বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫
শীর্ষ সংবাদ

নিজেকে বিসর্জন দেব, তবুও মিথ্যা বলব না: কাদের মির্জা

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 17
    Shares

নোয়াখালী প্রতিনিধি:: নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী কামাল চৌধুরী ভোটের দিন বলেছিলেন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে। ভোটের পরের দিন ওনার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি আমাকে অভিনন্দন জানান, জামায়াত প্রার্থী মোশাররফ হোসাইনও আমাকে অভিনন্দন জানান। ৩ দিন পর কামাল চৌধুরী বললেন ডিজিটাল কারচুপি হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয়ভাবে চাপ আছে, বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গার বিএনপি প্রার্থীরা অভিযোগ করেছে ভোট কারচুপি হয়েছে। তাই কামাল চৌধুরী সুর পাল্টিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপে বলেছেন নির্বাচন কারচুপি হয়েছে। তাকে বলছি, আপনি যদি প্রমাণ করে দিতে পারেন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি; তাহলে আমি শপথ নেব না। নতুন করে নির্বাচন হবে। এতকিছু করার পরও নির্বাচনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন। আমি রাজনীতির জন্য নিজেকে বিসর্জন করে দেব, তবুও মিথ্যা কথা বলব না।

কাদের মির্জা বলেন, বিএনপি হলো কমলাপুর রেল স্টেশনের দল। বিভিন্ন দল থেকে এসে এই দলে লোকজন একত্রিত হয়েছে।

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে আবদুল কাদের মির্জা বলেন, নিক্সন চৌধুরী সাহেব আপনি কী করেন, এদেশের মানুষ জানে। মিডিয়াকর্মীরাও জানে। আমি আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের বলবো আপনারা যদি নিক্সন চৌধুরীর মতো এই অপরাজনীতিবিদদের না থামান, গণআদালতে- একদিন আপনাদেরও বিচার হবে।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই আলোচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বুধবার সন্ধ্যায় বসুরহাট রূপালী চত্ত্বরে উপজেলার ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

কাদের মির্জা বলেন, এদেশে যখন যারা ক্ষমতায় আসে কিছু কিছু লোক মনে করে দেশটা তাদের। নোয়াখালীর একরাম চৌধুরী উপজেলা চেয়ারম্যান জেহানকে দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টেন্ডারবাজি করছে। সম্প্রতি ওই দপ্তরের একটি টেন্ডার সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান লিপটনকে পাইয়েও দিয়েছেন। সব দপ্তরে নিজেরা নিজেদের লোক দিয়ে টেন্ডারবাজি করছে। বিনিময়ে ১০/১২ পার্সেন্ট হাতিয়ে নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টেন্ডারবাজি বন্ধের কথা বলায় ওই মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম আমাকে ফোন দিয়ে বলেছেন, আমি যেন এ বিষয়ে সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লিপটনের সঙ্গে কথা বলি। তার মানে তারা আমাকে টাকা দিতে চায়, আমি বলে দিয়েছি এটা রি-টেন্ডার হতে হবে।

মেয়র কাদের মির্জা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এরা মন্ত্রীত্ব পেয়ে দেশে লুটপাট করেছে। এসব কথা বললে আমাকে বলে পাগল, আমি নাকি উন্মাদ?

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান, সাধারণ সম্পাদক নুর নবী চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইস্কান্দার চৌধুরী বাবুল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি গোলাম ছরওয়ার, সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান মিন্টু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও চরপার্বতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম তানভীর, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন মুন্নাসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 17
    Shares