শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো এবং সিন্ডিকেটকারীদের শাস্তির দাবিতে বগুড়ায় বাসদের সমাবেশ

এখানে শেয়ার বোতাম

বগুড়া প্রতিনিধি :: পেয়াজ,চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো এবং অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়িদের চিহ্নিত করে,দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাসহ ৩ দফা দাবিতে- বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আজ ২২ নভেম্বর সকাল ১১: ৩০ টায় সাতমাথায় মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাসদ বগুড়া জেলা আহবায়ক কমরেড অ্যাড.সাইফুল ইসলাম পল্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলা সদস্যসচিব সাইফুজ্জামান টুটুল জেলা সদস্য মাসুদ পারভেজ, দিলরুবা নুরী, রাধা রানী বর্মন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বগুড়া জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে কমরেড সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, ভারত পিঁয়াজ রপ্তানী নিষিদ্ধ ঘোষণার একদিন পরই বাংলাদেশের বাজারে পিঁয়াজের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। ২৫-৩০ টাকার পিঁয়াজ ৭০-৮০ টাকা হয়ে ২৫০ টাকা হয়েছে। অথচ সরকার বাজার সিন্ডিকেট ও মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ না করে জনগণকে কৃচ্ছতা সাধনের পরামর্শ দিচ্ছে। যে কথা মূল্যবৃদ্ধি কারসাজির সাথে যুক্ত সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বলতে পারছে না। ইতিমধ্যে পিঁয়াজের সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা গত দুই/ আড়াই মাসে জনগণের পকেট থেকে ৪/৫ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে পিঁয়াজের দাম নিয়ে সবাই যখন ক্ষুব্ধ-বিক্ষুব্ধ, তখন চাল, আদা, রসুন, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। এতে শ্রমজীবীসহ নি¤œ আয়ের মানুষ ও সাধারণ জনগণের জীবনে নাভিশ্বাস নেমে আসছে।

তিনি আরও বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা ও মজুতদার, মুনাফাখোর পিঁয়াজ সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গণবণ্টন ব্যবস্থা চালু, টিসিবিকে কার্যকর করে সারাদেশে পিঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহের দাবি জানান। সেই সাথে সরকারি উদ্যোগে পিঁয়াজ সংরক্ষণ করার জন্য ফরিদপুর, পাবনা, বগুড়া, ঝিনেদা, কুষ্টিয়াসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাতে পর্যাপ্ত হিমাগার নির্মাণ করার দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের দেশ কৃষি প্রধান দেশ। মোট গ্রামীন শ্রমশক্তির ৬০ ভাগের বেশি নিয়োজিত কৃষিতে। জিডিপির প্রায় ১৬% আসে কৃষি থেকে। অথচ কৃষক আজ নানামূখি সংকটে জর্জরিত। একদিকে সার, বীজ, কীটনাশক,বিদ্যুৎ এর দাম দিন দিন বাড়ছে,। অন্য দিকে অসাধু মুনাফাভোগী ব্যবসায়ীরা এই সকল কৃষি উপকরণে দিচ্ছেন ভেজাল। কৃষক ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। আমন ধানের কাটার মৌসুম চলছে কৃষক ধান কাটছে এবং বিক্রি করছে আমরা জনতে পারছি কৃষক সরকারি নির্ধারিত দাম পাচ্ছে না। এবং আলু চাষীরা আলুর ভালো বীজ সংকটে ভুগছে তাইতাই নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই সকল সংকট নিরসন করতে-পেয়াজ,চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো এবং অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়িদের চিহ্নিত করে,দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। প্রতি ইউনিয়নে কমপক্ষে ১টি সরকারি ক্রয়কেন্দ্র খুলে, সরকারি রেটে প্রতিমণ ১০৪০/- টাকা দরে খোদ কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা, এবং বি এ ডিসির সংরক্ষিত আলু বীজ আলু চাষীদের মাঝে ন্যয্যমূল্যে সরবরাহ করার দাবি জানান । এবং সরকারের দুর্নীতি, দুঃশাসন, লুণ্ঠন, মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম