রবিবার, মে ১৬
শীর্ষ সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে হতদরিদ্রদের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই : খালেকুজ্জামান

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 1.4K
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: প্রধানমন্ত্রীর আজকের সংবাদ সম্মেলনে হতদরিদ্রদের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান।

আজ রোববার (০৫ এপ্রিল) সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই অভিযোগ করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে বাস্তবে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক জীবন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী, নিন্ম আয়ের মানুষ ও হতদরিদ্রদের জীবন-জীবিকা আজ বিপর্যস্ত।

একদিকে করোনা আতঙ্ক, অন্যদিকে কর্মচ্যুতির ভয় মানুষকে দিশেহারা করে তুলেছে। প্রধানমন্ত্রী ২৫ মার্চ ভাষণে রপ্তানি শিল্পে ৫ হাজার কোটি টাকা এবং আজকের সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প, সার্ভিস সেক্টর, ক্ষুদ্র এবং মাঝারী শিল্পে এবং এসএমই খাতে প্রণোদনাসহ মোট ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু আমাদের অর্থনীতির ৫০ ভাগের অধিক ননফরমাল খাতের। এর মধ্যে আছে ক্ষুদে দোকানদার, গ্যারেজ মালিক, ভ্যানগাড়ীতে সবজি বিক্রেতার মতো অসংখ্য ছোট-ছোট জীবিকার মানুষ। এদের জন্য এবং বস্তিবাসী, হকার, রিকশা চালকসহ হতদরিদ্রদের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ মিলেনি। এছাড়া বিশাল ব্যক্তি খাত কৃষির জন্যও সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ ঘোষিত হয়নি।

বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সমন্বয়হীনতা করোনা পরিস্থিতি ও মানুষের জীবন জীবিকাকে মারাত্মক সংকটে ঠেলে দিচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মানুষের জীবিকা, বেতন ও চাকরির নিরাপত্তা সরকার নিশ্চিত না করলে করোনা সংক্রমণের জন্য কোন সচেতনতাই কাজে দিবে না। এর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে ঘরবন্দি মানুষ পেটের দায়ে পুলিশ, সেনা টহল সত্ত্বেও রাস্তায় বেরিয়ে আসছে। ফলে খাদ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত সরকারকেই একসাথে করতে হবে।

বিবৃতিতে গার্মেন্টস শিল্প খোলা বা বন্ধ রাখা নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য না থাকা এবং মালিকদের দায়িত্বহীনতা অর্থাৎ সরকার-মালিক ঠেলা ঠেলির বলি হয়ে ভোগান্তির কবলে পোষাক শ্রমিকরা। নিয়মিত খাবার প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা, জনবহুল ঢাকায় করোনা সংক্রমণের ভয় এবং লম্বা ছুটিতে পরিবারের সাথে থাকার আশায় শ্রমজীবী মানুষ একবার দলে দলে বাড়ী ফিরে গেছে, আবার চাকরি রক্ষার জন্য পুনরায় ঢাকা ফেরার হয়রানী পোহাচ্ছে নারী-পুরুষ শ্রমিকরা।

বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান বলেন, শ্রমজীবীদের এ হয়রানীর দায় কে নেবে? এ পরিস্থিতিতে গ্রাম-শহর উভয়স্থানে করোনার কমিউনিটি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। সরকার এবং মালিককেই এ দায় বহন করতে হবে। অবিলম্বে এই শ্রমজীবী ও দেশের নাগরিকদের খাদ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বেশি বেশি করোনা পরীক্ষার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 1.4K
    Shares