শনিবার, জানুয়ারি ২৩

নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা বন্ধে মহিলা ফোরামের সমাবেশ ও মিছিল

এখানে শেয়ার বোতাম

মাগুরা প্রতিনিধি:: আজ ২৪ আগস্ট নারী নির্যাতন প্রতিরোধ (ইয়াসমিন হত্যা) দিবসের ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের উদ্যোগে সকাল ১১ টায় চৌরঙ্গী মোড়ে মাগুরা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসু ।

সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন মাগুরা জেলা করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় গণকমিটির আহ্বায়ক এটিএম মহব্বত আলী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর মাগুরা জেলা সদস্য ভবতোষ বিশ্বাস জয়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর শহর কমিটির আহ্বায়ক মোঃ সোহেল ।

বক্তাগণ বলেন, দিনাজপুরের দিনমজুরের ১৪ বছরের মেয়ে ইয়াসমিন গৃহকর্মী হিসেবে ঢাকায় কাজ করতো। মায়ের অসুখের কথা জানতে পেরে ঢাকা থেকে বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ২৩ আগস্ট বিকালে বাসে ওঠে ইয়াসমিন । ভুল গাড়িতে উঠেছিল সে। রাত সাড়ে ৩টায় দিনাজপুরের উপজেলা দশমাইলে নামিয়ে দেয় বাসটি । ছোট বাসস্ট্যান্ডে কিছুক্ষণ পর টহল পুলিশের গাড়ি আসে। তারা বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ইয়াসমিনকে তুলে নেয় তাদের গাড়িতে । কিছুদূর যাওয়ার পর গণধর্ষণ করে নৃশংসভাবে হত্যা করে ইয়াসমিনকে, আর তার ক্ষতবিক্ষত লাশ পাশের জঙ্গলে ফেলে চলে যায় । পরদিন ইয়াসমিনের লাশ পেয়ে বিচারের দাবিতে জনতা পুলিশ ফাঁড়ি ঘেড়াও করে। পুলিশ গুলি চালায় জনতার মিছিলে । ৭ জন মানুষ প্রাণ দেন বোন হত্যার বিচারের দাবিতে । আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে । এই আন্দোলনের কারণে নতুন আইন প্রণীত হয়। আইনে ধর্ষক ও খুনি পুলিশের শাস্তি সুনির্দিষ্ট হয়। ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যাকারী পুলিশদের ফাঁসি কার্যকর হয় । জনতার আন্দোলনের বিজয় রচিত হয় । এরপর থেকে ২৪ আগস্ট নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে ।

বক্তাগণ আরও বলেন, ইয়াসমিন হত্যার পর কেটে গেছে ২৪টি বছর । নারীর প্রতি সহিংসতা বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে । এই করোনা মহামারির মধ্যে নারী নির্যাতন বেড়েছে ভয়াবহভাবে ; নারীকে নির্যাতনের ধরনও বেড়েছে । কেরানীগঞ্জে ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ১০ বছরের কন্যাশিশু ধর্ষণ, টাঙ্গাইলে
করোনা রোগী তল্লাশির নামে কিশোরী মেয়েকে অপহরণ করে গণধর্ষণ, ফেনীতে ফেসবুকে লাইভ করে স্ত্রীকে হত্যা, কক্সবাজারে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গরু চুরির অপবাদ দিয়ে মা ও মেয়েকে কোমড়ে দড়ি বেঁধে লাঞ্ছিত করা –কতভাবে যে নারীর প্রতি সহিংসতা ঘটানো হচ্ছে! কিন্তু অপরাধীরা বরাবরের মতোই পার পেয়ে যাচ্ছে বিচারের হাত থেকে । আর এই বিচারহীনতার রেওয়াজ দিন দিন নারী নির্যাতনকে বাড়িয়ে চলেছে । সাথে সাথে যুক্ত আছে নারীর প্রতি পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি । মাগুরায় সালিশ করে ধর্ষিতা কিশোরীর পরিবারকে জরিমানা করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার জরিমানার অর্থ দিতে পারেনি বলে তাদের বাড়িঘরের জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়েছে !! পরবর্তীতে লুটপাটের মালামাল উদ্ধার করলেও অবৈধ সালিশকারী ও লুটপাটকারীদের এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। এভাবে টাকা আর ক্ষমতার দাপটে অপরাধী পার পেয়ে যায় আর ভুক্তভোগীরা ভয়, আতঙ্ক আর অসহায়ভাবে দিনপাত করে। বাংলাদেশের জনগণকেই এই দুর্বিসহ অবস্থার পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে । নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস আমাদেরকে সেই শিক্ষাই দেয় ।

সমাবেশ থেকে নারী-শিশু নির্যাতক-ধর্ষক-হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান হয় ।


এখানে শেয়ার বোতাম