সোমবার, নভেম্বর ৩০

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে শাস্তি পাওয়ার পরিবর্তে মালিকরা পুরস্কৃত হয়: শ্রমিক ফ্রন্ট

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধে শিল্প মালিকরা বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন , শ্রমিকদের উপর দায় চাপিয়ে সুবিধা নেওয়ার নতুন কোন কৌশল অবলম্বন হচ্ছে কিনা সেই আশংকা প্রকাশ করে বলেন, ১৫ জুলাই ২০২০ বাংলাদেশের শীর্ষ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন সমূহের জোট শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ এর নেতৃবৃন্দের সাথে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর বৈঠকের পর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে সকল শিল্পের শ্রমিকদের বেতন-বোনস ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরে তৈরী পোষাক শিল্পের মালিকরা শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে বাড়তি সময় নেন এবং তাদের কথা অনুসারে পোষাক শিল্পের শ্রমিকদের বোনস ২৭ জুলাই এবং চলতি মাসের অর্ধেক বেতন ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশনা জারী করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। নির্ধরীত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ শিল্প মালিক সরকারী নির্দেশনা মানেননি।

নেতৃবৃন্দ বলেন , শিল্প পুলিশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে তৈরী পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বি.জি.এম.ই.এ এর সদস্য ৭৬ শতাংশ কারখানা, বি.কে.এম.ই.এ এর সদস্য ৯৭ শতাংশ কারখানা, টেক্সটাইল মিল মালিকদের সংগঠন বি.টি.এম.ই.এ এর সদস্য ৭৮ শতাংশ কারখানায় ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়নি। পোষাক শিল্প ছাড়া অন্যান্য শিল্পের মালিকদেরও প্রায় ৮০ শতাংশই অদ্যবধি শ্রমিকদের বোনস পরিশোধ করেননি। শুধু তাই নয় কোন কর্ম মাসের মজুরি পরবর্তী মাসের ৭ দিনের মধ্যে পরিশোধের আইনি বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও মালিকরা প্রতিনিয়ত সেই আইন ভঙ্গ করে। এখন পর্যন্ত বি.জি.এম.ই.এ, বি.কে.এম.ই.এ এবং বি.টি.এম.ই.এ এর যথাক্রমে ১৫৬, ৬৩ ও ৫২ টি সদস্য কারখানা শ্রমিকদের জুন মাসের বেতন পরিশোধ করেনি।

অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, শিল্প মালিকরা বেতন-ভাতা পরিশোধের আইনি বাধ্যবাধকতা মানেন না। বেতন-ভাতা পরিশোধে বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে শ্রমিকদের বিপদের মধ্যে ঠেলে দিয়ে উত্তেজনা তৈরী করেন তারপর সেই উত্তেজনার সুযোগ নিয়েশ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা বঞ্চিত করে চাকরিচ্যুত করেন, সংগঠিত হওয়ার চেষ্টাকে নস্যাৎ করেন আর শ্রমিকদের জিম্মি করে রাষ্ট্রের কাছ থেকে বিভিন্ন সহযোগিতা আদায় করেন। বারবার আইন অমান্য করেও শাস্তি পাওয়ার পরিবর্তে পুরস্কৃত হওয়া মালিকদের সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার প্রবনতা অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে আর পোশাক শিল্প মালিকদের এই বেপরোয়া মনোভাব অন্যান্য মালিকদেরও আইন অমান্য করতে উৎসাহিত করছে এমন মন্তব্য করে

নেতৃবৃন্দ বলেন, ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত করার প্রচেষ্টার করনে উদ্ভুত যেকোন পরিস্থিতির দায় মালিকদের বহন করতে হবে। উৎসবের সময়েও পর্যটন, হোটেল-রেস্তোঁরা, পরিবহন, দোকান-কর্মচারীসহ সংগঠিত-অসংগঠিত খাতের শ্রমিকরা বেতন-ভাতা-সহায়তা বঞ্চিত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।


এখানে শেয়ার বোতাম