রবিবার, নভেম্বর ২৯

নারী ধর্ষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলুন : বাসদ

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 52
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক:: নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা প্রতিরোধ করতে গেলে সমাজে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের জাগরণ ঘটাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। আজ রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে এগারটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল পূর্বে সমাবেশে এই মন্তব্য করেন বাসদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, বাসদ কেন্দ্রীয় বর্ধিত পাঠচক্র ফোরামের সদস্য কমরেড নিখিল দাস, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আহবান হাবিব বুলবুল, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের কেন্দ্রীয় নেতা আল কাদেরী জয়, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ঢাকা নগর কমিটির সদস্য রোখসানা আফরোজ আশা।

সমাবেশ পরিচালনা করে বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য সচিব জুলফিকার আলী।

সমাবেশে বক্তাগণ দেশব্যাপী ক্রমবর্ধমান নারী ও শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যাকান্ডের ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি ঘটনার বিভৎসতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে আর একটি ঘটনা। দেশের প্রায় প্রতিটি নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ ও হত্যাকান্ড ক্ষমতাসীন দলের সাথে সম্পৃক্ত অথবা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সংগঠিত হচ্ছে। নারীর উপর সহিংসতা ও ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজীর খুব একটা নেই। ফলে বিচারহীনতার বিষয়টি এখন সমাজে গেড়ে বসেছে। শাসকদের প্রশ্রয় ও বিচারহীনতার ফলে ধর্ষকরা বেপরোয় হয়ে পড়ছে।

বক্তাগণ বলেন, নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণের ঘটনা সমাজে প্রতি বছর বেড়েই চলছে। ২০১৮ সালে ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ৭০০টি তা ২০১৯ সালে বেড়ে ১৪০০টি হয়েছে। এর মধ্যে ৭০% দরিদ্র নারী, যারা বিচার চাইতে পারে না। ২০২০ সালে এ পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনা ১০০০ ছাড়িয়েছে। কিন্তু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যার বিপরীতে বিচারের ও শাস্তির পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে এর ভয়াবহতা আরো প্রকট রূপে প্রকাশ পায়। ২০০১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যার যতগুলো মামলা হয়েছে তার মধ্যে বিচার হয়েছে মাত্র ৩.৫৭%। আর শাস্তি হয়েছে মাত্র ০.৩৭%। অর্থাৎ শাস্তির বাইরে থেকে যাচ্ছে ৯৯.৬৩%।

বক্তাগণ বলেন, নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা প্রতিরোধ করতে গেলে সমাজে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের জাগরণ ঘটাতে হবে। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের ভোটের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে প্রশাসন ও দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে দিনের ভোট রাতে সীল মেরে গায়ের জোরে ক্ষমতায় বসে আছে। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ যেমন অপরাধ, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, ভোটাধিকার হরণ আরো বড় অপরাধ। সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অনৈতিকতার উপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে। তাদের দলের নেতা-কর্মীরাই আজ সারাদেশে নির্যাতন-ধর্ষণের সাথে যুক্ত এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এসব ঘটনা ঘটছে। ফলে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে দেশব্যাপী ধর্ষণ-নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে। মানুষের ভোটের অধিকার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বক্তাগণ সকল ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত; বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা দূর; পুলিশ নয় বিচার বিভাগীয় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ধর্ষণের তদন্ত করা; বিচারের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা; ধর্ষিতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত; মামলার শুনানীকালে জেরার নামে ধর্ষিতাকে পুনরায় নির্যাতন না করা; ধর্ষণের প্রমাণের জন্য ডিএনএ টেস্ট এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা; বিজ্ঞাপনে, নাটকে, সিনেমায় নারী দেহের প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে; ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিলে নারীর প্রতি কটুক্তি ও অশ্লীল মন্তব্য নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে আইন করার এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বক্তাগণ বলেন, এই পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী সমাজের সর্বস্তরের জনগণ, বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি ও ব্যক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে এবং ধর্ষণ-নির্যাতন এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্যও সবার প্রতি আহ্বান জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 52
    Shares