছিল স্বাভাবিক। কেননা ও যে আমাদের প্রিয় মোর্তুজাভাইয়ের (ইঞ্জিনিয়ার, প্রয়াত, আদমজীতে ট্রেড ইউনিয়নের নেতা ছিলেন) স্ত্রী হবেন।

আয়শার মৃত্যুর খবর শুনে রীনা আপাকে টেলিফোন করলাম। কাঁদছিলেন। একসাথে রোকেয়া হলে ছিলেন। আয়শা খানম ভিপি ও রীনা খান জিএস। কত স্মৃতি! তিনি বললেন, ‘একবার আয়শা আপাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম এত সুন্দর বক্তৃতা দিতে শিখলেন কিভাবে?’ উত্তরে আয়শা বলেছিল, ১৯৬৫ সালে গুলিস্তান কামানের মোড়ে সবাই মিলে রিকশা উঠিয়ে দেয় পথসভায় বক্তৃতা দিতে।’ ছবিটা চোখের সামনে ভাসাতে চেষ্ঠা কললঅম। সেই শুরু। তারপর আর থামে নি আয়শা। দমবার তো আর পাত্রী নয়! মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও মহিলা পরিষদের এক জুম মিটিং-এ সে বক্তব্য রেখেছে।

আমরা চারজন- সামসুদ্দোহা, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আবুল হাসনাত (সদ্য প্রয়াত) ও আমি খুব খেপাতাম আয়শাকে, বিশেষভাবে মোর্তুজাভাইকে নিয়ে। খুব মজা পেতো সে। লাল হয়ে যেতো। পাবে না কেন? কাঁচা বয়সের প্রেম। প্রথমে আমরা ডাকতাম, ইউ কে কে। তুমি কে কে! ওটা ছিল ওর নামেরই অংশ, আয়শা ইউ কে কে খানম। এক সময় হাসনাতভাইয়ের কবিমন ওর নাম দিলো ‘বাতাসী’। বাতাসের মতো আসে আর যায়। সামসুদ্দোহাভাই ওর মৃত্যুর পর আজ ঠিকই লিখেছেন, মোর্তুজাভাইয়ের সাথে রিকশায় অফিসের একটু দূরে এসে প্রায়ই নামতো। আবার ঘড়ি দেখে কখনওবা উঠে যেতো। আমরা হাসতাম। আর খেপাতাম। কয়েকদিন চুপেচাপে রিকশা পর্যন্ত এগিয়েও দিয়েছি সন্ধ্যার পর। হোসেনী দালানের রাস্তা তো বেশ অন্ধকার ছিল।

আয়শার কাছে জগন্নাথ হলের ছাত্র হিসাবে আমরা ঋণী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার অফিস ছিল জগন্নাথ হলের দক্ষিণবাড়িতে। নতুন ভবন হওয়ার পর রেজিষ্ট্রার অফিস সেখান থেকে চলে গেল। ওটা তখন জগন্নাথ হলের খুব দরকার। সব রুমে এবং এমনকি ছাত্র সংসদ অফিস ও অডিটরিয়ামের মাটিতে পর্যন্ত নতুন ছাত্রদের এক বছরের বেশি সময় থাকতে হয়। এদিকে রোকেয়া হলেও ছাত্রী সংকুলান হয় না। ভিসি কুখ্যাত ওসমান গণি জগন্নাথ হলকে রেজিষ্ট্রার অফিস দিয়ে উত্তর বাড়ি রোকেয়া হলকে এক্সটেশন হিসাবে দিতে চাইলেন। প্রথমে ছাত্রীরা ছিল খুশি।

আমরা প্রতিবাদ করলাম। ভিসির কাছে গেলাম। এখনও কানে বাজে। রাগত স্বরে বললেন, ‘হিন্দু ছাত্রদের এত জায়গা লাগবে কেন? আমরা কি এত টাকা খরচ করে ভারতের জন্য তাদের উচ্চ শিক্ষিত করবো।’ চললো আন্দোলন। হল সংসদ তখন ছাত্র ইউনিয়নের। ভিপি সুশান্ত সরকার (প্রখ্যাত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নটরডেম কলেজ)। আমি তখন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক। হলের ছাত্রদের মত, আন্দোলনে চরমপন্থা গ্রহণ করা। উত্তেজনায় হল কাঁপছে। রাতে এই বিষয়ে গোপন কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ফরহাদভাইয়ের সাথে কথা হলো। তিনি বললেন, চরমপন্থা নয়। সংখ্যালঘুদের হল। যদি তেমন কিছু করা হয়, তবে ভয়াবহ নির্যাতন নেমে আসবে। তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে।

তাই কৌশলে অগ্রসর হতে হবে। ফরহাদভাই বুদ্ধি বাতলে দিলেন। ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি সাইফউদ্দিন মানিক তখন গোপনে মেডিকেলে থাকেন। রোকেয়া হলের ভিপি ও জিএস যথাক্রমে মালেকা বেগম ও আয়শা খানম। তারা দুজন, আমি ও সামসুদ্দোহাসহ কথা হল, রোকেয়া হল ছাত্রী সংসদ ভিসিকে বলবে আমরা জগন্নাথ হলের অংশ নিব না। নতুন হল নির্মাণ করতে হবে। আর ছাত্র ইউনিয়ন-ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বসহ ডাকসু এবং সব হল ছাত্র সংসদ ভিসিকে বলবে, মেয়েদের জন্য চাই নতুন হল। জগন্নাথ হল ওই হলেরই থাকুক।

কথামতো হলের ছাত্রলীগ নেতা সতীর্থ সুনির্মল সিংহ রায়ের (স্বাধীনতার পর দলীয় অন্তর্কহলে নিহত) সাথে কথা বললাম। খুব সখ্যতা ছিল আমাদের দুজনের। সে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে কথা বলে রাজি করালো। দুই দলের নেতারাসহ ডাকসু ও হল নিতৃবৃন্দ গেলেন ভিসির কাছে। জগন্নাথ হল ফিরে পেল রেজিষ্ট্রার অফিস আর মেয়ের আরেকটা হল নির্মাণের ক্ষেত্র প্রস্তুত হল। ওটাই শামসুন নাহার হল। ওই সময়ে মালেকা আপা ও আয়শা যেভাবে হলের মেয়েদের সামলিয়ে ডাকসুসহ সব হল সংসদের নেতাদের একত্র করে জগন্নাথ হলের পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন, তা কৃতজ্ঞচিত্তে আয়শার প্রয়াণ দিনে স্মরণ করছি।

আজ চোখের সামনে ভেসে উঠছে আয়শা রাস্তার আন্দোলনে মিছিলের সামনে স্লোগান দিচ্ছে, বক্তৃতার মঞ্চে দিচ্ছে বক্তৃতা, জেলায় জেলায় যাচ্ছে ছাত্র ইউনিয়ন সম্মেলনে। ক্লান্তি নেই। আজ অনেক কষ্ট করেও মনে করতে পারলাম না, মুক্তিযুদ্ধের সময় আয়শা আগরতলায় কোথায় শেষদিকে ছিল? বন্ধু ফওজিয়াকে (মহিলা পরিষদের কার্যকরি সভাপতি) টেলিফোন করতেই বলল, ‘প্রথমে তো আমরা সবাই ছিলাম ক্রাফট হোস্টেলে। তারপর কিছুদিন ছিল আমাদের আশ্রয়স্থলের পাশের এক ঘরে রোকেয়া (রোকেয়া হলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, এনজিও) সহ।’ তারপর কোথায় তা ফওজিয়াও মনে নেই।

চোখের সামনে ভেসে উঠলো, মোর্তুজাভাই তেজপুরে ট্রেনিং নিতে যাবেন। তারপর জীবন বাজি রেখে গেরিলা যুদ্ধ করতে হানাদার কবলিত দেশে চলে যাবেন। আর দেখা হবে কি না কে জানে! তাতেও আয়শা বিন্দুমাত্র বিচলিত হল না। হবে কেন? সেও যে মুক্তিযোদ্ধা। আমরা সবাই যে ছিলাম, দেশমাতৃকাকে মুক্ত করার লক্ষ্যে উৎসর্গকৃত।

স্বাধীন বাংলাদেশে মহিলাদের জাতীয় জীবনের সকল কর্মকাণ্ডে পুরুষের পাশে টেনে আনতে বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে যেসব মহিলা খালাম্মা সুফিয়া কামালের নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেছেন, তার মধ্যে আয়শা থাকবে সামনের সারিতে। পাকিস্তান আমলে ষাটের দশকের গণজারণের সৃষ্টিতেও সামনের সারিতে যাদের নাম থাকবে, তার মধ্যেও আয়েশা থাকবে চিরউজ্জ্বল হয়ে। দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে মহিলার যত অগ্রসর হবে, ততই আয়শা খানমের শ্রম হবে স্বার্থক।

প্রায় ৬০ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে যিনি বিশেষভাবে মহিলাদের জাগ্রত করতে ভূমিকা রেখেছেন, তাকে আসলে কি দিল আমাদের রাষ্ট্র! সকালেই দুই ছেলে শান্তনু-অতনু আয়শা মাসীর মৃত্যুর খবর পেয়ে টেলিফোন করলো। ওদের প্রশ্ন, কি দিলো আয়েশা মাসীকে রাষ্ট্র, তাঁর নিঃস্বার্থ নিবেদিত অবদানের জন্য?

উত্তর দিতে পারিনি। মাথা হেঁট হয়ে এসেছে। প্রকৃত অর্থেই যে-জাতি জাতীয় স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামের বীরদের যথার্থ সন্মান দিতে পারে না, সেই জাতি সামনের দিকে অগ্রসর হতে পদে পদে বাধাপ্রাপ্ত হয়। বাধাপ্রাপ্ত তো হচ্ছিই আমরা! কিন্তু দিনগুলো যে চলে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম শেষ হতে চলেছে। আয়শা শেষ নিঃশ্বাস যেন আমাদের গৌরব ও ব্যর্থতার কথা পাশাপাশি বলে গেল।

কত স্মৃতি! কত আর লিখবো! থাকি মিরপুরে। শান্তু-অন্তু স্কুলে পড়ে। ওদের জুতা কিনতে এসেছি এলিফ্যান্ট রোডে। জুতা দেখে ওরা বলল, ‘নাইক’ ও ‘এডিডাস’ জুতা ছাড়া কিনবে না। কোনোদিন ওরা বায়না ধরে না। কিন্তু আজ কি হলো কে জানে! গো ধরলো! আভা টাকা যা নিয়ে এসেছে, তাতে একটা কেনা যায়, দুটো নয়। কি করা! আরেক দিন আসবো! সময়ের অভাব। আর দুইবার বেবিট্যক্সি ভাড়া গুনতে হবে।

সামনেই আয়শার বাসা। আভা বলল, ‘আয়শা আপার বাসায় চল। সেখানে টাকা খুঁজি। ’ ভয়ে ভয়ে গেলাম, যদি ওর কাছেও টাকা না থাকে! কি যে ছিল আমাদরে জীবন! আয়শা টাকা বের করে দিল। শান্তু -অন্তু দুজনেই আজ সকালে ওই সন্ধ্যারাতের কথা স্মরণ করে বললো, ‘বসে কিছু খাওয়ার সময় ছিল না বলে মাসী আদর করে কমলা দিয়ে দিয়েছিল আমাদের ।’

আয়শা-মোর্তুজাভাইয়ের আমেরিকা প্রবাসী একমাত্র কন্যা সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ঊর্মি খান মিষ্টিকে আজ স্বান্তনা দেওয়ার ভাষা আমাদের নেই। তবে শেষ পর্যন্ত সে মায়ের কছে থাকতে পেরেছে, এতে শোকের মধ্যেও পাচ্ছি স্বস্তি। আয়শাকে শেষবার দেখতে যেতে পারিনি। করোনা রাক্ষুসীর জন্য। মাপ করে দিও বন্ধু আয়শা।

আজ সকালে প্রায় মুখস্ত কবিগুরুর ‘মৃত্যুর পরে’ বেশ বড় কবিতাটা আভাকে পড়ে শুনালাম। একটা প্যারা আভা আবার পড়তে বলল: ‘ ওই হেরো সীমারেখা/ গগনেতে গ্রহতারা/ অসংখ্য জগৎ,/ ওরি মাঝে পরিভ্রান্ত / হয়তো সে একা পান্থ/ খুঁজিতেছে পথ।/ ওই দুর – দুরান্তরে/ অজ্ঞাত ভুবন – ’পরে। / কভু কোনোখানে/ আর কি গো হবে দেখা, /আর কি সে কথা কবে, / কেহ নাহি জানে।… বলো শান্তি , বলো শান্তি,/ দেহ- সাথে সব ক্লন্তি/ পুড়ে হোক ছাই।’

বন্ধু আয়শা তোমাকে জানাই রক্তিম সালাম।

 


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 69
    Shares