শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৬
শীর্ষ সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নারায়ণগঞ্জে ছাত্র ফ্রন্টের ছাত্র সমাবেশ

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 43
    Shares

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:: সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৩৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে করোনাকালে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন ফি মওকুফ, ছাত্র অধিকার খর্ব, শিক্ষা সকোচন ও শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ-সাম্প্রদায়িকীকরণ বন্ধ, সরকারি উদ্যোগে সকল নাগরিককে বিনামূল্যে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আজ বেলা ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ছাত্র সমাবেশ ও শহরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুুষ্ঠিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে ছাত্র সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছাত্রনেতা আল কাদেরী জয়, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক কমরেড নিখিল দাস নারায়ণগঞ্জ জেলার অর্থ সম্পাদক মুন্নি সরদার, ফতুল্লার সংগঠক ফয়সাল আহম্মেদ রাতুল, মোহসিনা সিথী, খায়রুল ইসলাম আকাশ, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

আল কাদেরী জয় বলেন, ১৯৮৪ সালের ২১ জানুয়ারি সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ থেকে প্রতিষ্ঠিত সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জন্মলগ্ন থেকে বিজ্ঞানভিত্তিক, সেক্যুলার, বৈষম্যহীন, ও একই পদ্ধতির গণতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে আসছে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূল আকাঙ্খার এই শিক্ষাব্যবস্থা স্বাধীনতার ৫০ বছর হতে চলল আজো তা দেশবাসী পায়নি। শাসকরা শিক্ষাকে ক্রমাগত মুষ্ঠিমেয়র মুনাফার পণ্যে পরিনত করে চলেছে। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ পরিচালিত হচ্ছে প্রধানত বাণিজ্যিক ধারায়। অন্যদিকে একটা ভয়াবহ বিপর্যস্ত সময়ে আমরা দাঁড়িয়ে আছি।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারিতে শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা জনগণের সামনে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে উঠছে। গত বছর মার্চ মাসে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে এর কিছু দিন পরেই শুরু হয় অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম। বিভিন্ন জরিপ বলছে ৫০-৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী ডিভাইস, ডাটা, নেটওর্য়াকের অভাবে অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না। কোনরূপ নীতিমালা প্রণয়ন ও পর্যাপ্ত আয়োজন ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য তৈরি করেছে। সমীক্ষা বলছে দেশের মোট শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবন থেকে ঝড়ে পড়বে। করোনাকালীন সময়ে অর্থনৈতিক সংকট নেমে আসার দরুন নি¤œ ও মধ্য আয়ের মানুষদের করুণ দুর্দশার চিত্র আমরা অবলোকন করেছি। তা সত্ত্বেও স্কুল-কলেজগুলিতে এ বছরের বেতন-ফি, সেশন ফি সহ অন্যান্য ফি মওকুফ করা হয়নি। অন্যদিকে দেখছি সরকার প্রনোদনা প্যাকেজ দিচ্ছে গার্মেন্টস মালিকদেরকে, অথচ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন রক্ষার্থে সরকারের কোন ধরনের উদ্যোগ নেই।

আল কাদেরী জয় আরও বলেন শিক্ষা সংকোচন, সাম্প্রদায়িকীকরণের বিরুদ্ধে সংগঠিত যে ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন আমাদের স্বাধীনতার সোপান গড়ে দিয়েছিলো সেই স্বাধীন বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বাণিজ্যিকীকরণ, সংকোচন, সাম্প্রদায়িকীকরণের কবলে পড়তে হয়েছে বারংবার।

নেতৃবৃন্দ বলেন, শাসক শ্রেণীর নানান ধরনের অপতৎপরতার বিপরীতে সমস্ত ছাত্র আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন, গণআন্দোলনের ঢেউকে এক মোহনায় মিলিত করে একটি শোষণহীন, বৈষম্যহীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যে চলমান আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে তাকে বেগবান করার জন্য আপামর ছাত্র, শ্রমিক,কৃষক ও জনগনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 43
    Shares