মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি মোহাম্মদ জসিমের জীবিকায়নের সংগ্রাম

এখানে শেয়ার বোতাম

চট্রগ্রাম প্রতিনিধি:: করোনা ভাইরাস গোটা বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশ ও রেহাই পায় নি করোনার ভয়াল থাবা থেকে! করোনা মহামারীর কারণে দেশের অর্থনীতি একেবারে স্থবির। অনেকেই কর্মচ্যুত হয়েছেন আবার অনেক কর্মস্থলে বহাল থাকলে ঠিকমতো পাচ্ছেন না বেতন-বোনাস, যার কারণে মধ্যবিত্ত ও নিন্মমধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যারা লোকলজ্জার ভয়ে না কিছু বলতে পারছেন, না পারছেন সরকারী টিসিবি’র লাইনে গিয়ে দাঁড়াতে! সেখানে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য সরকারি সুযোগ সুবিধা সম্পূর্ণভাবে পাওয়া অনেকটা আকাশকুসুম কল্পনার মতো!

অনেকেই ভাবছেন এ কথাগুলোর প্রাসঙ্গিকতা কি? আজ এমনই ব্যক্তির জীবনচিত্র উপস্থাপন করব যে করোনাকালীন সময়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানবেতর জীবন যাপনের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

মোহাম্মদ জসিম (৩১)বাড়ী চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৩৩ নং ওয়ার্ড, কোতোয়ালি ফিরিঙ্গী বাজার,ডাঃ মন্নান গলিতে। তিনি একজন শারিরীক প্রতিবন্ধী (হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী)। ৬ সদস্যের পরিবারে ভাই,ভাবি,তাদের সন্তান ও জসিম। তার বড় ভাই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি কিন্তু করোনা মহামারীর তিনি বর্তমানে চাকুরিচ্যুত। যার ফলে পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস বন্ধ। মোহাম্মদ জসিম ও নিজবাড়িতে বসেই চা-পাতা বিক্রি করতেন যার ক্রেতা ছিলেন তারই প্রতিবেশী। যা থেকে তার নিজের হাতখরচ মোটামুটিভাবে চলে যেত, কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে সে কাজটাও এখন বন্ধ। অর্থনৈতিক দৈনতার জন্য পারিবারিক অশান্তি এখন নিত্যনৈমিত্তিকঘটনা হয়ে গেছে।

জসিম ব্যবসায়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থানের কথা বললে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি (ওয়ার্ড কাউন্সিলর) তাকে একটি মাঠে একটি দোকানের ব্যবস্থা করে দেন। যাতায়াতের অসুবিধার কারণে সেই দোকান আর পরিচালনা করা সম্ভব হয় নি। তিনি হুইলচেয়ার নিয়ে যাতায়াত করতে পারেন এমন কোনো স্থানে সিটি করপোরেশন যদি তার জন্য বরাদ্দ করেন তবে তার জীবিকায়নের জন্য সবচেয়ে ভালো হয় বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।


এখানে শেয়ার বোতাম