মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪

নারী নির্যাতনকে রাজনীতিকরণের অপচেষ্টা করছে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 7
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: বিএনপি নারী নির্যাতনের ঘটনাকে রাজনীতিকরণের অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘ধর্ষকরা কোনও দলের নয়, তারা দুষ্কৃতকারী। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালালেও সরকার তাদের দুষ্কৃতকারী হিসেবেই দেখছে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে বদ্ধপরিকর।’

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে ‘ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার’-এর নেতাদের সঙ্গে সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের সভাপতি রেজওয়ানুল হক রাজা, সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, রাশেদ আহমেদ, মানস ঘোষ, মামুনুর রহমান খান, হারুন তালুকদার প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকরা নোয়াখালীতে নারী নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে বিএনপি নেতাদের বিভিন্ন মন্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নারী নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে রাজনীতির অপচেষ্টা ঠিক নয়। ধর্ষকরা কোনও দলের নয়। নোয়াখালীতে যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল, তারা কোনও দলের না, সবাই দুষ্কৃতকারী। দুষ্কৃতকারীরা কোনও দলীয় পরিচয় ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালালেও সরকার তাদের দুষ্কৃতকারী হিসেবেই দেখছে। প্রত্যেকটি ঘটনার বিচার হচ্ছে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি আট বছরের শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, এমনকি নৌকায় ভোট দেওয়ার অপরাধে পুরো গ্রাম অবরুদ্ধ করে নারী ও শিশুদের ধর্ষণ করেছে। ক্ষমতায় থাকলেও বিএনপি দলীয় এই অপকর্মগুলোর বিরুদ্ধে সরকার বা দলের পক্ষ থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই দলের মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন এ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তার আগে তার চেহারাটা আয়নায় দেখা প্রয়োজন।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আরেক মন্তব্য- ‘দেশের অর্থনীতিও ভেঙে পড়ছে’-এর জবাবে মন্ত্রী তাকে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক মনোযোগ দিয়ে পড়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘তিনি ঢাকা কলেজের অধ্যাপক ছিলেন, তাই তাকে এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এ বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে রফতানি আয় হয়েছে ৯.৯ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের এ সময়ের তুলনায় ২.৫৮% বেশি। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ৬.৭১ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৪৮.৫% বেশি।

অনেকে বলেছিলেন বিদেশ থেকে লাখ লাখ কর্মী ফেরত আসবে, অথচ এখন বৈধ কাগজপত্রসহ বিদেশে যাওয়ার জন্য বরং বিক্ষোভ হচ্ছে। ফেরত যাওয়ার প্লেনের টিকিটের জন্য হাহাকার পড়ে গেছে।

এছাড়া এই করোনাকালেও জুলাই থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে রাজস্ব আয় গত বছরের তুলনায় ০.১৬% বেড়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ (বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতি) ছিল ৩৯.৩১ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের রিজার্ভ ৩১.৮ বিলিয়ন ডলার থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন বেশি। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে এ বছর ২০২০ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৫.২%-এর বেশি, যা চীনে ১.৮% ও এশিয়ার বেশিরভাগ দেশে ঋণাত্মক। করোনাকালেও আমাদের এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভবপর হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্ব, সময়োচিত পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়ার কারণেই।’

করোনা মহামারির বৈশ্বিক দুর্যোগের সময় সাংবাদিকদের সাহসিকতার সঙ্গে কাজের প্রশংসা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কাজ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে দুঃখজনকভাবে মৃত্যুবরণও করেছেন। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করি। দেশে সাধারণ ছুটির সময়ও সাংবাদিকদের ছুটি ছিল না, আমারও ছিল না যেহেতু আমি আপনাদের সঙ্গে কাজ করি। প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিষয়টি বিবেচনা করে বিশেষ প্রণোদনারও ব্যবস্থা করেছেন। মহামারির সময় সীমিত সামর্থ্য থাকলেও দুঃখ ভাগাভাগির মনোবৃত্তি থাকলে গণমাধ্যমে চাকরিচ্যুতি হবে না।’

‘গণমাধ্যমকর্মী আইন’ সম্পর্কে সর্বশেষ খবর জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় এটি ভেটিং করে ফেলেছে।’ টেলিভিশন চ্যানেলগুলো পে-চ্যানেল হবে কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কেউ পে-চ্যানেল হবে কিনা, সেটি সেই টেলিভিশনকেই নির্ধারণ করতে হবে, সরকার নির্ধারণ করে দেবে না।’


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 7
    Shares