শনিবার, ডিসেম্বর ৫

পাটশিল্প রক্ষার্থে ৫ দফা দাবিতে খুলনায় বিশাল মানববন্ধন

এখানে শেয়ার বোতাম

খুলনা প্রতিনিধি:: রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ নয়, বিজেএমসি বাতিল করে মন্ত্রণালয়ের অধীনে টাস্কফোর্স গঠন করে অনতিবিলম্বে চালু করে আধুনিকায়ন কর, ঈদের পূর্বেই সকল শ্রমিকদের ঈদ বোনাস সহ ২০১৯ সালের বকেয়া ৬টি বিল প্রদান করা সহ ৫ দফা দাবিতে খুলনায় প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত।

আজ রবিবার ( ২৬ জুলাই) রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রক্ষায় শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্যে পরিষদের উদ্যেগে খুলনার খালিশপুরের ক্রিসেন্ট জুটমিল গেইটে এই প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

খুলনা-যশোরে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শ্রমিক ও অংশগ্রহণকারীরা শুরুতে প্লাটিনাম জুটমিল গেটে আসতে থাকলে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা ও বাধার মুখে তারা প্লাটিনাম গেটে অবস্থান নিতে পারেনি।

সবশেষে, সমস্ত বাধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে খালিশপুরে অবস্থিত খালিশপুর জুটমিল, ক্রিসেন্ট জুটমিল, প্লাটিনাম জুটমিল, দৌলতপুর জুটমিল, চন্দনী মহলের স্টার জুটমিল, ফুলতলার ইস্টার্ন জুটমিল, নোয়াপাড়ার জেজেআই জুটমিলের পাটকল শ্রমিক ও খুলনার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, খুলনার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবিদের সতস্ফুর্ত অংশগ্রহনে মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হয় সকাল ১০ঃ৩০ এ ক্রিসেন্ট গেটে।

পরবর্তীতে কর্মসূচি শুরুর কিছু সময় পরেই অংশগ্রহণকারীদের সতস্ফুর্ত উদ্যেগে রাস্তা অবরোধ করা হয়।

শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্য পরিষদের সংগঠক রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, খুলনা -এর সভাপতি মোঃ আলামিন।

বক্তব্য রাখেন গ্রেফতারকৃত শ্রমিক নেতা নুর ইসলাম এর ছেলে জনি, স্টার জুটমিলের শ্রমিক নেতা আলমগীর হোসেন, জেজেআই -এর রবিউল ইসলাম, খালিশপুর জুটমিল এর আবুল কালাম, ক্রিসেন্ট জুটমিলের সাহেদ আলি, ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন খুলনা জেলা সভাপতি হুমায়ন কবির, গনসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা সভাপতি মুনির চৌধুরী সোহেল, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ মোস্তফা খালিদ খসরু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস শাখার সভাপতি সুজয় বিশ্বাস শুভ; বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন।

বক্তারা বলেন, পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত পত্যাহারসহ পাচ দফা দাবি মেনে না নেওয়া হলে আগামীতে শ্রমিকরা একা নয়, শ্রমিকরা স্ত্রী-সন্তান সহ আন্দোলনে নামবেন; সাথে রাস্তায় নামবেন খুলনার ছাত্র, শ্রমিক, নানা পেশাজীবি ও জনতার সম্মিলিত শক্তি।
তারা বলেন, রোগী অসুস্থ হলে মেরে ফেলা নয়, প্রয়োজন কার্যকর সুচিকিৎসা।

৫ দফার মধ্যে আর ছিল : ২০১৩ সাল থেকে অবসরকৃত শ্রমিকদের পাওনাদি এককালীন পরিশোধ কর, শ্রমিক নেতা ওলিয়ার রহমান ও নূর ইসলামকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দাও, রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলের অব্যবস্থা ও দুর্নীতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্তমুলক আইনানুগ ব্যবস্থা নাও।

উল্লেখিত, যে এই কর্মসূচির গনসংযোগ ও ৫ দফা দাবি সংবলিত লিফলেট বিতরনকালে গত ২৪/০৭/২০২০ তারিখ সন্ধ্যা সাতটায় প্লাটিনাম জুটমিল গেট থেকে শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্য পরিষদের সংগঠক রুহুল আমিন, মিহির কান্তি মন্ডল ও মাসুদ রানা(শ্রমিক, খালিশপুর জুটমিল)কে পুলিশ সাদা পোষাকে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদের সাথে দেখা করতে যাওয়ায় ‘অপরাধে’ থানায় আটকে রাখা হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা সুজয় বিশ্বাস শুভ, হৃদয় বিশ্বাস, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এক শিক্ষার্থী, সরকারি বিএল কলেজের ছাত্র নিয়াজ মুর্শিদ দোলন এবং স্নাতক শিক্ষার্থী অনিক ইসলাম কে। পরবর্তীতে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রতিবাদের পেরিপ্রেক্ষিতে গভীর রাতে থানা কর্তৃপক্ষ তাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

কর্মসূচির পুর্ব দিন ২৫/০৭/২০২০ তারিখে এই কর্মসূচির অনুমতির জন্য কেএমপিতে আবেদন করা হলে লিখিত অনুমতি না দিয়ে সিটিএসবি থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয় যে প্রোগ্রাম করা যাবে।

অথচ ২৫/০৭/২০২০ তারিখ দিনব্যাপী ‘জাতীয় পাটশিল্প রক্ষা আন্দোলনে’র সংগঠক-কর্মীদের প্রশাসনের বিভিন্ন মহল থেকে ধারাবাহিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা হতে থাকে। বিশেষত র‍্যাব-৬ সুত্র দিয়ে কয়েক দফায় সংগঠক রুহুল আমিন কে র‍্যাব-৬ কার্যালয়ে আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরের দিন পূর্বঘোষিত কর্মসূচি থাকায় কর্মসূচি শেষে দেখা করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সম্মত না হয়ে তখনই কার্যলয়ে আসার জন্য চাপ দিতে থাকেন।


এখানে শেয়ার বোতাম