বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৪
শীর্ষ সংবাদ

নারী প্রেমে দেহতত্ত্ব জানুন

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 174
    Shares

সেলিনা আক্তার ::

আমরা নাটক সিনেমায় অনেক সময় দেখেছি বা শুনেছি যে গ্রাম বাংলার কোনো বাড়ির বউ, শ্বশুর বাড়ির গঞ্জনা, অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সাধু সন্ন্যাসীর সাথে চলে গেছেন। বৈরাগ্য ধারন করেছেন ।কিন্তু আমেরিকার ওয়াশিংটনে বসবাসকারী কোনো শিক্ষিত বাঙালি মেয়ে নিজের স্বামী, সন্তান ফেলে কোনো গুরুর সাথে চলে যায় এটাও একটা আশ্চর্যজনক ঘটনা । এটা একটা প্রশ্ন বটে। যেখানে ব্যক্তিগত ভাবে আমরা প্রত্যেক লেখক সহকর্মী কে জানি যে ভাই এবং উনি দু’জন অত্যন্ত ভালো মানুষ। নারীটির সাথে আমার দেখা না হলেও শুনেছি অতীব অতিথিপরায়ণ। অনেকেই বৌদির সমূহ প্রশংসা করেছেন।দাদার কাছ থেকে যতটা শুনেছি যে ওরা তন্ত্রমল্ত্র করে নিয়ে গেছে ।

কতটা ক্ষমতা এ তন্ত্রে মন্ত্র ? সে ইচ্ছে থেকেই কিছু জানার চেষ্টা ছিল। এটার চলে যাবার সূত্রের সাথে নারী মন ও শরীর আধুনিকতা ও দেহতত্ত্বের মর্মের সাথে একটা যোগ সূত্র জানাচ্ছি তবে এখানে এটাই যে কারণ তা বলছি না।আমি শুধু একটা কারণ এখানে ফোকাস করতে চাই।নারীকে বোঝা পড়া। আমার জ্ঞান বলে তাঁরা নারীকে যে পরিমাণ বুঝতে পারে অতি শিক্ষিত স্মার্ট পুরুষও তা পারেন না। আমি দেহতত্ত্ব নিয়ে একটা লেখা শুরু করেছিলাম কিছু দিন আগের এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই।তখন থেকেই ভাবছি আধুনিক সমাজের পুরুষজাতি যেন একটু নজর দেন নারীদেহ নারী মন বুঝতে।

আমার অনুসন্ধানে দেহতত্ত্ব আর লালনের দর্শণ দু’টোই গভীর ভাবে সামনে উঠে আসলো।আমি নিজেও অনেক কিছু জানতাম না। এ জানার মাঝে অনেক কিছু পেলাম। যার সাথে আগে কখনো এত গভীর চিন্তার যোগ হয়নি।এখানে জীবন দর্শনের খুব স্বাভাবিক একটা বিষয় আছে। নারীপুরুষ উভয়ের জানা উচিত।।নারীরা নিজেদের জানতে প্রায়ই ভুল করে।আমাদের তৃতীয় বিশ্বে এখনো নারীরা সমাজে অবলা বলে পরিচিত। তাই বোধ করি তাঁরা নিজেরা নিজেদের ক্ষমতা টুকু বুঝতে পারে না। নিজেরাই নিজেকে সম্মান করে না। কিন্তু দেহতত্ত্বের ভাষা অনুযায়ী নারী তাঁদের কাছে পরমপূজনীয় এক বিষয়।সৃষ্টির দরজা হচ্ছে নারীদেহের যৌনাঙ্গ।তাই দেহতত্ত্ব গুরু জ্ঞানে এদের কাছে নারী মানে পরম পূজনীয় স্রষ্টার মিলন।

আমাদের স্বল্প জ্ঞান বা অজ্ঞতা হয়তো আপাত দৃষ্টিতে একে যৌনতা বলেই চিহ্নিত করে বা নারীদেহ ভোগের বাসনা।তবে কেউ কেউ যে ভোগের বাসনা চরিতার্থ করে না তা নয়। গুরু সাধুর সামান্য জ্ঞানের পানি পান করে ভন্ড লম্পটরা নিজের বিবি ঘরে থাকার পরও অন্য নারী কাউকে যে তাঁদের সাধনার ধন ভাবতে শুরু করে তা মিথ্যে নয়। সে জন্য নারীদেরকে অবশ্যই সাবধান থাকতে হব।

আমি পড়ে এবং দু’একজন সাধু সন্যাসী ধরনের মানুষের সাথে কথা বলে যতটা বুঝলাম তাঁরা এ জন্য কাউকে জোরাজুরি করেন না। তাঁদের ভাষায় আছে পরম মমতা, স্নেহ, শ্রদ্ধা যা অতি শিক্ষিতা সর্বগুণ সমপন্না থেকে শুরু করে সব নারীর কাম্য।প্রেম ভিত্তিই সাধনা । তবে মেয়েদের কাছে প্রেম নিবেদনের অসাধারণ ক্ষমতা তাঁদের আছে। খুব শক্ত ধাঁচের মেয়ে ছাড়া তা অগ্রাহ্য করা কঠিন।একে জোরাজুরিও বলা যায় না।

প্যারিস বসবাসরত এক উঠতি গুরু ভক্তের সাথে আমি একদিন কথাও বললাম। সে পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত সাধক। দু’তিন দিন দু’চারটা প্রশ্নের জবাব দিয়েছিল পরে একদিন ভিডিও কলে দীর্ঘ আলাপ হলো।অনেক কিছু তাঁর কাছ থেকে জানতে পারলাম বই পড়ে যে সব প্রশ্ন মাথায় এসেছে সে সব জবাব দিয়েছে। ।আমি কথা বলে বুঝলাম প্রেম , শরীর এ জিনিসগুলো তাঁরা কী ভাবে দেখে? কেন একজন নারী সব ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়? আমার সবচেয়ে আশ্চর্য লেগেছে যে নারীদেহকে সাধনার অংশ হিসেবে তাঁরা তখন নেয় যখন নারীদেহ ঋতুচক্রের মধ্যে অবস্থান করে।

এ সময়টা তঁরা নারীকে প্রচন্ড শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা আচার আচরণে দেখেন । যাকে তারা ভক্তি বলছেন। ভক্তি কে না ভালোবাসে? প্রেম সাধনা কাম সাধনার মোক্ষম এ অস্ত্র তাঁরা ব্যবহার করেন তখন যখন নারী দেহমন একেবারে ভঙ্গুর যাকে ইংরেজীতে বলে fragile । অবশ্য পরিপূর্ণ মিলন ঋতুচক্রের পরেই ঘটে।এ ভঙ্গুরতা রক্ষার জন্য এ প্রেম এ ভক্তি যে সব পুরুষ জানে তাঁরা নারী দেহ জানে।তাঁরা নারীকে ঘর থেকে বের করে নেয়ার ক্ষমতা তো রাখে।

এটা অজ্ঞতায় ঢাকা থাকলে বিপদ আসা স্বাভাবিক। পুরুষকে সতর্ক থাকতে হবে। জানতে হবে নারীকে। অথচ এ সময়টাতে খুব ভাগ্যবান দু’চারজন নববিবাহিতা নারী হয়তো স্বামীর প্রেম ভালোবাসা অতিরিক্ত পান নতুবা দেখা যায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শারীরিক মিলনে সময়টা অনুকূল নয় বলে পুরুষরা একশ হাত দূরে থাকেন। ধর্মের দোহাই গুনাহ মনে করে দূরে থাকেন । কিন্তু এ সময়টাতে নারীদেহ মনে প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে যৌন চাহিদা তৈরী হতে থাকে সবচেয়ে বেশি। মনের মিলটাই মানুষের তীব্র আনন্দের স্থান ।নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেও তার বিপরীতে কিঞ্চিৎ শারীরিক অসুবিধা হলেও হতে পারে তবে তা মানসিক সে যন্ত্রনার চেয়ে নগন্য।এটাও সত্য নারী মনের ওপর জোর খাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় যৌনতা যখন সুখের নয় তখন এ অবস্থায় তা অবশ্যই বিপদজনক হবে।চন্দ্রের প্রভাবে চাঁদনী যেমন ভর করে তেমন অমাবশ্যার আঁধারে করে।

এই ঋতুচক্রের মেয়েদের মন উদাস থাকে,মেজাজ খিঁটখিটা থাকে। নানা রকম হরমোনাল ক্যামিক্যাল পরিবর্তন ঘটে ।শারীরিক ব্যথা বেদনা থেকে শুরু করে মন মানসিকতা সব বদলে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে মুড সুইং হয়। মনোবিজ্ঞান মন খারাপের কারণ সনাক্ত করলেও তার স্বাস্থগত যে সব সমাধান তা আসলে খুব ঠুনকো। ব্যথা বেদনার ঔষধ সেবন করা, ভালো কিছু দর্শন ।একজন নারী হিসেবে আমি এগুলো খুব তুচ্ছ সমাধান হিসেবেই গণ্য করছি।

কোনো নারী সঙ্গিহীন থাকলে কখনোই সমস্যা হয় না কিন্তু প্রতিমাসে এই একটা সময় পার করা একাকী খুব কঠিন। শক্ত ধাঁচের হলেও তার মাঝে ভেঙ্গে চূর্ণ হওয়ার মত সম্ভাবনা থাকে সবচেয়ে বেশি। দেহমন সমান হারে ভরসা,ভালোবাসা কামনা করে। ব্যাপারটা সব নারী হয়তো বুঝতেও পারেন না। কিন্তু এ সময় স্বামীর মনোযোগ পান খুব কম রমনী। বরং তখনই ঝগড়া ঝাটি হয় বেশি। কারণ স্ত্রীরা ভালো মেজাজে কথা বলেন না। এই আধুনিক যুগেও ধর্মের দোহাই দিয়ে হিন্দু মুসলিম দু’ ধর্মের পুরুষই আছেন যাঁরা আলাদা বিছানা পর্যন্ত ব্যবহার করেন। গুরুরা বেছে নেন এ সময় টা কারণ তাঁরা বলছেন এ সময়টা মেয়েদের ঋতুচক্রের মাধ্যমে সৃষ্টির দরজা উন্মুক্ত হয়। সন্তান জন্মের উপযুক্ত হয়।তা ছাড়া তাঁদের কথায় নারীর প্রতি অসীম শ্রদ্ধা লক্ষ্য করা যায় ,যা যে কোনো নারীকে মোহিত করে।

এই পৃথিবীতে আমরা সমাজ বদ্ধ পরিবার বদ্ধ হয়ে বাস করলেও প্রতিটি মানুষ স্বতন্ত্র । চাওয়া পাওয়া প্রেম,ভালোবাসার মাঝেএকটা নিজেস্ব গতি থাকে। নিজের মনেই আমরা আমাদের চিন্তায় এক ছবি আঁকি অন্য একজন কে নিয়ে । সে টা একান্তআমাদের নিজের । কিন্তু সে মানুষের আসল ছবি যখন সামনে আসে তখনই তা আলাদা হয়ে যায়।কেউ কাছে আসে কেউ যায় দূরে।

সেলিনা আক্তার :: কবি, লেখক ও প্রবাসী সাংবাদিক


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 174
    Shares