শুক্রবার, নভেম্বর ২৭

ফের আমরণ অনশনের ঘোষণা খুলনার পাটকল শ্রমিকদের

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: তিন দফা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় আবারও আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা। আগামী রোববার দুপুর থেকে নিজ নিজ মিলগেটের সামনে ওই কর্মসূচি শুরু হবে। ঢাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন নেতারা।

এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর দুপুর থেকে নিজ নিজ মিলগেটের সামনে অনশন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন শ্রমিকরা। তীব্র শীতের মধ্যে টানা চার দিন ওই কর্মসূচি পালন করেন তারা। কর্মসূচি চলাকালে এক শ্রমিকের মৃত্যুসহ দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পাটকলের শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় দফায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানসহ পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিজেএমসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্নিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে শ্রমিক নেতারা জানান, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের ব্যাপারে শ্রম প্রতিমন্ত্রী আরও এক মাস সময় চেয়েছেন। কিন্তু ওই এক মাস পর আসলেই মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি কেউই।

বৈঠকে উপস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিলের সাবেক সিবিএ সভাপতি মুরাদ হোসেন বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। এক মাসের সময় চাওয়া হয়েছে; কিন্তু শ্রমিকদের পক্ষে ওই সময় দেওয়া সম্ভব নয়। শ্রমিকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, তাই আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।

প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন বলেন, তারা খুলনায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন। আগামী শনিবার সকাল ১০টায় নিজ নিজ মিলগেটে শ্রমিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার দুপুর থেকে আবারও আমরণ অনশন শুরু করবেন শ্রমিকরা। কর্মসূচি পালন করতে শ্রমিকরা প্রস্তুত আছেন। ওই কর্মসূচি সফল করতে বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের নেতাদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ নভেম্বর থেকে ১১ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা। বিক্ষোভ মিছিল, শ্রমিক ধর্মঘট, গেটসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে ১০ ডিসেম্বর দুপুর থেকে আমরণ অনশনে বসেন তারা।

ওই কর্মসূচিতে খুলনা অঞ্চলে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের মধ্যে ৮টি পাটকলের শ্রমিকরা অংশ নেন। শুধু যশোরের কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা ওই কর্মসূচিতে অংশ নেননি।


এখানে শেয়ার বোতাম