শনিবার, জানুয়ারি ১৬

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকারীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার চায় ছাত্র ফ্রন্ট

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ২ বছরেও প্রকৃত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন ধরণের ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবং উল্টো হামলার শিকার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকেই মামলা দিয়ে নিপীড়নের নিন্দা জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে একথা জানান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল কাদেরী জয় ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সেই আন্দোলনের লড়াকু যোদ্ধাদের প্রতি আমরা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের পক্ষ থেকে বিপ্লবী অভিবাদন জানাই। আমরা এমন একটি সময়ে বাস করছি, যখন ছাত্রসমাজকে ভ্রান্ত ক্যারিয়ারের নেশায় বুঁদ করে রেখে আত্মকেন্দ্রিকতার মোহজালে আবদ্ধ করে রেখেছে আমাদের রাষ্ট্র। ছাত্ররাজনীতি ও আন্দোলনের সকল গৌরবান্বিত ইতিহাসকে কালিমালিপ্ত করে ছাত্ররাজনীতির নামে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি-খুন খারাবি-মাদকাসক্তিকেই তুলে ধরছে তারা। এর বিপরীতে গিয়ে কেউ টুঁশব্দ করলেই তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে নিপীড়নের নানা কৌশল। এরই মাঝে যে শিক্ষার্থীরা এই নিপীড়ন আসবে এটা জেনেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, তারা নিঃসন্দেহে ভবিষ্যৎ যুদ্ধে আশার আলোকবর্তিকা বহন করবেন।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “এই রাষ্ট্র কার পক্ষে তা আপনারা ইতোমধ্যে বুঝে গিয়েছেন। এই আন্দোলন শুরু হলে এর যৌক্তিকতাকে সরকার কোন ভাবেই অস্বীকার করতে না পেরে কৌশলে একে দমনের সিদ্ধান্ত নেয়। গুজবের হিড়িক তুলে আমাদের নিরস্ত্র কোমলমতি কিশোরদের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে রাষ্ট্রীয় মদদে হেলমেট বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে সশস্ত্র হামলা করতে আমরা দেখেছি, তাদের পরিচয় বের করে পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। আন্দোলনের সময় ও পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীসহ কয়েকশ ব্যক্তির নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৬০টি মামলা হতে দেখেছি। ১৪ জন সাংবাদিককেও হেলমেট বাহিনী রক্তাক্ত করে, তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকরাও আন্দোলনে নেমেছিলেন। আমরা দেখেছি আল জাজিরাতে এই আন্দোলন নিয়ে সাক্ষাৎকার দেবার অপরাধে বিখ্যাত আলোকচিত্রি শহিদুল আলমকে গ্রেফতার ও নিপীড়ন করা হয়েছে। কিংবা পরবর্তীতেও ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ক্যাম্পাসগুলোতে একচ্ছত্র আধিপত্য ও ত্রাসের রাজত্ব এবং তার ফলস্বরূপ বুয়েটের নিরীহ শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যাকান্ডও আমরা দেখেছি। কিন্তু আমরা গত ২ বছরে এই একটি ঘটনার বিচারও প্রত্যক্ষ করিনি। উল্টো যারা একটি নিরাপদ সড়ক ও স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চেয়ে রাস্তায় আন্দোলনে নামলো, তাদের জন্য বরাদ্দ হল গুলি-টিয়ার গ্যাস-জল কামান ও বছর বছর জেল-হাজত-মামলা। স্পষ্টতই বোঝা যায়, এই রাষ্ট্র কার পক্ষে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এখনও শেষ হয়নি। সড়কে মৃত্যুর মিছিলও থামেনি। আমাদেরকে ভুলে গেলে চলবে না, এই আন্দোলনের কারণে এখনও পুলিশী নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে আমাদের অনেক সহযোদ্ধাদের। এই নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রের উচ্ছেদ ছাড়া সেই আন্দোলন শেষ হবে না। এর জন্য চাই পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত আন্দোলন। আমরা ছাত্রসমাজকে সেই আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাই”।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সরকারকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নামে দেওয়া রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করে তাদেরকে নানাভাবে হেনস্তা করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান, একই সাথে এই আন্দোলনে হামলাকারী সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেফতার করে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম