সোমবার ‚ ২২শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ‚ ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং ‚ দুপুর ১:৫৪

Home বিপ্লবীদের কথা প্রিয় মিলু ভাইয়ের সাথে ২৪ বছর

প্রিয় মিলু ভাইয়ের সাথে ২৪ বছর

রুকুনুজ্জামান রুকু ::

১৯৯৩ সাল,চিরমারী নিবেদিতা সাংস্কৃতিক সংগঠনে নাটক করতাম, কুড়িগ্রাম জেলায় তখন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে ভরপুর আর মূখোরিত ছিলো।জেলা শিল্পকলার আয়োজন টগবগ, মিলু ভাইরাও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, রাজনীতি আর তরুনদের ধারন করতেন।আমি শিল্পকলার নির্বাচনে ভোট দিতে এসে মিলু ভাইয়ের সাথে পরিচয় হলাম,আমরা ৮ ভাই আমার বড়ো ভাইয়ের মধ্যে ১ জন জাসদ পরবর্তী বাসদে যুক্ত আছেন তিনি ঠাকুরগাঁও অবস্থান করেন।১৯৯৪ সালে মিলু ভাই আমাদের বাসায় এলেন চিলমারীতে সাথে বাসদের আমিনুল ভাই (সাবেক বাসদ নেতা,বর্তমান জেলা ডেপুটি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার )। চিলমারীতে তখন দির্ঘবছর পার্টির কাজ ছিলোনা, আমার বড়ো ভাই মিলু ভাই আসাটা পছন্দ করতেননা। মিলু ভাই কিছুদিন পর পর এসে আমার সাথে গল্প করতেন, ছাত্র ফ্রন্টের কথা বলতেন, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞান, সাহিত্যে, শিল্প এসব নিয়ে।নাটক করার সুবাদে আমার অনেক বন্ধু ছিলো, একদিন মিলু ভাইসহ সবাইকে নিয়ে বসলাম। রোদ, বৃষ্টি উপেক্ষা করে মিলু ভাই নজরুল ভাই, আমিনুর ভাইরা চিলমারীতে আসতেন মিটিং করতেন,আমি ফাকি দিতাম,রাজনীতি করবোনা,নাটক করবো, একদিন বড়ো ভাই, রাকু ভাই মিলু ভাইকে বলে বসলেন,দেখুন আপনারা বড়ো মানুষ, রুকু ছোট, ওর কাছে আসছেন কেন, ওকে রাজনীতি বোঝাচ্ছেন কেন?

আমিও সময দিতামনা, ১৯৯৪ সাল সেপ্টেম্বর রংপুর রেডিও সেন্টারে নাটকের অডিশন দিয়ে আসার পথে কাউনিয়া স্টেশনে একই ট্রেনে দুজন,রুকু, কি খবর? নাটক করতে গিয়েছিলে? হ্যা,কুড়িগ্রাম পর্যন্ত একসাথে এলাম পাশে বসে, হাতে ব্রেস লাইট, আংটি, বড়ো চুল, অদ্ভুত পোশাক এগুলো চেঞ্জ করতে বললেন, আমি মনে মনে খুবই খেপে গেলাম।আরো ফাকি দিতে শুরু করলাম,মিলু ভাই নিয়মিত আসতেন বোঝাতেন, আমি তখন টেলিভিশন অডিশনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, ১৯৯৫ সালে রাজ্জাক ভাই, আসাদ ভাই, কুদ্দুস ভাইরা আমার সাথে যোগাযোগ করতে শুরু করলেন, তৎকালিন চিলমারীর বাসদ সমন্বয়ক রন্জু ভাই, ছক্কু ভাই, আনাম ভাইসহ পুরাতন কমরেডরা মিলু ভাইকে নিয়ে মিটিং করলেন,আমার উপর ২১ ফেব্রুয়ারির ফুল সংগ্রহের দায়িত্ব অর্পন হলো। পরবর্তী কয়েকটি মিটিং অতপর গাইবান্ধার শিক্ষা শিবিরে।

ফিরে এসে কাজ করার চেষ্টা করলাম। সহযোগিতা করেছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপন ভাই, হুমায়ূন ভাই,বাবু ভাইরা কিছুদিন পর কেন্দ্রীয় ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি নুরুল ভাই বজলুর রশিদ ফিরোজ ভাই য়ের উপস্থিতিতে ৪৩ সদস্যর উপজেলা কমিটি গঠন হলো। সভাপতি আব্দুল মাজেদ, আমি সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হই। কিছুদিন পর আমি একা হয়ে যাই,পড়ালেখার কাজে অনেকেই বাহিরে চলে গেলেন, অনেকেই যুক্ত নেই।তখন মিলু ভাই আমাকে আরো বেশি সময় দিলেন,পরিকল্পনা মত কাজ করলাম,কিছু স্হানীয় সংকট নিয়ে আন্দোলনের মধ্য কিছু ছাত্র যুক্ত হলো।তাৎক্ষণিক ৩০/৪০ জন ছাত্র নিয়ে মিছিল,মিটিং, কালেকশন, ভ্যানগার্ড বিক্রিসহ সমস্ত সময় ক্রিয়াশীল, প্রায় ১০ জন কর্মি সদস্য তৈরী হলো।চিলমারী কুড়িগ্রাম দুরত্ব ৩০ কিলোমিটার, মিলু ভাই কয়েকদিন পরপর আসতেন, কাজ দিতেন, হাটসভা, পথসভা, কালেকশন, পত্রিকা বিক্রি, মিছিল, টগবগ। ১৯৯৭ তৃতীয় কেন্দ্রীয় সম্মেলনে চিলমারি থেকে ৫২ জন অংশগ্রহণ।

ফিরে এসে শিক্ষক ফোরাম, কৃষক ফ্রন্ট, শ্রমিক ফ্রন্টসহ আরো ভালো কাজ হলো,মিলু ভাই,প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে যেয়ে মিটিং করাতেন, এভাবে কাজে যুক্ত থেকে নিজেকে নির্মান করা আর পরিবারকে যুক্ত করার চেষ্টা, দাদা,জীমুতবাহন চক্রবর্তী মিলু ভাইয়ের সাথে পরামর্শক্রমে চিরমারিতে চাকুরির সুবাদে তিনি আমাদের বাড়িতে আমার সাথে কয়েক বছর। পরিবার বড়ো ভাইরা যুক্ত হলেন ,মিলু ভাই হয়ে উঠলেন আমার/ আমাদের অবিভাবক।আমার ভাইয়ের জমজ সন্তান নাম দিলেন মিলু ভাই অরিত্র, মৃত্তিকা। ওরা এখন ১০ম শ্রেনীতে পড়ে। ১৯৯৯ সাল,পার্টির পরামর্শক্রমে পড়ালেখা আর কাজের প্রয়োজনে আমাকে কুড়িগ্রামে ধারাবাহিক থাকতে হবে।

চিলমারী পার্টি অফিসে পার্টির কর্মি, সমর্থকদের উপস্থিতিতে মিলন,বেবু,শাহারিয়া,লিপু,রানু,বিপুল,বাবু,কলেজ শিক্ষক ফেরদৌস ভাই রাজু প্রমুখরা পার্টির কাজের দায়িত্ব নেন।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে ১৯৯৯-২০০০ সেশনে রাস্ট্র বিজ্ঞানে অনার্স ভর্তি হলাম।
কুড়িগ্রামে এসে কামাল ভাই তার অফিসের রুমে কিছুদিন থাকার ব্যবস্থা করলেন,আমি মিলু ভাই পাশাপাশি ছিলাম, রাত ১১ টার সময় মিলু ভাই রুমে এলেন, রুকু পড়ালেখা কেমন হচ্ছে? যোগাযোগ করছো সবার সাথে?
কোন সমস্যা নাইতো?
চিলমারীর খবর নাও কি?
কিছু পড়ে বললেন,মিলনের সাথে যোগাযোগ আছেনা?
বললাম ওর জন্ডিস।
বার বার আমার কথা বলছে,মিলু ভাই বললেন সকালে ঢাকার গাড়ীতে চিলমারী থেকে ঘুরে আসো,কেন মিলু ভাই,পার্টির কাজ?
না, মিলন মারা গেছে।
মিলু ভাই ৩০ মিনিট আমাকে প্রস্তুত করলেন কথাটি বলার জন্য।

কুড়িগ্রামে অনেকেই ছিলেন,স্হানীয় কমরেডরাও ছিলেন,মিলু ভাই আমাকে ভরসা করতে শুরু করলেন,আমি পারবো,ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নিখিলদার উপস্তিতিতে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি গঠন করা হয়। মহির ভাইকে সভাপতি আমাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হলো। মিলু ভাই গোটা জেলায় সাথে নিয়ে যেতেন, বলতেন সঠিক রাজনৈতিক দর্শন থাকলে আজিবন সঠিকভাবে টিকে থাকতে পারবে। আমাকে বদলিয়ে দিলেন, সঙ্গীত, সাহিত্য, বিজ্ঞান, ধর্ম, দর্শন, রাজনীতি, বিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙি, মিলু ভাই পরিবার আর আমার অবিভাবক হয়ে উঠলেন। এতগুলো বছর মিলু ভাইয়ের সাথে এত কাছাকাছি শাসন ,স্নেহ, মমত্ববোধ, বন্ধুত্বপূর্ণ বন্ধুত্ব। আমি মিজান কুড়িগ্রামের সংকটকালে ভালো বন্ধু ছিলাম, সফলভাবে দলের কাজটা করতাম, কাজ করতে গিয়ে মতানৈক্য হতো, মিলু ভাই গভীর রাত পর্যন্ত সরলভাবে বোঝাতেন। আহা কি অসাধারণ আবেদন আলোচনার। আমি পার্টির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম সার্বক্ষণিক রাজনীতি করবো, ২০০৫ সালে এসে ব্যাক্তিগত জীবনে প্রবেশ করলাম। মিলু ভাই আরো বেশি আপন করে নিলেন, আমাকে বিভ্রান্ত হতে দেননি, ছায়া হয়ে ছিলেন। কোন কমরেড মন খারাপ করলে তিনি নিজে রান্না করে খাওয়াতেন।বোঝাতেন। গান, সিনেমা দেখাতেন, আলোচনায় ঘন্টার পর ঘন্টা সহজভাবে বোঝাতেন। বলতেন আমারও তো মন খারাপ হয়, আমি কাকে বলি, আমিতো তোমরাই। মিলু ভাই পার্টির কেন্দ্রীয় দায়িত্বে ঢাকা চলে গেলেও প্রতি মুহুর্তে সকলের সাথে যোগাযোগ রাখতেন আর আমার সাথে রাত ১১ টার সময় ফোনে দীর্ঘ সময় আলাপ করতেন। কুড়িগ্রাম আসবার পুর্বেই আমাকে জানাতেন রুকু গাড়ি রেডি রেখো আমি আসছি,তিনি এলেই পার্টির কাজ,সমর্থকদের বাড়ি,আলোচনা আরও কত আভ্যন্তরীণ আচরণের বিষয়াবলী। ২০১৮ সালে সর্বশেষ মিলু ভাইকে নিয়ে পার্টির কাজে ফুলবাড়ি গঙ্গার হাটে যাই,যাবার পুর্বে পাপু ভাইয়ের বাড়িতে দুপুরের খাবার খেলাম মিলু ভাইয়ের পছন্দের খাবার।

গঙ্গাহাটে ডাক্তার শাহলম ভাইয়ের স্কুটার নিয়ে তিনি চালিয়ে সিটমহলের চেয়ারম্যান কমরেড নুরুজ্জামান ভাইকে দেখতে গেলেন,মিলু ভাই বললেন তুমি ছবি নাও। অনেক ছবি নিলাম।মিটিং করে ফিরতে রাত হলো,ভিন্ন রাস্তায় এলাম,নির্জন একটি ব্রিজ পাখিহাটে দাড়াতে বললেন, বললেন ৭৮ সালে এই এলাকায় হেটে আসতাম,পালিয়ে থাকতাম,স্মৃতিচারণ শেষে আমাকে বললেন আমি কেমন আছি?

ভবিষ্যৎ কি করবো,চাকুরি না করলে ব্যবসা করো, বড়ো ভাইয়ের সাথে কথা হযেছে,টাকা নাও ব্যবসা করো, ৬ মাস পর লাভ দেখাবে।২ ঘন্টা আমার ভবিষ্যৎ আর ভালো থাকার আয়োজনে উদ্বিগ্ন। পরদিন পার্টি অফিসে সকল কমরেডদেরকে কাজ ভাগ করে দিলেন।তিনি বগুড়ায় মিটিং এ যাবেন।পরের মাসে ফিরবেন কাজগুলো মুল্যায়ন করবেন। আমাকে নিয়ে প্রচুর ভাবতেন, কুড়িগ্রাম এলেই বলতেন কাছেই থাকো, আমরা কাছেই থাকতাম,উনি ৪ তলায় আমি নিচ তলায়,কুড়িগ্রাম এলেই জামান ভাইয়ের পছন্দের খাবার সংগ্রহ করতেন,আমার সাথে চরে যাবেন,সারাদিন ঘুরবেন,মানুষের জীবন যাপন বর্তমানটা দেখবেন,তাই হলো, সকালে বের হয়ে চড়ে থাকলাম,পরিকল্পনা করলাম,খাওয়া দাওয়া করলাম,রাতে ফিরলাম।মিলু ভাইয়ের যাবার সময় হলে সাথে থাকতাম,ট্রেনের দেরি হলেই গল্পে গভির রাত স্টেশনে ,মিলু ভাইকে নিয়ে আমার কোটি কোটি কথা, ইতিহাস, জমা থাকলো সুযোগ করে চিত্রায়ন করবো,মিলে ভাই আমাকে দলে যুক্ত করলেন,মানুষের সত্যিকারের মর্যাদা লড়াই করে জীবন্ত রাখা যায়,অন্যায়, অনৈতিকতার বিরুদ্ধে লড়াই করেই তবেই একজন মানুষ ভালো থাকতে পারে,ঋনি থাকলাম আপনার কাছে কমরেড, মানুষের মুক্তির মধ্যদিয়েই নিজে মুক্তি নিহিত।মিলু ভাইয়ের অসমাপ্ত সংগ্রাম জীবন্ত রেখে তবেই মিলু ভাইকে বাচিয়ে রাখতে পারবো,কিভাবে ভুলবো ২৪ টি বছর!!! ইদ আসলেই বলতেন বাড়ি যেওনা,ভালো রান্না করবো,ঘুরবো, মিলু ভাই মে মাসের ১২ তারিখে আসবেন সেদিন আমরা মটর শ্রমিকের ভোট নেয়ার কাজে ব্যস্ত থাকবার কারনে আমাদের জন্য অপেক্ষা করেননি।দুর্ঘটনার পরবর্তী রংপুর আই সি ইউ তে আমাকে পেয়ে স্বাভাবিক বাবে বলছেন, রুকু আমি যেখানে এক্সিডেন্ট করেছি সেখানে তুমি গাড়ি নিয়ে যাবে। খুজবে, আমার নিচ পকেটে একটা আর উপর পকেটে একটা মোবাইল ছিলো, একটা ছোট ব্যাগ,আর সিমগুলো,যদি না পাও তাহলে একটি সীম ছাড়া বাকি সীম আমার ফিঙ্গারে নেয়া, ওগুলো তুলে তুমি ঢাকা পার্টি অফিসে পাঠিয়ে দিও,আমার চিকিৎসার এতটাকা কিভাবে যোগার হলো ভাইয়েরা কে কত দিলো অসংখ্য কথা। যখন এয়ার এম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষায় তখনো তিনি মজা করে বলছেন, এটাও দেখি ট্রেনের মতো দেরি করে আসে ,শেষ কথা মিলু ভাইয়ের সাথে আমার।

রাত হলেই মিলু ভাই ডাকতেন রুকু আসো উপরে কথা আছে, এই বুঝি ডাকবেন, ডাকছেন প্রিয় কমরেড, আপনার সংগ্রামের পথেই বহমান থাকবো। লাল সালাম।

লেখক : সদস্য, বাসদ কুড়িগ্রাম জেলা কমিটি।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ

চট্টগ্রামে করোনা রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াল

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ::চট্টগ্রাম জেলায় করোনাভাইরাস শনাক্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২৯২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে...

অনলাইন ক্লাস: ৭দফা দাবিতে ঢাবি উপাচার্যকে স্মারকলিপি

ঢাবি প্রতিনিধি:: অনলাইনে ক্লাস শুরুর আগে সকল শিক্ষার্থীর ক্লাসে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করে সুষ্ঠুভাবে ক্লাস পরিচালনার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) উপাচার্যকে সাত...

পাটশিল্প সৎকারের পথ থেকে সরে আসার দাবি জাসদের

অধিকার ডেস্ক:: ‘নিজ হাতে গলা টিপে পাটশিল্পকে মেরে ফেলা এবং সৎকারের আয়োজন থেকে ফিরে আসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি’—আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের...

স্প্যানিশ লা লিগায় জয় পেল রিয়াল মাদ্রিদ

অধিকার ডেস্ক:: করোনায় লিগ বন্ধ হওয়ার আগে বার্সেলোনার চেয়ে ২ পয়েন্ট পেছনে ছিল রিয়াল। খেলা মাঠে গড়ানোর পর বার্সা তিন ম্যাচ ড্র...
Shares