শনিবার, মার্চ ৬
শীর্ষ সংবাদ

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে বগুড়ার মহিলা ফোরামের সমাবেশ

এখানে শেয়ার বোতাম

বগুড়া প্রতিনিধি :: আজ (২৪ আগস্ট) নারী নির্যাতন প্রতিরোধ (ইয়াসমিন হত্যা) দিবস উপলক্ষে সারাদেশে নারী-শিশু ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বেলা ১২টায় বগুড়ার সাতমাথায় সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা আহ্বায়ক দিলরুবা নূরী।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা আহ্বায়ক অ্যাড: সাইফুল ইসলাম পল্টু, নারী নেত্রী কানিজ রেজা, থিয়েটার আইডিয়ার পরিচালক নিভা রানী পূর্ণিমা, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা সদস্য রেনু বালা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বগুড়া জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তা আক্তার মীম, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শিশির, মহিলা ফোরামের সংগঠক রিতু, পূজা, রুপালী প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে দিলরুবা নূরী বলেন, “ ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার পর কেটে গেছে ২৪ বছর। নারী নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা তো কমেইনি বরং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সারাদেশে নারী-শিশু ধর্ষণ-যৌননিপীড়ন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এ সরকারের প্রথম ১০০ দিনেই ৩৯৬ জন নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একটি ঘটনা বর্বতায়-বিভৎসতায় আগেরটিকে ছাপিয়ে যায়। সমতলে-পাহাড়ে, ঘরে-বাইরে, পথে-গণপরিবহনে, কর্মক্ষেত্রে-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের এমন কোন স্থান নেই, যেখানে নারী-শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হন না। ধর্ষণের ক্ষেত্রে নারীর বয়সও যেন কোন বিষয় নয়; ৬ সন্তানের জননী, ৬০ বছরের বৃদ্ধা কিংবা ৬ বছর বয়সের কন্যা শিশু যে কেউই ধর্ষিত হতে পারেন। নারী-শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন। ইয়াসমিন ধর্ষণ-হত্যার বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন আমাদের সেই শিক্ষা দেয়।” তাই তিনি নারী-শিশু ধর্ষণ-নিযাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোল গেেড় তোলার আহ্বান জানান।

অ্যাড: সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, “প্রকৃতপক্ষে যত ধর্ষণের ঘটনা ঘটে তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মামলা হয়না। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছে তার মাত্র ৩ শতাংশের সাজা হয়েছে। একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে; যদি বিচার হত, ধর্ষক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেত, তাহলে ধর্ষকরা ভয় পেত; সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হতো। বিচারহীনতার ক্ষেত্রে একটি বড় কারণ ক্ষমতা কেন্দ্রীক লুটপাটের রাজনীতি। মাদক, পর্ণোগ্রাফি, নারী-শিশু পাচার-নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা এসব অপরাধমূলক ঘটনার সাথে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নেত-কর্মীরা যুক্ত। আর এসবের কারণে নারীর প্রতি অসভ্য-বর্বর, ভোগ্য মানসিকতা গড়ে উঠেছে; যার কারণে ধর্ষণ প্রবণতা বাড়ছে। তাই প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ।”

অন্যান্য বক্তারা বলেন, “২৪ বছর আগে ইয়াসমিন পুলিশ কর্তৃক গণধর্ষণের শিকার হয়েছিল, গণ আন্দোলনের ফলে বিচার হয়েছিল, ২০০৪ সালে অপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল। ঐ বিচার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল, আজও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে এই গণ আন্দোলন প্রয়োজন। নেতৃবৃন্দ গণ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম