মঙ্গলবার, মার্চ ৯
শীর্ষ সংবাদ

ফরিদপুরে আ’লীগের ২ গ্রুপের গোলাগুলিতে নিহত ২

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক ::   ফরিদপুরের নগরকান্দায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সময় দুইজন গুলিতে নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের কাইচাইল মধ্যপাড়া দারুল উলুম মাদ্রাসার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নে অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন ওরফে ঠান্ডুর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হানিফ মিয়া ওরফে হৃদয়ের বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই ওই দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এর জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহত দুইজন ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থক। তারা হলেন ইউপি চেয়ারম্যানের চাচা মৃত আবু বক্করের ছেলে রওশন আলী মিয়া (৫২) ও তার ভাতিজা রায়হান মিয়ার ছেলে ফোরকান হোসেন তুহিন মিয়া (২৫)।

গুলিতে আহতদের প্রথমে নগরকান্দা উপজেরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক সাতজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত রায়হান উদ্দিন মিয়া (৬৫), আনিস মীর (২০), গোলাম রসুল বিপ্লব (৩০), গোলাম মওলা (৩০), আবুল কালামকে (৩৫) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে আনিস মিয়া (২৪), ফারুক মাতুব্বর (৪০), চুন্নু মিয়া (৪৮), সুমন মিয়া (২৮) ও বাবলু মিয়াকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হানিফ মিয়া ও তার ভাই হাসান মিয়া একটি মাইক্রোবাসে করে এলাকায় আসেন। মাদ্রাসার সামনে কোরবানির আয়োজন নিয়ে পরামর্শরত তার সমর্থকদের গাড়ির মধ্যে থেকেই নির্বিচারে গুলি করে পালিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় তার দুই সমর্থক নিহত এবং আটজন আহত হন।

তিনি বলেন, হানিফ মিয়া নিজে শর্টগান থেকে এ গুলি করেন।

কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হানিফ মিয়ার ভাই জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক হাসান মিয়া বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া। তিনি ও তার ভাইসহ পাঁচজন একটি প্রাইভেটকার নিয়ে এলাকায় আসেন কোরবানি দিতে। মাদ্রাসা এলাকায় এলে চেয়ারম্যানের চাচা রওশন, রুস্তম, রায়হান, মাওলা ও বিপ্লবসহ ১০-১২ জন লোক তাদের বাধা দেয়। তারা গাড়িতে হামলা করে গাড়িটি ভাংচুর করে এবং তাদের উপর কাঠ, লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। তারাও কাঠ লাঠি কেড়ে নিয়ে পাল্টা হামলা করে। এক সময় গুলির ঘটনাও ঘটে।

তিনি দাবি করে বলেন, এ সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি ও তার ভাই হানিফসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তারা ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হবেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কাইচাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


এখানে শেয়ার বোতাম