বৃহস্পতিবার, মে ১৩
শীর্ষ সংবাদ

নাসিরনগরে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু, জনমনে অনেক প্রশ্ন !

এখানে শেয়ার বোতাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া (নাসিরনগর ) : রোববার বেলা আড়াইটার দিকে গ্রেফতার হন বাবুল মিয়া (৫৫)। এর কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বাবুল উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের কৈয়ারপুর গ্রামের প্রয়াত লাল খাঁর ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মারা যাওয়া বাবুলের ভাতিজা ছত্তর অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার চাচাকে গ্রেফতার করার সময় বারবার জিজ্ঞেস করেছি তার নামে থানায় কোন মামলা আছে কিনা, তখন পুলিশ গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখাতে পারেনি। তাকে ছাড়ার জন্য পুলিশ ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ চেয়েছিল।’

তবে পুলিশের ভাষ্য, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। গ্রেফতারের পর সন্ধ্যায় বুকে ব্যথা অনুভব করেন বাবুল। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এদিকে স্বামীর মৃত্যুর পর বাবুলের স্ত্রী আছিয়া বেগম বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

স্থানীয় লোকজন ও মারা যাওয়া বাবুলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার ২টার দিকে উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের কোয়রপুর গ্রামের বাজারের একটি কাঠের দোকান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ৭টার দিকে মারা যান।

পুলিশ জানায়, বাবুলের নামে একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। পুলিশ ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে পূর্বভাগ ইউনিয়নের কোয়রপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় নেওয়ার পর বিকেল পৌনে ৬টার দিকে বুকে ব্যথা অনুভব করেন বাবুল। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ তাকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। মৃত্যুর পরে তার বুকের এক্স-রেও কারানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আএমও) শাহরিয়ার সোহেব জানান, হৃদরোগের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যেতেন পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নাসিরনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম আহমেদ বলেন, বাবুলের বিরুদ্ধে একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। সেই কাগজও আমাদের কাছে আছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানার আসামিকে ছাড়ার কোনো সুযোগ নেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে বাবুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তার মৃত্যুর বিষয়টি ও পুলিশ তাকে ছাড়ার জন্য পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবির যে অভিযোগ উঠেছে সে প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে বলতে পারব।


এখানে শেয়ার বোতাম