শনিবার, ডিসেম্বর ৫

প্রীতিলতা স্মরণে বাসদ মাগুরা জেলা শাখার আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 219
    Shares

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বীরকন্যা প্রীতিলতার ৮৮ তম আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষে শোষণমুক্তির লড়াই ও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করার আহ্বানে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মাগুরা জেলা শাখার উদ্যেগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় ।

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় । আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাসদ কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সদস্য প্রকৌশলী শম্পা বসু ।

বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় নেত্রী লিপিকা দত্ত, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি মমতাজ বেগম, জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা জাহিদ আলম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) মাগুরা জেলা সভাপতি কাজী ফিরোজ, বিশিষ্ট সমাজসেবক কামরুজ্জামান চপল, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি মাগুরা জেলার সদস্য সচিব শরীফ তেহরান টুটুল, স্কলাস্টিকা স্কুল ও অদম্য পাঠশালার স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষক ইয়াকুব আল ইমরান। সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মাগুরা জেলা শাখার সংগঠক ভবতোষ বিশ্বাস জয় ।

আলোচনা সভা শেষে অদম্য পাঠশালার শিক্ষার্থীরা একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে মাত্র ৭ জন সঙ্গী নিয়ে আক্রমণ করেন পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাব। দাম্ভিক ব্রিটিশেরা যেখানে সাইনবোর্ডে লিখে দিয়েছিল ‘কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ’। সফল আক্রমণ শেষে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন। জীবিত ধরা না পড়ার পূর্ব পরিকল্পনায় অবিচল থেকে তিনি পটাশিয়াম সায়ানাইড পান করে আত্মাহুতি দেন।

নেতৃদ্বয় জানান, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য অস্তমিত করা ও স্বাধীনতা সংগ্রামে পুরুষের পাশে নারীরাও লড়াই করতে পারেন—এ চেতনা জাগাবার জন্যে মাস্টারদা বেছে নিয়েছিলেন প্রীতিলতাকে। প্রীতিলতাও মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে গ্রহণ করেছিলেন জীবন দিয়ে জীবন জাগাবার মন্ত্র ‘do or die’। মাত্র একুশ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে জাগিয়ে তুলেছিলেন ভারতবাসীকে, ত্বরান্বিত করেছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলন, নারীদের সম্পর্কে সমাজের সংস্কারে করেছিলেন প্রচণ্ড আঘাত।

ইতিহাসের সংগ্রামী চেতনা, অতীতের বড় চরিত্র বর্তমান সংগ্রামে পথনির্দেশ করে। প্রীতিলতাসহ অগ্নিযুগের অগ্নি সন্তানেরা নতুন প্রজন্মকে সংগ্রামী মানুষ হতে শেখায়, অন্যায় করা নয়, অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করা নয়, অন্যায়কে রুখে দিতে শেখায়।

আজ থেকে ৮৭ বছর আগে প্রীতিলতা যে স্বাধীনতা, শোষণমুক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী শৃংখল মুক্তির জন্য নির্ভিক চিত্তে জীবন দিয়েছিলেন, বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও মানুষ পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী শোষণ লুন্ঠনের যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে, দেশের সকল প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি-দখলদারিত্ব-দলীয়করণে নিমজ্জিত, নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা বেড়ে-ই চলেছে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশ ছোয়া, শিক্ষা-চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে হিমসিম খাচ্ছেন অভিভাবকরা, বেকার সমস্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

এমন দেশ পাওয়ার জন্য কি প্রীতিলতা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন? এখনকার তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হল একে পাল্টানোর জন্য লড়াই করা।

নেতৃবৃন্দ প্রীতিলতার সংগ্রামী জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে শোষণমুক্তির লড়াই ও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করার আহ্বান জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 219
    Shares