মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯

পূর্ব রাজাবাজার লকডাউন, অনেকেই এলাকা ছেড়েছেন

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঘনত্ব বিবেচনায় রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার এলাকা লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাত ১২টা থেকে এই লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের স্থানীয় ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান ইরান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ। এখন এই এলাকা থেকে কেউ বের হতে পারবে না এবং কাউকে প্রবেশ করতেও দেওয়া হবে না।’

এর আগে সোমবার এই এলাকার লকড়াউন বিষয়ক ঘোষণা আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ফলে বুধবার বাসিন্দাদের মধ্যে অনেককে এলাকা ছাড়তে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার রাত ১০টা দিকে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পূর্ব রাজাবাজার মসজিদ গলির শেষ মাথায় বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে লেখা আছে- ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভগ কর্তৃক পরীক্ষামূলক রেড জোন চিহ্নিত করে পূর্ব রাজাবাজার এলাকা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। প্রবেশ নিষেধ।’

অপরদিকে গ্রিন রোডে অবস্থিত আইবিএ হোস্টেলের পাশের সড়কের প্রবেশপথও বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ওই পথ দিয়ে চলাচলরত সাধারণ নাগরিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাত ১২টার পর এই সড়ক দিয়ে আর কেউ বের হতে পারবেন না। পাশাপাশি প্রবেশও করতে পারবেন না। সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

রাত সোয়া ১০টার দিকে ওই পথ দিয় বাসার মালামাল ভর্তি একটি ট্রাক বের হতে দেখা যায়। জানতে চাইলে ওই ট্রাকটির চালক জানান, লকডাউনের কারণে তারা আতঙ্কিত রয়েছেন। তাই বাড়ির মালিক বাসা ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন। কারণ এই এলাকায় থাকলে তারা বের হতে পারবেন না, ফলে তাদের ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করতে সমস্যা হবে।

এদিকে ওই এলাকার প্রধান সড়কটি ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বাসা-বাড়ির প্রধান ফটক বন্ধ রয়েছে। তবে তখনও দুয়েকটি দোকান খোলা দেখা যায়। আরও দেখা যায়, কেউ কেউ তাদের দোকানপাটের মালামাল গুছিয়ে রাখার কাজ করছেন।

জানতে চাইলে সালেহা স্টোরের মালিক রিয়াদুল ইসলাম বলেন, ‘১২টার মধ্যেই দোকান বন্ধ করে ফেলবো। কাল থেকে তো আর দোকান খোলা রাখা যাবে না। আসলে বলতে পারছি না কী হয়, কারণ দোকানে যেসব মালামাল আছে এগুলোর অধিকাংশই পচনশীল। আর ইঁদুরে তো নষ্ট করবেই। সে কারণে ভয় হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এলাকা থেকে অনেকেই চলে গেছেন। আসলে এত দিন লকডাউন এটা কেউ মানতে পারছেন না।’

ইয়াছিন আরাফাত নামে এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি অনেক দিন ধরেই এখানকার একটি বাড়িতে মেস বানিয়ে রয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের এলাকাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে তারা সমস্যায় পড়তে পারেন। সে কারণে অনেকেই বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। আবার কেউ কেউ ঢাকার অন্য এলাকায় আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের বাসায় চলে গেছেন।

নাজিম উদ্দিন নামে স্থানীয় এক বাড়ির মালিক বলেন, ‘সরকার নিশ্চই ভালোর জন্যই এটা করেছে। আমরাও চাই এই লকডাউন যাতে আগের মতো না হয়, সঠিকভাবে কার্যকর করে যদি এলাকাবাসীকে রক্ষা করা যায় তাহলে আমার মনে হয় কোনও সমস্যা হবে না।’

জানতে চাইলে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান ইরান বলেন, ‘আমাদের সব প্রস্তুতি প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দুই দিকেই সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বেরও হতে দেওয়া হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসলে লকডাউন কী জিনিস তা এখনও বুঝতে পারছে না মানুষ। অনেকেই বের হয়ে গেছে এটা সত্য। কিন্তু আমি এখন থেকে অনেক কঠোর হয়েছি। কাউকে কোনও পাস দেওয়া হচ্ছে না।’


এখানে শেয়ার বোতাম