শনিবার, এপ্রিল ১৭
শীর্ষ সংবাদ

প্রথা ভেঙে দৌলতদিয়ায় যৌনকর্মীর জানাজা পড়ালেন মসজিদের ইমাম

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: দেশের বৃহৎ যৌন-পল্লী রাজবাড়ী গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া। যেখানে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার বাসিন্দার বসবাস। কিন্তু যৌনকর্মী হওয়ায় মৃত্যুর পর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাদের জানাজা বা দাফন ছাড়াই মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হতো অথবা মাটিচাপা দেয়া হতো।

দীর্ঘদিনের প্রাচীন সেই প্রথা ভেঙে চলতি মাসের ২ ফেব্রুয়ারি (রোববার) রাতে দৌলতদিয়া যৌন-পল্লীর প্রবীণ যৌনকর্মী হামিদা বেগমের (৬৫) নামাজে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ নেয়ায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি বেশ প্রশংসা পায়। এর পেছনে বিশাল অবদান রাখেন গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান।

এমন উদ্যোগ গ্রহণ প্রসঙ্গে আশিকুর রহমান বলেন, “ইমাম প্রথমে জানাজা পড়াতে রাজী হচ্ছিলেন না। আমি তাকে বললাম, ইসলামে কি কোথাও নির্দেশ আছে যে যৌনকর্মীর জানাজা পড়ানো নিষেধ। আমার এই প্রশ্নের কোনো উত্তর ইমাম সাহেবের ছিলনা।”

তিনি বলেন, আগে কোনো যৌনকর্মীর মৃত্যু হলে অমানবিকভাবে নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হতো বা মাটিচাপা দেয়া হতো। এটা তো কোনো ধর্মে নেই। তবে কেন ওটা করা হতো? এছাড়া যৌনকর্মীদের মৃত্যু হলে কোনো মৌলভী জানাজা পড়াতে রাজি হতেন না। কিন্তু ধর্মে তো এটাও নেই যে, পাপী ব্যক্তিদের জানাজা পড়ানো যাবে না। এ বিষয়ে মৌলভীদের কাছে সুনির্দিষ্ট মাসালা জানতে চাইলে তিনি অনেকটা বাধ্য হয়েই জানাজা পড়াতে রাজি হন। ওই দিন রাতেই জানাজা নামাজ পড়ানো হয়। কাজটি সফলভাবে করতে পেরে নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করছি।

দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে সম্প্রতি বিভিন্ন অপরাধ ও জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার বিরুদ্ধে পুলিশ কড়া নজরদারি রাখছে। এরই ধারাবাহিকতায় সেখানে মাদক, জোরপূর্বক দেহব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পল্লীর বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত বসেন গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ।

এরই অংশ হিসেবে গত ২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে যৌনকর্মীদের ‘অবহেলিত নারী ঐক্য’ নামের সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে হামিদা বেগম নামের এক প্রবীণ যৌনকর্মীর মৃত্যুর খবর আসে। সে সময় পল্লীর বাসিন্দারা হামিদা বেগমের জানাজাসহ দাফনের দাবি তোলেন। এ সময় গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান তাদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে ওই নারীর জানাজা, দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করেন। পরে রাত ৯টার দিকে ওই নারীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় থানার ওসি ছাড়াও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মণ্ডল, স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল ফকীরসহ অনেকে জানাজায় অংশ নেন। জানাজা নামাজে ইমামতি করেন দৌলতদিয়া রেল মসজিদের ইমাম মৌলভী গোলাম মোস্তফা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল ফকীর জানান, অতীতে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বাসিন্দা কেউ মারা গেলে জানাজা হতো না। আসল কথা হলো, কোনো মৌলভী জানাজা নামাজ পড়াতে রাজিই হতেন না। তাই বাধ্য হয়ে মৃত ব্যক্তিকে মাটিচাপা দেয়া হতো।

‘গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সাহেব উদ্যোগ নেয়ায় প্রথমবারের মতো কোনো যৌনকর্মীর জানাজা এবং ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফন করা হলো।’


এখানে শেয়ার বোতাম