শনিবার, ডিসেম্বর ৫

পুড়িয়ে হত্যায় জঙ্গি সম্পৃক্ততা ছিল না, স্থানীয়রাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে: বিভাগীয় কমিশনার

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল ওয়াহাব ভূঞা বলেছেন, বুড়িমারীতে আবু ইউসুফ শহিদুন্নবী জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক এবং দুঃখজনক। এ ঘটনায় জঙ্গি সম্পৃক্ততা ছিল না। স্থানীয় উত্তেজিত উচ্ছৃঙ্খল জনতাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়েও তাদের থামাতে পারেনি। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে গিয়ে আবু ইউসুফ শহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের শহীদ আফজাল মিলনায়তনে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য, লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর, পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা ও পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুননাহার তার সঙ্গে ছিলেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ইতোমধ্যেই তিনটি মামলা হয়েছে। আইনানুগ যে পদ্ধতি সে অনুযায়ীই বিচার হবে। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করার জন্য আমাদের অনেকগুলো প্রসেস (পদ্ধতি) রয়েছে, আমরা সেগুলো করছি।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও এ ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও ও ওসি সেখানে উপস্থিত হন। তাদের ধাওয়া দেওয়া হলে তারা একটা ঘরে আশ্রয় নেন। সেখানকার একটা ভবন ভেঙে লোকজন ঢুকে পড়লো। এটা ঠুনকো বিষয় নয়, সময় লেগেছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে বিপুল পরিমাণ উত্তেজিত উচ্ছৃঙ্খল জনতা ছিল। তারা সেই ভবন ভেঙে ঢুকে পড়ে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হয় কিন্তু তারা শোনেনি। পুলিশ গুলি ছুড়লেও তারা ছত্রভঙ্গ হয়নি। ফলে সেখানে যারা ভিকিটিম হতে যাচ্ছিলেন তাদেরকে আগে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় জঙ্গি সম্পৃক্ততা ছিল বলে মনে করেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমরা এখনও এমন কিছু পাইনি, জঙ্গি সম্পৃক্ততা আমরা মনে করি না।

জুয়েল নামের ওই ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে যাওয়া থেকে হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলার মধ্যে দুই আড়াই ঘণ্টা সময় লেগেছে। এই পুরো সময়ে কোনও দল প্রভাব খাটিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, এত সময় নয়, আমরা স্পটে (ঘটনাস্থলে) গিয়ে যা জেনেছি তা হচ্ছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাটি ঘটছে। এ ঘটনাটি এখন পুলিশ তদন্ত করেছে। তদন্তে যারা অভিযুক্ত হবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে তিনটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাকি বিষয় আদালতে সমাধা হবে।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য তিনটি মামলা দায়েরের তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককে আমরা খুঁজে বের করবো এবং যার জন্য যতটুকু শাস্তি প্রযোজ্য সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিহত ব্যক্তি বহিরাগত কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তিনি বহিরাগত কিনা এ বিষয়ে এখনই বলা সম্ভব নয়।’

তদন্ত প্রক্রিয়া কতদূর সম্পন্ন হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া অনেকদূর এগিয়েছে। এ ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলা, এটি করেছেন নিহতের আত্মীয়। অপরটি ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুরের মামলা, সেটি করেছেন বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আরেকটি এ ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে পুলিশ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা। এ মামলাটি করেছে পুলিশ। এসব মামলায় যাদের আমরা এরই মধ্যে শনাক্ত করতে পেরেছি তাদের আসামি করা হয়েছে। বাদ বাকি আসামিদের আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড মনে করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, আমরা মনে করি, এ ঘটনায় কারও না কারও ইন্ধন রয়েছে। নাহলে এমন একটা তুচ্ছ ঘটনা, যেটা কিনা ঘটনাই নয় সেটা নিয়ে এমন বড় কিছু হওয়ার কথাই নয়। যারাই থাকুক ঘটনার সামনে কিংবা পেছনে তাদের খুঁজে বের করা হবে।


এখানে শেয়ার বোতাম