মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১

ফেইসবুক ব্যবহার করে ৫ কোটি টাকার প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১২

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: ফেইসবুকে প্রতারণার ফাঁদ পেতে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশি ভুয়া নারী কাস্টমস কর্মকর্তা ও ১১ নাইজেরিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর পল্লবী সি ব্লকের একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, বাংলাদেশী নাগরিক রাহাত আরা খানম ওরফে ফারজানা মহিউদ্দিন, নাইজেরিয়ার নন্দিকা ক্লেনেন্ট চ্যাকেংগু (৩২), ক্লেটাস (৩১), অনিকুলেভ টিমেটি সিনোনগে (৩০), ইকেন ওয়াইজডম (৩০), সিগোজিয়া (৩০), ইভানডে গেব্রিল (৩০), ক্লেসটিন পেট্রিক (৩০), মরডি নেমডি কলনিস (৩০), সামি (৩০), সোমাইনা (৩০), প্রিসিয়াস একেমি (৩০), নওকে ওয়াইজডম (৩০)।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৫টি ল্যাপটপ, অসংখ্য সিম ও ১৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

সিআইডির ভাষ্য, তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছিল। ফেইসবুকে আইডি খুলে বিপরীত লিঙ্গের সহজ সরল মানুষকে টার্গেট করে বন্ধুত্ব গরে তুলত। পরে বিভিন্ন মূল্যবান গিফট পাঠানোর কথা বলে পার্সেল ফি বাবদ টাকা নিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। তাদের অন্যতম সহযোগী বাংলাদেশী নাগরীক ফারজানা মহিউদ্দিন। তিনি নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী দাবি করেছেন। চক্রটি গত দুই মাসে প্রতারণার মাধ্যমে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ কারার তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সিআইডর এডিশনাল ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার কানিজ ফাতেমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসাইন এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জিসানুল হক।

লিখিত বক্তব্যে শেখ মো. রেজাউল হায়দার বলেন, প্রতারণার শিকার এক ব্যক্তির অভিযোগের সূত্র ধরে গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মেট্রো (পশ্চিম) সিআইডির একটি টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। চক্রটি অভিনব কায়দায় বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তিদের সঙ্গে ফেসবুকে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। বন্ধুত্বের এক পর্যায়ে তারা ‘কাথেরিন কুলেন সফিয়া’ নামক একটি তথাকথিত ম্যাসেঞ্জার আইডি থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টসহ পার্সেল গিফট করার প্রস্তাব দেয় এবং পরে ম্যাসেঞ্জারে এইসব মূল্যবান সামগ্রীর এয়ার লাইনস বুকিংয়ের ডকুমেন্ট পাঠায়। এরপর এসব গিফট বক্সে কয়েক মিলিয়ন ডলারের মূল্যবান সামগ্রী রয়েছে বলে তারা ভুক্তভোগীকে জানায় এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কাস্টমস গুদাম থেকে রিসিভ করতে বলে। এ সময় তাদের সহযোগী ফারজানা মহিউদ্দিন নিজেকে কাস্টমস কমিশনার পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীকে মূল্যবান গিফট গ্রহণসহ শুল্ক বাবদ ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা কয়েকটি ব্যাংক একাউন্টে পরিশোধের জন্য চাপ দেয়। গিফট সংগ্রহ না করলে আইনি জটিলতারও ভয় দেখায় চক্রটি।

সিআইডির এডিশনাল ডিআইজি আরো বলেন, ভুক্তভোগী তাদের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিন লাখ ৭৩ হাজার টাকা জমা দেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে, একইভাবে আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে সারাদেশে শতাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে দুই মাসের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করে এ ধরনের প্রতারণা করে আসলেও এ দেশে তাদের অবস্থানের বৈধ কোনো কাগজপত্র এবং পাসপোর্ট প্রদর্শন করতে পারে নাই। তাদের বিরুদ্ধে সিআইডি বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেছে।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে সিআইডির এ অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, বাড়ির মালিকরা এসব বিদেশীকে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার আগে তাদের বৈধ কাগজপত্র এবং পাসপোর্ট যাচাই করে ভাড়া দেবে। ফেইসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী বা এলাকায় এ ধরনের বিদেশী ব্যক্তি ভাড়া নিলে বা সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেবেন। কেউ যদি টেলিফোনে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের উপহার পাঠানোর প্রস্তাব দেয়, তা পুলিশকে জানাবেন।


এখানে শেয়ার বোতাম