মঙ্গলবার, মার্চ ২
শীর্ষ সংবাদ

পাঠ প্রতিক্রিয়া: তোত্তো-চান

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 40
    Shares

বিপ্লব নন্দী ::

তোত্তো-চান (জানলা ধরে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট মেয়েটা);
মূল (জাপানি ভাষায়): তেৎসুকো কুরোয়ানাগি;
ইলাস্ট্রেশন: চিহিরো ইবাসাকি;
বাংলা অনুবাদ: মৌসুমী ভৌমিক;
প্রকাশক: ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, ইন্ডিয়া;
প্রথম প্রকাশ: ২০০০খ্রি.

আমার আজন্ম লালিত স্বপ্ন একটি আদর্শ স্কুল প্রতিষ্ঠা করা যেটি হবে আমার স্বপ্নের স্কুল। ইউনিক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এই স্বপ্নের স্কুলের একটি খসড়া রূপরেখাও আমি তৈরি করে রেখেছি; কথা দিচ্ছি এটি অন্ততপক্ষে কোন বিদ্যা বিক্রির দোকান হবে না। শুধু অপেক্ষায় আছি কিছু স্বপ্নবাজ নবীন-প্রবীণ বন্ধুর যাদের সাথে নিয়ে অগ্রযাত্রা শুরু করবে আমার স্বপ্ন, হেটে বেড়াবে আমার স্বপ্ন, মাতিয়ে বেড়াবে আমার স্বপ্ন, স্বপ্নবাজ মানুষ তৈরি করবে আমার স্বপ্ন। মাঝে মাঝে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়ারের মত করে নিজেই নিজেকে স্বগতোক্তি করে বলি-‘আই হেভা ড্রিম!’

আমায় ক্ষমা করবেন বন্ধুরা, লিখতে বসেছি পাঠ প্রতিক্রিয়া, হয়ে যাচ্ছে ধান ভানতে শিবের গীত। কী আর করব বলুন, আমার স্বপ্নের কথাটা এই চান্সে আপনাদের জানিয়ে দেয়ার লোভ আমি সামলাতে পারলাম না। কারণ “তোত্তো-চান (জানলা ধরে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট মেয়েটা)” বইটি আমার সেই স্বপ্নকে দারুণভাবে তাতিয়ে দিয়েছে। এই বইটি আমাকে লিটারেলি পাগল (ইতিবাচক অর্থে) করে দিয়েছে। আমার বিশ বছরের ছোট্ট শিক্ষকতার ক্যারিয়ারে শিশুর মন, শিশু মনোবিজ্ঞান ও প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে এইরকম মাথা ঘুরিয়ে দেয়া বই আমি খুব কমই পড়েছি। কী আছে এই বইতে? চলুন তবে আমার সঙ্গে, আপনাদের নিয়ে একবার ঢুঁ মেরে আসি।

সারকথাঃ ‘তোত্তো-চান’ একটি ‘হাইপার-একটিভ’ এবং ‘হাইপার-সেনসিটিভ’ চাইল্ড। বয়স মাত্র সাত। ওইটুকুন ছোট্ট একরত্তির ফুলের মত মেয়েটাকে কি না তার স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেয়া হল ‘খুব বেশি দুষ্টু’ এই অপবাদ দিয়ে! তার মা-বাবার মনের অবস্থাটা তখন কী হতে পারে ভাবুন ত একবার? আর এই বাচ্চার উপরইবা কী প্রভাব পড়তে পারে, চিন্তা করা যায়? এইমুহূর্তে আপনাদের নিশ্চয়ই টমাস আলভা এডিসনের কথা মনে পড়ছে, তাইতো? যাহোক, তোত্তো-চানের মা খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন যে টোকিওর উপকণ্ঠে তোমোই গাকুয়েন নামে বেনিয়মের একটা স্কুল আছে আর আছেন অন্যরকমের এক আনইউজুয়াল হেডমাস্টার যিনি কি না রেলগাড়ির কতকগুলো পুরোনো বগিতে তার মজার স্কুলের ক্লাসরুমগুলো সাজিয়েছেন। তাঁকে বাচ্চারা অসম্ভব পছন্দ করে কারণ শিশুদের কাছ থেকে তিনি শুনতেই বেশি পছন্দ করেন আর কথা খুব কম বলেন। সবচেয়ে বড় কথা স্কুলের ব্যাপার সবসময় স্কুলেই মিটিয়ে দিতে পারেন।

প্রথমদিন যখন তোত্তো-চান এই নতুন বেনিয়মের স্কুলে ঢুকলো তখন রেলের বগিগুলো দেখে তার কী যে আনন্দ হয়েছিল। মনে হয়েছিল এটা একটা রেলস্টেশন, কী মজার জায়গা। হেডমাস্টারমশাইয়ের কাছে তার প্রথম প্রশ্ন ছিল-তুমি কে বল তো? স্কুলের মাস্টারমশাই, না কি স্টেশন মাস্টার?

হেডমাস্টারমশাইকে প্রথমদিনই তার আরো বেশি ভালো লেগে গিয়েছিল যখন তিনি তার মুখোমুখি একটা চেয়ার টেনে এনে বললেন, ‘বেশ। এবার তুমি তোমার কথা বলো। যা তোমার আমাকে জানাতে ইচ্ছে করছে, সব। তোমার যা খুশি তাই।’ তোত্তো-চান খুব সাবলীলভাবে কথা বলা শুরু করলো। কত কথা যে তার যেন ফুরোয় না। তার কথা শেষ হওয়ার পর হেডমাস্টারমশাই জিজ্ঞেস করলেন-‘আর কিছু বলবে না তুমি আমাকে?’

মজার ব্যাপার হল এর আগে বা পরে কোনো দিনই কেউ তোত্তো-চানের কথা এতক্ষণ ধরে শোনেন নি। আর সাত বছরের একটা শিশুর চার ঘন্টা ধরে বলার মতন এত কথাও যে থাকতে পারে এটা হয়তো কেউ ভাবতেই পারেনি। কিন্তু একজন ভেবেছিলেন এবং এতক্ষণ ধরে একবারও হাই না তুলে, বিরক্তি বা ক্লান্তি প্রকাশ না করে একটানা ওর কথা শুনে গেছেন, তিনি আর কেউ নন, তার নতুন হেডমাস্টারমশাই। তারপর তিনি তোত্তো-চানের মাথার উপর ওঁর মস্ত, উষ্ণ হাতটা রেখে যখন বললেন,-‘বেশ। এখন তুমি এই স্কুলের ছাত্রী হয়ে গেলে।’ আর সেই মুহূর্তে ওর মনে হল এই মানুষটার মতন চমৎকার একজন মানুষের সঙ্গে আগে কখনো ওর দেখা হয়নি। মনে হয়েছিল এবার আর ওকে কেউ কিছু করতে পারবে না। ইচ্ছে হয়েছিল সারাটা জীবন সে এই মানুষটার কাছে থেকে যায়। পরিচয়ের প্রথম দিন হেডমাস্টারমশাই সোসাকু কোবায়াশিকে এতটাই ভালো লেগেছিল তোত্তো-চানের।

এবার তোমোই গাকুয়েন স্কুলের একটি দিনের কার্যক্রমের দিকে একটু দৃষ্টিপাত দেয়া যাক।

দিনের শুরুঃ দিনের শুরুটা হত এভাবে—এসেম্বলির পরে প্রত্যেক ক্লাসের ক্লাস টিচার প্রথমেই ঐদিনের কাজের প্ল্যানটা বলে দিতেন-মানে সারাদিন ধরে কী কী কাজ করা হবে, কী কী বিষয় শেখা হবে তার একটা চেকলিস্ট আর কি। এবার শিক্ষকমশাই বলতেন-‘তোমরা যে কাজটা দিয়ে দিন শুরু করতে চাও সেটা সবার আগে করে ফেলো।’

অনুপ্রেরণাঃ এতে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় বিষয় দিয়ে দিন শুরু করতে পারত, তাই ওরা জানতো যে সারাটা দিন পড়ে আছে অপছন্দের কাজগুলো করবার জন্য। এর ফলে অপছন্দের কাজগুলোও একসময় ঠিক ঠিক করা হয়ে যেত।

উদ্দেশ্যঃ এইভাবে পড়ানোর উদ্দেশ্য ছিল, ছেলেমেয়েরা যত উঁচু ক্লাসে উঠবে, শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ ততই স্পষ্ট দেখতে পাবেন যে কে কোন বিষয়ে বেশি উৎসাহী এবং কোনটাতে কে বেশি ভালো করে। এইভাবে ওঁরা ওঁদের শিক্ষার্থীদের মনগুলো চিনতে পারবেন, বৈশিষ্ট্যগুলো ধরতে পারবেন। তোত্তো-চানের ক্লাস অর্থাৎ ক্লাস ওয়ানের শিক্ষার্থীরা যদিও স্বাধীনভাবে পড়াশুনা করার মত বড় হয়নি, তবুও ওরাও যে যার ইচ্ছেমতন বিষয় বেছে নিয়ে পড়া শুরু করতে পারত।

রিওয়ার্ডঃ সকালবেলা কোন ক্লাসের শিক্ষার্থীরা যদি ভালো করে পড়াশুনা করত, যদি মিজের দেওয়া কাজ সবাই ঠিকমতন শেষ করতে পারত, তাহলে দুপুরে লাঞ্চের পর সাধারণত ওদের হাঁটতে নিয়ে যাওয়া হত প্রকৃতির কাছে, সে ক্লাস ওয়ানই হোক বা ক্লাস সিক্স।

লাঞ্চ পিরিয়ডঃ এই পিরিয়ডটি ছিল বাচ্চাদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। বিরাট বড় হলঘরের মত ডাইনিং হলে বড় বড় হরফে লেখা আছে “সাগর থেকে পাহাড় থেকে।” ডাইনিং হলে সবাই বসবার পর হেডমাস্টারমশাই বলতেন-‘কই দেখি, সবাই ‘সাগর থেকে পাহাড় থেকে’ কিছু কিছু খাবার এনেছো কি?’ হ্যাঁ। সবাই টিফিন বক্স খুলতে খুলতে চিৎকার করে উঠত। হেডমাস্টারমশাই ঘুরে ঘুরে সবার টিফিনবক্সে কী কী আছে তা দেখতেন আর উৎসাহ দিতেন। স্কুলের দুপুরের খাওয়া-দাওয়া যে এত মজার হতে পারে বাচ্চারা এর আগে ভাবতেই পারেনি।

খাবারের নিয়মঃ তিনি আরো বলতেন-ধীরে ধীরে, গল্প করতে করতে, এবং ভালোবেসে খাবারটা খেতে হবে। খাবারের একটা গানও তিনি তৈরি করেছিলেন যেটা প্রতিদিন খাবারের আগে গাওয়া হত। গানটা হল—
‘ভালো করে চিবোও তুমি, চিবিয়ে চিবিয়ে খাও।
ভাত-মাছ-মাংস-ডিম সবটা চিবিয়ে নাও।।’

উদ্দেশ্যঃ ‘শিশুকে পুষ্টিকর খাবার দিন, আপনার সন্তানকে সবধরনের খাবার খেতে শেখান’- এইসব বাঁধা বুলির বদলে বাবা-মাকে ‘পাহাড় থেকে সাগর থেকে’র কথাটা বুঝিয়ে বলা কত সহজ। পাহাড় থেকে মানে একটা অমলেটও হতে পারে কিংবা শাক-সব্জি, ভাত-ডাল, অথবা রুটি-কলা-মাখন। আর সাগর থেকে মানে যেকোন ধরনের মাছের তৈরি কাটলেট-চপ-চিপস-ফিশবল ইত্যাদি।

ইনক্লুসিভ লারর্নিং: তাকাহাশি নামে বামন ছেলেটা জানত যে ও আর বড় হবে না সেজন্যে হেডমস্টারমশাই স্পোর্টসের দিন কতসব অদ্ভুত অদ্ভুত খেলা আবিষ্কার করতেন, স্রেফ তাকে জিতিয়ে দেবার জন্য।

অ্যানুয়াল স্পোর্টসঃ স্পোর্টসের পুরস্কারের ব্যাপারটিও ছিল অন্যরকম। প্রথম পুরস্কার একটা মস্ত মুলো। দ্বিতীয় পুরস্কার দুটো বার্ডকের শিকড়, তৃতীয় এক আটি পালং শাক, এই ধরনের সব জিনিস। এগুলো পুরস্কার দিয়ে হেডমাস্টারমশাই বলতেন-‘মাকে গিয়ে এগুলো দিয়ে বলো, আজ রাতের জন্য কিছু একটা রান্না করতে। এই সব্জিগুলো তো তোমরা নিজেরা নিজেদের পরিশ্রম দিয়ে উপার্জন করেছ, তোমাদের বাড়ির সবার জন্য তোমরা নিজেরা কিছু একটা রোজগার করে নিয়ে যাচ্ছ আজ।’

ইউরিদমিক্সঃ তোমোই গাকুয়েন স্কুলে সঙ্গীত ছিল পড়াশুনারই অঙ্গ। প্রতিদিন একটা বিশেষ ক্লাস হত এখানে, তার নাম ইউরিদমিক্স। ইউরিদমিক্সের লক্ষ্য শরীর আর মনের ভিতরে তাল আর ছন্দের একটা বোধ জাগিয়ে তোলা। এর ফলে দেহ আর মনের চলনে একটা ঐকতান সৃষ্টি হয়। অবশেষে এই ঐকতান সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে শিশুদের মনের মধ্যে কল্পনা শক্তি আর সৃজনশীলতার জন্ম হয়। এই ক্লাসটির জন্য বাচ্চারা রীতিমত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকত।

কৃষি শিক্ষাঃ এই ক্লাস নিতেন একজন পেশাদার কৃষক এবং ক্লাসটি হত স্কুলের কিচেন গার্ডেনে হাতে-কলমে। বাচ্চারা নিজেরাই মাঠ প্রস্তুত করত। মাঠ প্রস্তুত করার পরে চারা লাগানো হলে পরে প্রতিদিন তারা গাছগুলোর পরিচর্যা করতো। গাছগুলো একটু একটু করে বড় হচ্ছে তা তারা প্রতিদিন মাঠে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করত। বাচ্চাদের জন্য সে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

লাইব্রেরি ক্লাসঃ আরেকটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা লাইব্রেরি ক্লাস। এটি ছিল আলাদা আরেকটি রেলের কামরায় স্কুল ক্যাম্পাসের এক পাশে। এসময় দেখা যেত সারাটা ক্যাম্পাস জুড়ে বাচ্চারা বই পড়ছে। এ যেন অন্যরকমের এক মহোৎসব।

আত্মবিশ্বাসী হওয়ার দীক্ষাঃ প্রতিদিন লাঞ্চের সময়ে কাউকে না কাউকে দাঁড়িয়ে সবার উদ্দেশ্যে কিছু না কিছু বলতে হত। এভাবে করে সবচেয়ে লাজুক শিক্ষার্থীটিও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠত।

তুমি তো খুব ভালো মেয়েঃ দিনে যতবার তোত্তো-চানের সাথে হেডমাস্টারমশাইয়ের দেখা হত ততোবারই এই কথাটি তিনি তাকে বলতেন। পরে জানা গেল তিনি সবাইকেই এই কথাটি বলতেন।

ভয় পেতে হবেঃ হেডমাস্টার মশাই বলতেন-অদৃশ্য কোন বস্তু বা ভূতকে ভয় নয়। চোখ থাকা কিন্তু কোন সৌন্দর্য দেখতে না পাওয়া, কান থাকা কিন্তু কোন সুর শুনতে না পাওয়া, বুদ্ধি থাকা অথচ বোধ না থাকা, মন থাকা কিন্তু তাতে সুখ-দুঃখের স্পর্শ না লাগা, মনের মধ্যে আগুন জ্বলে না ওঠা-এগুলোকেই ভয় পেতে হবে।

যে মেয়েটি সুনিয়মের স্কুল থেকে বিতাড়িত হয়েছিল সে এই বেনিয়মের স্কুলে প্রথম দিনে এসেই কোন এক যাদুর ছোঁয়ায় যেন আমুল বদলে গেল। যে মেয়েকে সকালবেলা ঘুম থেকেই উঠানো ছিল বিশাল এক ঝক্কি-ঝামেলার ব্যাপার সেই কি না দ্বিতীয় দিনেই সবার আগে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যাবার জন্য রেডি হয়ে বসে আছে।

কিন্তু এই চমৎকার স্কুলটির জীবনে সবচেয়ে দুঃখের ঘটনাটি ঘটল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে। ১৯৪৫ সালের একরাতে মার্কিন বোমা হামলায় স্কুলটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কিন্তু অসংখ্য শিক্ষার্থী আর বিশ্বব্যাপী শত-কোটি শিক্ষানুরাগীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে তোমোই গাকুয়েন।

এই যে হাল আমলের শিক্ষা ব্যবস্থা, এই যে লেখা বুলি পড়ানো আর পাঠ মুখস্থ করানো, এসবের ঘোর বিরোধী ছিলেন সোসাকু কোবায়াশি। তিনি মনে করতেন মুখস্থ বিদ্যার ফলে শিশুদের অনুভূতি কমে যায়, ওদের প্রকৃতি থেকে পাঠ নেবার সহজাত ক্ষমতার ক্ষয় হয়, ওরা প্রকৃতির মধ্যে ঈশ্বরের প্রকাশকে অনুভব করতে পারে না।

শেষ করব তোমোই গাকুয়েন স্কুলের হেডমাস্টারমশাই সোসাকু কোবায়াশি’র একটি উদ্ধৃতি দিয়ে- “শিশুরা জন্মায় খুব ভালো মানুষ হিসেবে কিন্তু বড়োদের কুপ্রভাব তাদের স্বভাব বদলে দেয়, তাই শিশুদের সম্পূর্ণ স্বাধীন মানুষ হিসেবে চিন্তা করতে দেওয়াই মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থার মূল।”

শেষ কথাঃ এই বইটি পড়া না হলে হয়তো আমার জানা হতো না, মানুষের জীবনে প্রাথমিক শিক্ষাস্তরটি কেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ? শিশুর পরিপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এবং ব্রেইন ডিভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে মিউজিকের গুরুত্ব কেনই বা এত বেশি, কিংবা ইউরিদমিক্স কী এবং এর আবিষ্কর্তা কে, শিশুকে প্রকৃতির সংস্পর্শে রাখা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? কনশাস পেরেন্টিং কী? একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রধান কাজ কী? একজন আদর্শ অভিভাবকের দায়-দায়িত্ব কী? ইত্যাদি, ইত্যাদি। আমার ক্ষেত্রে বইটি একটি আই ওপেনার। আপনিও একবার এই আই ওপেনারটি ট্রাই করে দেখতে পারেন। বিফলে মূল্য ফেরত।

ফারদার রিডিং এ আগ্রহীদের জন্য আরো কয়েকটি বইয়ের নাম এখানে সংযুক্ত করা হলঃ আবুল মোমেনের ‘জিয়নকাঠি’ ও ‘শিশুর জয়যাত্রা’, ছদরুদ্দিনের ‘শিশুমন’, ব্রুস এইচ লিপটনের ‘কনশাস পেরেন্টিং’, মমতাজ লতিফের ‘শিশুরমন ও শিক্ষা’, ডা. মোহিত কামালের ‘শিশুর মনোজগৎ শিশুর সৃজনশীল বেড়ে ওঠা’, গালিনা কিরিলেঙ্কো ও লাদা করশুনোভার ‘ব্যক্তিত্ব কী’, তানজীনা ইয়াসমিন, তানবীরা তালুকদার ও রাখাল রাহার ‘তিন ভুবনের শিক্ষা’।

লেখক: শিক্ষক , সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, সিলেট


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 40
    Shares