শনিবার, জানুয়ারি ২৩

পাওনার দাবিতে ড্রাগন গ্রুপ শ্রমিকদের বিক্ষোভ-সমাবেশ

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 23
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: দীর্ঘ পাঁচ মাসব্যাপী আন্দোলনরত ড্রাগন গ্রুপ শ্রমিকদের আইনগত পাওনা পরিশোধ করতে কারখানার মালিক সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার নামে কালক্ষেপণ করা শ্রম মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ গতকাল শ্রমিকদের একথা জানান। তারা একইসাথে শ্রমিকের আইনগত পাওনা পরিশোধে মালিককে বাধ্য করতে নিজেদের অপারগতার কথা জানান।

এর প্রতিবাদে এবং তদের আইনগত পাওনার দাবিতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পল্টন-প্রেসক্লাব এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ড্রাগন গ্রুপের শ্রমিকবৃন্দ।

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বিগত করোনা মহামারির সময়ে শ্রমিকদের সীমাহীন দুর্দশার দায়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর অপসারণের দাবি জানানো হয়।

ড্রাগন গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, ড্রাগন কারখানার শ্রমিক রমেসা বেগম, আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ। সমাবেশ শেষে শ্রমিকরা মিছিল করে শ্রম ভবনে অবস্থান গ্রহণ করে।

বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিকনেতা মঞ্জুর মঈন বলেন, শ্রম মন্ত্রণালয়কে একটি অকার্যকর এবং ডাম্পিং দপ্তরে পরিণত করে রাখা হয়েছে। শ্রমিকদের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা রক্ষা করার প্রয়োজন সরকার বোধ করে না বিধায় মালিকদের হুকুমে এ দপ্তর চলছে। যার ফলে শ্রমিকদের বেতন কমানোর উদ্দেশ্যে শ্রম ভবনে ঘটা করে সভা হলেও শ্রমিকের পাওনা আদায়ে এ দপ্তর কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না।

তিনি বলেন, আলোচনার নাম করে কয়েক মাস ধরে শ্রমিকদের রাস্তায় ঘোরানোর দায়-দায়িত্ব শ্রম মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তাদের নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, করোনা মহামারিকালীন সময়ে শ্রমিকদের সীমাহীন দুর্দশার দায়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় শ্রমিকের আইনগত পাওনা পরিশোধের দাবির পাশাপাশি তাদের অপসারণের দাবিতে গোটা শিল্পে শ্রমিক আন্দোলন গড়ে উঠবে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ ২০২০, সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে ড্রাগন গ্রুপের দু’টি কারখানা ড্রাগন সোয়েটার লি. এবং ইম্পেরিয়াল সোয়েটার লি. কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে কারখানা দু’টি কুমিল্লায় স্থানান্তরের নোটিশ জারি করা হয়। শ্রমিকরা কুমিল্লায় স্থানান্তরিত না হওয়ার কথা জানিয়ে মালিকপক্ষের কাছে আইনানুগ পাওনা পরিশোধের দাবি জানান। পরবর্তীতে মে মাসে নতুন করে করোনা মহামারির কারণ উল্লেখ করে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ইতোমধ্যে কিছু নতুন শ্রমিক দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে কারখানা দু’টি চলমান বলে মালিক দাবি করছে। দীর্ঘদিন কর্মরত পুরাতন শ্রমিকরা কাজে যোগদান করতে গেলে তাদের কাজে যোগদান করতে দেয়া হচ্ছে না।

এমতাবস্থায়, কয়েক মাস ধরে শ্রমিকরা তাদের আইনানুগ পাওনা অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ জমা করা বেতনের ৭ শতাংশ টাকা এবং আইনুযায়ী মালিকের প্রদেয় ৮ শতাংশ টাকা, প্রতি বছর কাজের জন্য সার্ভিস বেনিফিট বাবদ একটি বেসিকের সমান টাকা, অর্জিত ছুটির টাকা, ৩ মাসের বকেয়া বেতন, ২টি বকেয়া বোনাস পরিশোধের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাগণ দিনের পর দিন সময় নিয়ে অন্তত ৬ বার মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেও আইন প্রতিপালনে মালিককে বাধ্য করতে ব্যর্থ হন। ড্রাগন মালিক মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস বিজিএমইএ’র প্রথম সভাপতি ও অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় সরকার তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আগামীকাল ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার শ্রম মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ; ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার জাতীয় জাদুঘরের সামনে ছাত্র-শিক্ষক-লেখক-শিল্পী-জনতার সংহতি সমাবেশ; ২০ সেপ্টেম্বর, রবিবার গণভবন অভিমুখে শ্রমিকদের ভুখা মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 23
    Shares